লক্ষ্মীর ভান্ডার, কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অনুদান পেয়েও যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন করা যাবে কি? আবেদনপত্র বাতিল হওয়ার আগে সঠিক নিয়ম জেনে নিন!

২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগেই ২০২৬ এর রাজ্যের বাজেট ঘোষণার সময় রাজ্য সরকারের তরফ থেকে রাজ্যের বেকার যুবক যুবতীদের জন্য যুব সাথী প্রকল্প নামক একটি প্রকল্পের সূচনা করার কথা ঘোষণা করা হয়। যদিও প্রথমদিকে ১৫ আগস্ট থেকে এই প্রকল্পের অনুদান দেওয়া শুরু হবে বলে শোনা গিয়েছিল তবে, পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১ এপ্রিল ২০২৬ অর্থাৎ চার মাস আগে থেকেই যুব সাথী প্রকল্পের অনুদান দেওয়া শুরু হবে। আর তার জন্যই সম্প্রতি চলছে যুব সাথী প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া। এই প্রকল্প নিয়ে আবেদনকারীরা কি জানাচ্ছেন? প্রকল্পের অনুদান পাওয়াতে কতটা সন্তুষ্ট তারা? জেনে নেওয়া যাক, আবেদনকারীদের বক্তব্য।

যুব সাথী প্রকল্পের আবেদন পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্যই জেলায় জেলায় বসেছে বিশেষ শিবির। এই বিশেষ শিবির গুলোতে নথিপত্র নিয়ে এসে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে এবং রেজিস্ট্রেশন করতে হবে আর তারপরেই আবেদনপত্র এখানে এসেই জমা দিতে হবে আবেদনকারীদের। যুব সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক মাসে গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে ১৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হবে। 

প্রত্যেকটি জেলার দুয়ারে সরকারের এই শিবিরগুলোতে প্রথম দিন থেকে প্রচুর লাইন হয়েছে। সকাল থেকেই আবেদনকারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আবেদনকারীদের বেকার ভাতা নেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করায় তাদের একাধিক জন বক্তব্য রেখেছেন, সরকারের তরফ থেকে কোন কর্মসংস্থান যেহেতু নেই, তাই সরকারের পক্ষ থেকে যেহেতু বেকার ভাতা দেওয়া হচ্ছে, আপাতত সেই সরকারি সাহায্যটুকুই গ্রহণ করা দরকার। তবে কর্মসংস্থান হলে আরো অনেক খুশি হতাম। অনেকেই বলেছেন, অর্থের জন্য এই জমি ওই জমিতে চাষ করি বা ছোটখাটো দোকানে কাজ করি, সেখানে সরকারের তরফ থেকে যদি প্রত্যেক মাসে ১৫০০ টাকা করে পাওয়া যায় তাহলে সাংসারিক খরচের কিছুটা হলেও সুরাহা হবে। প্রত্যেকের কথার বক্তব্য একটাই বেকার ভাতা দেওয়াতে তারা আপাতত সন্তুষ্ট তবে কর্মসংস্থান হলে সবথেকে খুশি হবে এই আবেদনকারীরা।

আরোও পড়ুন: কৃষক বন্ধু প্রকল্পে নাম থাকলে যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন কি? আবেদনপত্র বাতিল হওয়ার আগে সঠিক নিয়মকানুন জেনে নিন!

১৫ ই ফেব্রুয়ারি থেকে যুব সাথী প্রকল্পের আবেদন নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ক্যাম্প তৈরি হয়েছে জেলায় জেলায় এবং এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ২৬ শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিটি ক্যাম্পে চারজন করে আধিকারিক থাকবেন এবং তারাই এই প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন ভাবে সংগঠিত করবেন। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী মাধ্যমিক উত্তির্ন হয়ে থাকলে এবং কোন জায়গায় কর্মসংস্থানের সাথে জড়িত না থাকলে অর্থাৎ বেকার হয়ে থাকলে প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। সরকারি অন্যান্য প্রকল্পে যদি অনুদান পেয়ে থাকেন তাহলে এই প্রকল্পে আবেদন করা যাবে না তবে এই শিবিরেই নতুন করে লক্ষীর ভান্ডার ও কৃষক বন্ধু প্রকল্পের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য যে সমস্ত নথি লাগবে সেগুলো হলো আধার কার্ড, মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষার এডমিট কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রমাণপত্র সহ ছবি ও অন্যান্য নথি। 

প্রথমে প্রকল্পের জন্য রেজিস্ট্রেশন করা হবে এবং তারপর নথি যাচাই করা হবে। এরপর আবেদনপত্র নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট আপলোড করা হবে। এরপরে যাচাই করণ করা হবে এবং যারা এই প্রকল্পের জন্য সঠিক উপভোক্তা তাদেরকেই এই প্রকল্পে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যোগ্য উপভোক্তাদের ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংক একাউন্টে ১৫০০ টাকা করে ঢুকবে। 

যদিও বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বাজেট পেশের সময় যুব সাথী প্রকল্পের মতন এমন একটি প্রকল্পকে সামনে নিয়ে আসা হয়, এই প্রকল্পের সূচনা করার পিছনে রাজনৈতিক কারণ দেখতে পাচ্ছেন বিরোধী দলের নেতারা। তাদের মনে হয় ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের জয়লাভ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্পকে সামনে আনা হয়েছে। যদিও যুব সাথী প্রকল্প নিয়ে রাজ্যে এখন জোর জল্পনা চলছে। বেকার যুবক যুবতীদের রাজ্য সরকারের দেওয়া এই অনুদান আপাতত অনেকটাই আর্থিক সহায়তা দেবে বলে মনে করছেন বেকার যুবক যুবতীরা। তবে প্রত্যেক বেকার যুবক যুবতীদের একটাই আবেদন রাজ্য সরকারের কাছে পাকাপাকি ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া।

Join Group Join Group