দুবার বাতিল লক্ষ্মীর ভান্ডারের আবেদন, শেষ পর্যন্ত যুব সাথী প্রকল্পের লাইনে চুঁচুড়ার এমএ পাস যুবতী! জানুন বিস্তারিত।

বিয়ের পর টাইটেল পরিবর্তন করার ফলে রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে দুইবার আবেদনের পর আবেদন বাতিল হয়ে যায়। অতঃপর সম্প্রতি ঘোষণা করা রাজ্য সরকারের যুব সাথী প্রকল্পের লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায় চুঁচুড়ার তানিয়া মন্ডলকে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে পোস্ট গ্রাজুয়েশন। কিন্তু দুইবার আবেদনের পর কেন লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের অনুদান থেকে বঞ্চিত হলেন তিনি? কি ঘটনা রয়েছে? জেনে নেওয়া যাক এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

তানিয়া মন্ডল এর বিয়ের পর পদবী বদল হয়ে হয়  তানিয়া দাস। কিন্তু তার মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং গ্রাজুয়েট ও পোস্ট গ্রাজুয়েট সমস্ত সার্টিফিকেট এবং রেজাল্টে বিয়ের আগের পদ্ধতি ছিল। কিন্তু বিয়ের পর পদবি চেঞ্জ হওয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা পাসবুকে শ্বশুরবাড়ির পদবী দেওয়া হয়ে থাকে। এরপর তিনি যখন লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে প্রথমবার আবেদন করেন কিন্তু সেই আবেদন গণ্য করা হয় না বলে অনুদান থেকে বঞ্চিত হন। দ্বিতীয়বার লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন করলেও সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয় দুই রকম পদবী থাকার বিভ্রাট জনিত কারণে। এরপর তিনি এক প্রকার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। ২০২৬ এর বাজেট ঘোষণার সময় যখন রাজ্য সরকার যুব সাথী প্রকল্পের ঘোষণা করেন, তারপর তিনি আবার নতুন করে আশায় বুক বেঁধে যুব সাথী প্রকল্পের লাইনে দাঁড়ান। যদিও তার মনের মধ্যে পদবী বিভ্রাট জনিত অতীত অভিজ্ঞতা মনে ভয় ধরিয়েছিল, যে এবারও হয়তো তিনি যুব সাথী প্রকল্পের অনুদান থেকে বঞ্চিত হবেন। তবে জানা যাচ্ছে, চুঁচুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যানের আশ্বাসের অনেকটাই আশা রয়েছে এই প্রকল্পের আবেদন খারিজ হওয়া না নিয়ে। 

চুঁচুড়ার তানিয়া মন্ডল হুগলির মহসিন কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেছেন। এখনো পর্যন্ত তিনি চাকরি পাননি। হিন্দু মেয়েদের সাধারণত বিয়ের পর পদবী চেঞ্জ হয় আর তার জন্য এসআইআর প্রক্রিয়ায় এই পদবী বিভ্রাট কারণ দেখিয়ে অনেকের বাড়িতে হেয়ারিংয়ের জন্য ডাক পাঠানো হয়েছিল। যেহেতু বিয়ের আগের এক টাইটেল এবং বিয়ের পরে অন্য টাইটেল থাকার জন্য নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য হেয়ারিং এ দেখে পাঠানো হয়। এই বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তবে টাইটেল পরিবর্তনের জন্য দুইবার লক্ষ্মীর ভান্ডারের আবেদন পত্র বাতিল হয়ে যাবার মতন ঘটনা প্রথম ঘটলো। 

আরোও পড়ুন: ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা কবে থেকে ঢুকবে! কিভাবে স্ট্যাটাস চেক করবেন? জেনে নিন বিস্তারিত।

চুঁচুড়ার তানিয়া মন্ডল জানিয়েছেন, লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে আবেদনের বয়স শুরু হচ্ছে ২৫ থেকে এবং ৬০ বছর পর্যন্ত দেওয়া হয়ে থাকে। অন্যদিকে ৬০ বছর পর সেটি বার্ধক্য ভাতায় পরিবর্তন হয়ে যায়। অতএব একজন মহিলা ২৫ থেকে তার শেষ জীবন পর্যন্ত সরকারি অনুদানের সুবিধা পেতে থাকবেন। কিন্তু যুব সাথী প্রকল্পের আবেদনের বয়স হচ্ছে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং এই অনুদান দেওয়া হবে পাঁচ বছরের জন্য। সেক্ষেত্রে তানিয়া মন্ডলের মতে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের আবেদন গ্রান্টেড হলেই বেশি ভালো হতো কারণ বর্তমানের অনুদানের পরিমাণ অনুযায়ী প্রত্যেক মাসে ১৫০০ টাকা করে সারা জীবন নিরবিচ্ছিন্ন আর্থিক সহায়তা অনেকটাই আর্থিক প্রয়োজন মেটাতো। তবে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের আবেদন বাতিল হওয়াতে নিতান্তই কোন উপায় না পেয়ে যুব সাথী প্রকল্পের লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে তানিয়া মন্ডলকে। তবে প্রত্যেকের মতন তিনিও জানান চাকরি হলে সবথেকে ভালো হতো তবে চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন চাকরির ফর্ম ফিলাপ থেকে শুরু করে অন্যান্য খরচের জন্য বছরে 18 হাজার টাকা নিতান্ত কম নয়। এর জন্যই দুইবার লক্ষ্মীর ভান্ডারে আবেদন বাতিল হওয়ার পরও অনেক আশা নিয়ে শেষ পর্যন্ত যুব সাথী প্রকল্পে আবেদনের জন্য দাঁড়িয়েছেন চুঁচুড়ার এমএ পাস যুবতী।

Join Group Join Group