বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ যদিও বা এখনও ঘোষণা করা হয়নি তবে সম্প্রতি সূচনা করা যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পাঠানো শুরু হয়ে গিয়েছে ৮ই মার্চ থেকে। যুবসাথী প্রকল্পের অনেক উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে ইতিমধ্যে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা ঢুকে গেছে। কিন্তু টাকা পাঠানোর পর দেখা গিয়েছে যে সমস্ত উপভোক্তা অন্য সরকারি প্রকল্পের অনুদান পেয়ে থাকেন তারাও যুবসাথী প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলেন এবং তাদের একাউন্টে ইতিমধ্যে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা ঢুকে গেছে। যদিও বারবার করে রাজ্য সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল যে, যে সমস্ত ব্যক্তি অন্য সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা পেয়ে থাকে এবং যারা চাকরির সাথে যুক্ত তারা যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না। কিন্তু এই তথ্য দেওয়ার পরেও অনেকেই যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করেছেন এবং তাদের একাউন্টে মধ্যে টাকা ঢুকে গেছে যার ফলে সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
যদিও আবেদনপত্র পূরণ করার সময় একটি অপশন ছিল যেখানে বলা হয়েছিল অন্য কোন সরকারি পরিষেবা পান নাকি পান না কিন্তু প্রত্যেক আবেদনকারী না অপশনটি নির্বাচন করেন। এরপরে প্রাথমিক বাছাই ও যাচাই পর্বের পর সমস্ত আবেদন অনুমোদন দিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে এখন দ্বিতীয় যাচাই পর্বের পর দেখা যাচ্ছে এক একটি ব্যক্তি দুটো করে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে।
সব থেকে বড় কথা রাজ্য সরকার বারংবার বলে দিয়েছিলেন যে অন্য কোন সরকারি পরিষেবা পেয়ে থাকলে কেউ যদি তবুও যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করে এবং সেটা যদি প্রমাণযোগ্য হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু এরকম ঘটনা এই প্রথম নয়। এই ঘটনা পুনরাবৃত্তি এর আগেও ঘটেছে। যে সমস্ত উপভোক্তা বার্ধক্য ভাতা পেতেন তাদের মৃত্যুর পর পরিবার কোনরকম তথ্য জানাননি, যার ফলে বার্ধক্য ভাতা সুবিধা পরিবারের লোকজন উপভোগ করছেন এছাড়া কৃষক বন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তার মৃত্যুর পরেও কোনরকম তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যার ফলে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা ও পেয়ে যাচ্ছেন পরিবারের লোকজন। তবে এরকম ঘটনা প্রকাশ্যে এলে তাদের টাকা চিরতরের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং প্রকল্প থেকে নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ এখনো পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। কিন্তু যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে এরকম ঘটনা ঘটায়, কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে যার জন্য কড়া ভাবে ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে। এজন্য যেসব ব্যক্তিরা অন্য কোন সরকারি সুবিধা পান না বা চাকরির সাথে যুক্ত নয় তাদের কোন ভয়ের কারণ নেই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই অনুদান পৌঁছে যাবে কিন্তু যারা মিথ্যে বলে যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করেছেন তাদের টাকা একাউন্টে ঢুকবে না।
যারা এখনো পর্যন্ত যুবসাথী প্রকল্পে টাকা পাননি তারা কি করবেন?
যদিও ৮ই মার্চ থেকে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা আবেদনকারীদের ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি পাঠানো শুরু হয়ে গিয়েছে তবে এখনো পর্যন্ত বেশিরভাগ উপভোক্তা টাকা পাননি। তারা ফর্মের স্থিতি বা অনুমোদন নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তায় রয়েছেন। তারা কবে নাগাদ টাকা পাবেন কিভাবে জানবেন জেনে নিন বিস্তারিত:
যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করেছেন প্রায় ৮৪ লক্ষের মতন ব্যক্তি। আবেদনকারী সংখ্যা এতটাই বেশি যে এত সংখ্যক ব্যক্তির নথিপত্র যাচাই এবং ব্যাংক একাউন্ট ভেরিফিকেশন করা অনেকটাই সময়সাপেক্ষ ও জটিল ব্যাপার। এইজন্য সকল উপভোক্তার ব্যাংক একাউন্টে একই দিনে টাকা ট্রান্সফার করা হবে না। ধীরে ধীরে যাচাই পর্ব অনুযায়ী টাকা পাঠানো হবে। বিশেষ করে যারা অনলাইনে আবেদন করেছিলেন তাদের আগের থেকে যেহেতু তথ্যগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে আপলোড করা রয়েছে তাই ভেরিফিকেশন পর্ব কিছুটা সুবিধাজনক হয়েছে, তার জন্য তাদের একাউন্টে আগে টাকা দেওয়া হয়েছে। অফলাইনে যেহেতু আবেদনকারী সংখ্যা অনেকটাই এছাড়া নতুন করে ডিজিটালে নথি আপলোড করতে হচ্ছে এবং ভেরিফিকেশন করতে হচ্ছে তাই তথ্যগুলি ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের কম্পিউটারে তুলতে একটু সময় লাগছে সেজন্যই অফলাইন আবেদনকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট একটু দেরি করে টাকা ঢুকবে।
অন্যদিকে, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া খুব জোরদার ভাবে করা হচ্ছে। যাতে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যেই আবেদনকারীদের বয়স থাকে এবং দেখা হচ্ছে আবেদনকারীরা অন্য কোন সরকারি পরিষেবা সাথে যুক্ত রয়েছে কিনা। এই সমস্ত তথ্য যাচাই করে টাকা পাঠানো হচ্ছে।
তবে বেশ কিছু উপভোক্তার আবেদন বাতিল হতে পারে তার কারণ যদি বয়স নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হয়ে থাকে, অন্য কোন সরকারি পরিষেবা যদি পেয়ে থাকেন বা আধার জনিত কোন তথ্য ভুল থাকলে।
স্ট্যাটাস কিভাবে চেক করবেন?
যুবসাথী প্রকল্পের উপভোক্তাদের স্ট্যাটাস চেক করার সুবিধার জন্য অনলাইন পোর্টালে এখন ট্রাকিং অপশন চালু করা হয়েছে। আবেদনকারীদের আধার নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস খুঁজতে হবে। যদি চেষ্টা করুন বলে বার্তা দেওয়া থাকে তাহলে বুঝতে হবে এখনো সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ক্লিয়ার হয়নি একটু আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। তবে নিশ্চিন্ত থাকুন আপনি যদি অনলাইন আবেদনকারী হয়ে থাকেন এবং আবেদনের ফর্মে সঠিক তথ্য দিয়ে থাকেন, তাহলে খুব দ্রুত টাকা পেয়ে যাবেন এবং যদি আপনি অফলাইন আবেদনকারী হয়ে থাকেন তাহলে টাকা ঢুকতে একটু দেরি হবে।