প্রত্যেক বছর জেলার কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে থাকে খাদ্য দপ্তর। চাষীদের অর্থনৈতিক সুরাহা করার জন্য মূলত জেলার কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে থাকে খাদ্য দপ্তর। তবে এইবার সরকারি উদ্যোগ আরেকটু বড়ো আকারে নেওয়া হলো। কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার জন্য স্থায়ী ৪টি ক্রয় কেন্দ্র গঠন করা হলো। এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিন এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
চাষীদের কথা মাথায় রেখেই সরকারি উদ্যোগে এক্সট্রা ৪টি ধান ক্রয় কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফে ৬০৪ টি ক্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। নতুন করে এই ৪টি ধান ক্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে পুরুলিয়া জেলায়। জানা যাচ্ছে, পুরুলিয়া জেলায় আগের বছর ধানের উৎপাদন অনেকটা পরিমাণে হয়েছে। যেহেতু গত বছর বর্ষায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশ ভালো ছিল, তাই ধানের উৎপাদন খুব ভালো হয়েছে। আর এই এত ধান কেনার জন্যই পুরুলিয়া জেলায় নতুন করে ৪ টি ধান ক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

কোথায় কোথায় খোলা হচ্ছে : পুরুলিয়ার পারা, বান্দোয়ান, ঝালদা এবং সান্তুড়িতে এই ধান ক্রয় কেন্দ্রগুলি চালু করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। মূলত এই জায়গাগুলো হলো কমিউনিটি সেন্টার ও কর্ম তীর্থ। এখন থেকেই এই কেন্দ্রগুলোতে ধান কেনার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এই জায়গাগুলোর মধ্যে পারা নামক কেন্দ্রটি একবারে নতুন রূপে শুরু হচ্ছে। অন্য তিনটি জায়গায় দ্বিতীয় ক্রয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে।
আরোও পড়ুন : SBI গ্রাহকদের জন্য কড়া নিয়ম, ১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে বিনামূল্যে লেনদেন বন্ধ! জানুন বিস্তারিত।
ক্রয় কেন্দ্র খোলার কারণ : চাষীরা যে পরিমাণ ধান ফলান, সেটা এমনি ধান ভাঙ্গানোর দোকানে বিক্রি করলে যে লাভ হবে, তার থেকে সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্র বিক্রি করলে অনেকটা বেশি লাভ থাকে। এর ফলে কৃষকরা আর্থিক দিক থেকে অনেকটা লাভবান হওয়ার জন্যই সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্র বিক্রি করে থাকেন। বিশেষ করে ধানের প্রতি কুইন্টালে অতিরিক্ত ২০ টাকা করে বোনাস দেওয়া হয়, যেটা এমনি কোনো দোকানে পাওয়া যাবেনা। পুরুলিয়া জেলা জুড়ে যাতে আরও বেশি করে কৃষকরা ধান বিক্রি করতে পারে, তার জন্যই এক্সট্রা ৪ টি ধান ক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
শুধু যে স্থায়ী কেন্দ্রতেই ধান বিক্রি করতে পারবেন তা নয়, অনেক অস্থায়ী শিবের খোলা হয়েছে ধান কেনার জন্য চাষিদের কাছ থেকে। এখনো পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ৩০ লক্ষের বেশি ধান কেনা হয়েছে। খোলা বাজারের তুলনায় অনেক কম দামে সরকার ধান কিনেছে এবং চাষীদের খোলা বাজারের তুলনায় অনেক বেশি দাম দেওয়া হচ্ছে। জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধান কেনার মাত্রা সব থেকে বেশি থাকে। এজন্য আগের তুলনায় এক্সট্রা কেন্দ্র খুলতে তৎপর হয়েছে খাদ্য দপ্তর। মূলত জেলার ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক অবস্থা উন্নত করার জন্য এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগের বছর ধানের উৎপাদন অনেক বেশি হওয়ায় এ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এর ফলে খুব দ্রুত ও সহজভাবে চাষীদের কাছ থেকে ধান কিনতে পারবে সরকার। এছাড়া চাষীরা সরকারি সহায়ক মূল্যে দিয়ে ধান বিক্রি করতে পারবেন। এককথায় জেলার কৃষকদের ধান বিক্রি নিয়ে চিন্তার সুরাহা হয়েছে খাদ্য দপ্তরের সহযোগিতায়।