যুব সাথী প্রকল্পের অনুদান মেটাতে গিয়ে ঋণের বোঝা রাজ্য সরকারের মাথার উপর! ১২৬০ কোটি ঋণের মাত্রা ছাড়া রিপোর্ট প্রকাশ RBI- এর।

২০২৬ এর রাজ্যের বাজেট পেশের সময় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিভিন্ন প্রকল্পের অনুদান বাড়ানোর প্রসঙ্গ আনার সাথে সাথে নতুন একটি প্রকল্প উদ্বোধন করার কথা বলেন। রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য যুব সাথী প্রকল্পের সূচনা করার ঘোষণা করেন তিনি। এই ঘোষণার পরপরই সারা রাজ্য জুড়ে বেকার যুবক যুবতীদের মধ্যে একটা উন্মাদনা তৈরি হয় এই প্রকল্পকে ঘিরে। যদিও প্রথমদিকে আগস্ট মাস থেকে প্রকল্পের অনুদান দেওয়ার দিনক্ষণ ঠিক করা হয়, তবে পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, পয়লা এপ্রিল ২০২৬ থেকে যুব সাথী প্রকল্পের অনুদান পৌঁছে যাবে উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে। যুব সাথী প্রকল্পের ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবেদন করার জন্য মুখিয়ে থাকেন রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা। 

১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অফলাইন আবেদনের জন্য জেলাভিত্তিক ব্লকে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প অনুষ্ঠিত করা হয়। এই ক্যাম্পে নির্দিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। যদিও প্রথমদিকে শুধুমাত্র অফলাইন মাধ্যমেই আবেদনপত্র গ্রহণ করা হচ্ছিল কিন্তু এত সংখ্যক বেকার যুবক যুবতীদের ভিড় উপচে পড়ছিল তার জন্যই অফলাইনের চাপ কমানোর জন্য অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়। 

জানা গিয়েছে, অফলাইন এবং অনলাইন এই দুই মিলিয়ে আবেদনকারী সংখ্যা হয়েছে ৮৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬৩০ জন। এর মধ্যে অফলাইনে জমা পড়েছে ৬৫ লক্ষ ৫০০ ৭৯ আবেদন এবং অনলাইনে জমা বলেছে ১৯ লক্ষ আবেদন। 

আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরে আধিকারিকদের দ্বারা যাচাই প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন হয়েছে। যদিও ১ এপ্রিল থেকে অনুদান দেওয়া হবে বলা হয়েছিল তবে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন মার্চ মাস থেকেই অনুদান দেওয়া হবে যুবসাথি প্রকল্পের উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে। 

আরোও পড়ুন: Colgate Keep India Smiling Scholarship: কলগেট স্কলারশিপ ২০২৬ আবেদন প্রক্রিয়া শুরু! আবেদনের নিয়ম ও অন্যান্য তথ্য জানুন বিস্তারিত।

যুব সাথী প্রকল্পের আগেও রাজ্য সরকারের দ্বারা বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য অন্য আরেকটি প্রকল্প যুবশ্রী প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। তবে সেই প্রকল্পের তেমন কোন জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়নি, যতটা রাজ্য সরকারের সূচনা করার লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু যুব সাথী প্রকল্প ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রকল্পের আবেদনের জন্য উপযুক্ত যোগ্যতা সম্পন্ন শুধুমাত্র মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ১৮ থেকে ৪০ বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা লাইনে দাঁড়িয়েছে তা নয়, উচ্চ মাধ্যমিক, গ্রাজুয়েট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পাশ করা বেকার যুবক-যুবতীরাও এই লাইনে দাঁড়িয়েছে এমনটাও দেখা গিয়েছে। তাদের কথা অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের দেওয়া এ প্রকল্পের অনুদান অর্থাৎ মাসিক ১৫০০ টাকা যদিও এমন কিছু অর্থ নয় তবে, পরীক্ষার খরচ বা বই কেনা সংক্রান্ত খরচ মেটানোর জন্য রাজ্য সরকারের দেওয়া এই অনুদান তারা ছাড়তে রাজি নয়। তবে রাজ্য সরকারের তরফে তাদের একটাই অনুরোধ চাকরি সংস্থান করা কারণ তাদের মনে হয় ভাতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়, চাকরি সংস্থানটাই সবথেকে বড় কথা। তবুও যতদিন চাকরি না হয় রাজ্য সরকারের দেওয়া এই প্রকল্পের অনুদান তাদের অনেকটাই আর্থিক সহায়তা দেবে এমনটি তারা মনে করছেন। বলা যায় বেকার যুবক যুবতীদের প্রত্যেক মাসে ১৫০০ টাকা কিছুটা আর্থিক সহায়তা দেবে তবে সম্প্রতি আরবিআই একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যেখানে রাজ্য সরকারের নতুন এই যুব সাথী প্রকল্প সূচনার ধাক্কায় ১২৬০ কোটি টাকার মতন ঋণের বোঝা রাজ্য সরকারের মাথার উপর রয়েছে।

এর আগেও রাজ্য সরকারের সূচনা করা যুবশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েকশো কোটি টাকা ঋণের বোঝা রাজ্য সরকারের মাথার উপর ছিল এবং তার পরেই বিধানসভা ভোটের আগে আগে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের অনুদান বৃদ্ধি এবং নতুন প্রকল্প হিসাবে যুবসাথী প্রকল্পের জন্য মাসিক ১৫০০ টাকা ৮৪ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে দেওয়ার ফলে রাজ্য সরকারের মাথার ওপর উপরিউক্ত ১২৬০ কোটি টাকার ঋণ চাপতে চলেছে। আরবিআই এর রিপোর্ট প্রকাশ করার সাথে সাথে বিরোধী দল জানিয়েছেন বিধানসভা নির্বাচনের ভোট বাক্স ভরার জন্যই রাজ্য সরকার যুব সাথী প্রকল্পের সূচনা করেছেন তবে এই ১২৬০ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থাকে অনেকটাই দুর্বল করে দেবে অর্থাৎ রাজ্যের উপর দেউলিয়া হওয়ার প্রভাব সৃষ্টি করছে স্বয়ং রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি তবে বোঝাই যাচ্ছে বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগে নতুন প্রকল্পের সূচনা করার মাধ্যমে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের একরকম ভাবে উপকার করলেও RBI রিপোর্ট অনুযায়ী রাজ্যের রাজকোষে যে টান পড়তে চলেছে তা অনিবার্য।

Join Group Join Group