ধূমপানকারীদের পকেটে আগুন! পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়তে চলেছে পান মশলা, সিগারেটের দাম।

কেন্দ্রীয় সরকার চাইছেন আবগারি শুল্ক পরিকাঠামো পরিবর্তন আনতে। আর এর জন্যই সিন গুডস এর উপরে বাড়তে চলেছে জিএসটি ও সেস এর মতো ট্যাক্স। এই কর বাড়ার জন্যই মাদকজাতীয় দ্রব্য, বিশেষ করে ধোঁয়াবিহীন মাদকজাত দ্রব্যের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেতে চলেছে। এমনটাই কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে।

এদিকে দেশে ধূমপান করা ব্যক্তিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাস্তাঘাটে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের হাতে সিগারেট বা অন্যান্য মাদকদ্রব্য দেখা যায়। কিন্তু যে সিগারেটের বর্তমানে ১০ টাকা দাম, সেই সিগারেট আগামী মাস থেকে অনেকটাই বেড়ে যাবে দাম। যদিও সিগারেটের প্যাকেটে এবং বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে মাদকদ্রব্য শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক লেখা থাকে, তবুও ধূমপান করা ব্যক্তিদের কাছে এই সতর্কবার্তা অতটা কর্ণপাত হয় না, তার জন্যই সিগারেট বা অন্যান্য মাদকদ্রব্য কেনার চাহিদা ব্যাপক হারে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আগামী মাস থেকে পকেটে চাপ পড়লে কমতে চলেছে কি মাদকদ্রব্য কেনার প্রবণতা?

নতুন কর কাঠামো কার্যকর হলে সিগারেটের উপর ৪০ শতাংশ জিএসটি কার্যকর হবে, অন্যদিকে বিড়ির ওপর ১৮ শতাংশ জিএসটি কার্যকর হতে চলেছে। এর পাশাপাশি নতুন কেন্দ্রীয় আফগারি শুল্ক, জাতীয় দুর্যোগ, আকস্মিক শুল্ক এগুলো কার্যকর হলে তামাকজাত পণ্যের উপর মোট করের হার বর্তমানে যেখানে ৫৪ শতাংশ রয়েছে, সেটা পৌঁছে যাবে ৬৬ শতাংশে। অর্থাৎ সিগারেটের দাম ঘরে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানের যেখানে একটা সিগারেট কিনে ১০ টাকা দিতে হয়। সেই সিগারেট ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দিতে হবে ১৪ টাকা। তার মানে প্রতিটি সিগারেট কিছু সাড়ে তিন টাকা করে দাম বাড়বে।
এই দাম বাড়ার ফলে কিছু ধূমপান করা ব্যক্তিদের পকেটের চাপ পড়বে, যার ফলে তাদের দিনে সিগারেট খাওয়ার প্রবণতা কমবে, আবার অনেকে টাকা বেশি খরচ হওয়ার ভয়ে সিগারেট অগত্যা ছাড়তে রাজি হবে।

আরোও পড়ুন : রাজ্য পুলিশে ১০,০০০ শূন্য পদে কনস্টেবল নিয়োগ, ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশে আবেদনের সুযোগ! জানুন বিস্তারিত।

দাম বৃদ্ধির কারণ :

এতদিন তামাক ও পান মশলার উপর শুধুমাত্র GST Compensation Cess কার্যকর ছিল, যা মূলত GST চালুর পরে রাজ্যগুলির রাজস্ব ক্ষতি পুষিয়ে দিতে চালু হয়েছিল। কিন্তু ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে সেই Compensation Cess পুরোটাই উঠে যাচ্ছে। এর পরিবর্তে কেন্দ্রীয় সরকার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক মাদকদ্রব্য চিহ্নিত প্রোডাক্টগুলোর উপর সরাসরি কঠোর কর চাপাতে চলেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ভোগ কমানো। গত ডিসেম্বরেই সংসদে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ হয়, এর ফলে পান মশলার উপর Health and National Security Cess এবং তামাকজাত পণ্যের উপর অতিরিক্ত এক্সাইজ ডিউটি কর কার্যকর করা হয়। এই বিলের ভিত্তিতে পহেলা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে দাম বাড়তে চলেছে পান মশলা, সিগারেটজাত মাদকদ্রব্যের।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে প্রথম জিএসটি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কেন্দ্রীয় সরকার আবগারি আইন এবং কেন্দ্রীয় আবগারি (সংশোধনী) আইন, ২০২৫ কর কাঠামো পরিবর্তন করল। এর ফলে সিগারেট, পান মশলা জাতীয় মাদক দ্রব্যের উপর জিএসটি, এবং পান মশলার উপর স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা কর আরোপ করা হলো। অন্যদিকে তামাক এবং সংশ্লিষ্ট দ্রব্যের উপর অতিরিক্ত আবগারি কর আরোপ করা হলো। যার জন্যই এই কর কাঠামো পরিবর্তনের ফলে পয়লা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে সিগারেট, পান মশলা ও অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্যের দাম অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মাদকদ্রব্যের ক্রেতাদের উপর। এবং তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুত কারক সংস্থাগুলোর উপরও চাপ পড়তে চলেছে। তবে এর একটি সুপ্রভাব সমাজে প্রতিফলিত হতে পারে, সেটা হলো এই দাম বৃদ্ধির প্রবণতায় অনেক ব্যক্তির মাদকদ্রব্য থেকে দূরে সরে আসতে পারেন শুধুমাত্র অর্থ সাশ্রয়ের দিকটি বিবেচনা করে।

Join Group Join Group