ভারতীয় রুপির মূল্য ইমোতে রেকর্ড ব্রেক করে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে গিয়েছে। বুধবার প্রতি ডোলারে ৯০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেল টাকা। এর ফলে কি প্রভাব পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের পকেটে জেনে নেওয়া যাক।
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভারতীয় রুপির দর এবং পরিস্থিতি ক্রমশ দুর্বল পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। এবং ৩ ডিসেম্বর অর্থাৎ বুধবার প্রতি ডলারে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৯০.২৫ টাকার স্তরে পৌঁছে গিয়েছে। এই নিয়ে টানা তিন দিন ধরে টাকার দাম মার্কিন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে চলেছে। অর্থাৎ ভারতীয় টাকার মান অনেকটাই কমে যাচ্ছে বলা যায়।
এর আগেও মঙ্গলবার দিন ভারতীয় রুপির দাম ৪৩ পয়সা কমে সর্বনিম্ন ৮৯.৯৬ টাকায় নেমে এসেছিল। টানা দুই দিন ধরে ভারতীয় রুপির দরে এই পতন বাজারে আরও উদ্বেগ ও অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞ ও বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনকারীদের মত অনুযায়ী শেয়ার বাজারের পতন এবং ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এই অস্থিরতা টাকার দামের উপর আরও চাপ বাড়াতে চলেছে ভবিষ্যতে।
এই প্রসঙ্গে, ফিনরেক্স ট্রেজারি অ্যাডভাইজার্স এলএলপি-র প্রধান এবং একজিকিউটিভ ডিরেক্টর অনিল কুমার বনশালী জানিয়েছেন, “মঙ্গলবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি ধারাবাহিকভাবে প্রচুর পরিমাণে ডলার কিনেছে৷ কেন্দ্রীয় সরকার এবং ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) রফতানিকারকদের সাহায্য করতে চাওয়ায় এবং গত কয়েকদিন ধরে ডলারের দাম ভালো থাকায় রুপির মান আরও দুর্বল হচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার কমানোর ফলে রুপির আরও বেশি করে বিক্রি হতে পারে।”
ডলারের তুলনায় রুপির দামের পতন হওয়ায় শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতি করবে তা নয়, সাধারণ নাগরিকদের চাপ পড়বে যার প্রভাব পড়বে দৈনন্দিন জীবনে এবং মানুষের পকেটে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, গ্যাজেট কেনা থেকে শুরু করে ঋণ পরিশোধ, চিকিৎসার খরচ, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ সব দিকেই অনেকটাই প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরোও পড়ুন:- OICL প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগ, বিপুল শূন্য পদে আবেদনের সুযোগ, জানুন আবেদন পদ্ধতি।
কোন কোন ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে জেনে নেওয়া যাক:-
১) পেট্রোল ও ডিজেলের দামের ক্ষেত্রে:- ভারত বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে পেট্রোল এবং ডিজেল এছাড়া গ্যাস আমদানি করে থাকে। ডলারের তুলনায় রুপির দামের পতন হওয়ার জন্য এই পণ্য গুলির দাম আরো বৃদ্ধি পাবে। এই প্রভাব সরাসরি পেট্রোল পাম্পগুলিতে পড়বে। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিমাণ খরচ বৃদ্ধি পাবে এছাড়া পরিবহনের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য খুচরো জিনিসের দাম বেড়ে যাবে। অর্থাৎ রুটির পতন ভারতীয় বাজারে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব আনবে।
২) গ্যাজেট কেনার ক্ষেত্রে:- বিভিন্ন দরকারি সামগ্রী যেমন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, টিভি, রেফ্রিজারেটর, এসি, এমনকি ছোট গ্যাজেট থেকে শুরু করে, বেশিরভাগ পণ্যই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বিশেষ করে এই সমস্ত জিনিসের যন্তাংশ আমদানি করার জিনিসের উপর নির্ভর করে। এই যন্ত্রাংশের দাম ডলারে পরিশোধ করা হয়। এদিকে রুফির মূল্য পতনের কারণে কোম্পানিগুলো ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে আরও দাম বাড়িয়ে দেবে বিভিন্ন পণ্যের। এর ফলে জীবন ও নিত্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি জিনিস সবকিছুরই দাম অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। যার প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষদের পকেটে।
৩) সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে:- ডলারের তুলনায় রুপির দামের পতনের কারণে মুদ্রাস্ফীতি জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গিয়ে অনেকটাই বেশি খরচ হয়ে যাবে এর ফলে সঞ্চয়কৃত অর্থ অনেকটাই কম হবে। এর জন্য বিনিয়োগের সুযোগ কমবে কারণ স্থায়ী আয়ের উপর প্রভাব পড়লে বিনিয়োগের দিকে মানুষের ঝোঁক অনেকটাই কমে যাবে।
অর্থাৎ ভারতীয় বাজারের রুপির দাম এর পতনের কারণে অর্থনৈতিক খারাপ পরিস্থিতি যেমন হবে এবং তার প্রভাবে সাধারণ নাগরিকদেরও অনেকটাই চাপ পড়বে।