২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় পাস করা প্রাথমিক শিক্ষক পদে চাকরিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এতদিন অপেক্ষার পর অবশেষে সমস্ত অপেক্ষা অবসান ঘটলো সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। আজ বুধবার ৩রা ডিসেম্বর অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেন ২০১৪ সালের চাকরিপ্রাপ্ত ৩২ হাজার শিক্ষকেরই চাকরি বহাল থাকতে চলেছে। ডিভিশন বেঞ্চের এই রায় শোনার পরেই ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চোখের আনন্দ অশ্রু বয়ে চলেছে। অনেক অপেক্ষা অনেক মানসিক হতাশার পর এতদিনে তারা সুখের মুখ দেখতে পেরেছে।
একক বেঞ্চের নির্দেশ বাতিল করে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্র ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেছেন। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, চাকরি পাওয়ার ৯ বছর পরে যদি কোন শিক্ষকের চাকরি চলে যায় তাহলে সেই পরিবারে আর্থিক ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। যেহেতু ২০২৩ সালের ১২ই মে তৎকালীন বিচারপতির অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই মামলায় ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের রায় ঘোষণা করেছিলেন। অবশেষে ২০২৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দেওয়া রায় সুপ্রিম কোর্ট এর ডিভিশন বেঞ্চ বাতিল করল।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে প্রাথমিক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল৷ তারপরে অনুষ্ঠিত হয় টেট পরীক্ষা। টেট পরীক্ষায় ফলাফলের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে ইন্টারভিউ নেওয়া হয়। এরপরে ২০১৭ থেকে ২০১৯ প্রায় 14 দফায় মোট ৩২ হাজার প্রশিক্ষণ হীন চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ করা হয় প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে। এর পরই ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে বেনিয়মের অভিযোগ ওঠায় নানা মামলা করা হয় হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে।
আরোও পড়ুন:- SSC GD CONSTABLE 2026 নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ২৫,৪৮৭টি শূন্যপদে আবেদনের সুযোগ।
তারপরে হয় টেট৷ সেই টেট-এর ফলাফলের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে শুরু হয় ইন্টারভিউ৷তারপরে, ২০১৭ থেকে ২০১৯, প্রায় ১৪ দফায় ৩২ হাজার প্রশিক্ষণহীন প্রার্থীর নিয়োগ করা হয়৷ এরপরেই ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ সালে বেনিয়মের অভিযোগে মামলা হয় হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে৷ মামলাকারীদের এই অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল ২০১৬ সালের নিয়োগের আইন মানা হয়নি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ বিধি মানা হয়নি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও সিলেকশন কমিটি ছিল না, থার্ড পার্টি এজেন্সি প্যানেল তৈরি করেছিল, অ্যাপটিটিউট টেস্ট নেওয়া হয়নি, অ্যাপটিটিউট টেস্টের কোনও গাইডলাইনই ছিল না, অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়, কাট অব মার্কস নিয়ে উপযুক্ত তথ্য ছিল না বোর্ডের কাছে,শূন্যপদের অতিরিক্ত নিয়োগ হয়। যদিও প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিনিয়মের অভিযোগ খারিজ করে দেয় রাজ্য সরকার এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।
এরপরই ১২ মে ২০২৩, ৩২ হাজার চাকরি বাতিল করে সিঙ্গল বেঞ্চ। তৎকালীন বিচারপতি নতুন করে নিয়োগের প্রক্রিয়ার নির্দেশ দেয়৷ ১৯ মে ২০২৩, সিঙ্গল বেঞ্চের এই রায়ে স্থগিতাদেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ৷ তবে, নতুন করে নিয়োগের প্রক্রিয়ার নির্দেশ বহাল রাখতে বলা হয়।
মে-জুন ২০২৩, প্রাথমিক নিয়োগ মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। ২২ জুলাই ২০২৩, হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা ফেরায় সুপ্রিম কোর্ট৷ তারপর, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, হাইকোর্টের শেষ হয় ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি৷ আজ ৩ ডিসেম্বর বুধবার সেই রায় ঘোষণার দিন ছিল। আর আজকের দিনের জন্য ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক তাকিয়ে ছিলেন। অবশেষে ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়ের তাদের মুখে হাসি ফুটল।
ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কে বাতিল করে ডিভিশন বেঞ্চের এই রায় ঘোষণা হওয়ার পরেই শিক্ষকদের সততার জয় হওয়ার সাথে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি সুরক্ষিত থাকায় সেই সমস্ত শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন তারা।