রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সহানুভূতির স্কলারশিপ, পেয়ে যান ১২০০০ টাকা পর্যন্ত। জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি সহ অন্যান্য তথ্য
পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক দুরবস্থার কারণে অনেক পড়ুয়াদের মাঝপথে পড়াশোনা থামিয়ে দিতে হয়, অর্থাৎ আর্থিক অসঙ্গতি পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এজন্যই মেধাবী অথচ দুঃস্থ পড়ুয়াদের জন্য রাজ্য সরকার থেকে কেন্দ্রীয় সরকার এমনকি কিছু বেসরকারি সংগঠন স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। তেমনি আজকে রাজ্য সরকারের সূচনা করা এমন একটি স্কলারশিপ সম্পর্কে আপনাদেরকে জানাবো যার মাধ্যমে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই স্কলারশিপ এর নাম হল সহানুভূতির স্কলারশিপ।
স্কলারশিপের লক্ষ্য:- এই স্কলারশিপের লক্ষ্য হল যে সমস্ত দৈহিক প্রতিবন্ধী পড়ুয়া রয়েছেন, যাদের অত্যন্ত পড়াশোনায় মনোযোগ এবং মেধা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক দুরবস্থা পড়াশোনার প্রতি বাধা হয়ে রয়েছে তাদের মাসিক একটি বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে ভবিষ্যতের স্বপ্নকে সফল করার প্রচেষ্টা এবং তাদের জীবনকে লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এজন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার সহানুভূতি স্কলারশিপ চালু করেছেন। রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর বিকাশ ভবনের দপ্তরের তরফ থেকেই এই স্কলারশিপ দেওয়া হয়। যেহেতু এটি শুধুমাত্র শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে তাই অবশ্যই এই স্কলারশিপ এ আবেদনের জন্য প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট থাকতে হবে। এছাড়া আর কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন রয়েছে আবেদনের জন্য? আবেদন করার শেষ সময়সীমা ও আরো অন্যান্য তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
অনুদানের পরিমাণ:- মাসিক ১২ হাজার টাকা স্কলারশিপ দেওয়া হয়। স্কলারশিপের টাকা থেকে টিউশন ফি থেকে শুরু করে খাতা বই কেনা ও পড়াশোনা সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ করতে পারবেন পড়ুয়ারা।
প্রয়োজনীয় যোগ্যতা:-
১) সহানুভূতি স্কলারশিপে আবেদন করতে হলে অবশ্যই পড়ুয়াকে শারীরিক প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট প্রদর্শন করতে হবে। অর্থাৎ আবেদনকারী পড়ুয়াকে ৪০ শতাংশ শ্রবণ প্রতিবন্ধী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বা অস্থি প্রতিবন্ধী হতে হবে।
২) পড়ুয়াকে নবম শ্রেণীতে পাটরত হতে হবে। অর্থাৎ নবম শ্রেণী থেকে কলেজ পর্যন্ত এই স্কলারশিপ দেওয়া হয়।
৩) বিগত ক্লাসে বার্ষিক পরীক্ষায় অন্তত ৫০% নম্বর নিয়ে পাস করতে হবে।
৪) পরবর্তী শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার ফর্ম প্রদর্শন করতে হবে।
৫) পারিবারিক বার্ষিক আয় 2 লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া:- সহানুভূতি স্কলারশিপের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া অফলাইনে করতে হবে। এজন্য সর্বপ্রথম সহানুভূতি স্কলারশিপের আবেদন পত্র ডাউনলোড করে প্রিন্ট আউট করে নিতে হবে। এরপর যাবতীয় তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে উল্লেখিত ডকুমেন্ট গুলো অ্যাটাচ করে সংশ্লিষ্ট জেলা গণশিক্ষা প্রচার আধিকারিক এর কাছে জমা দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ SBI-এর JanNivesh SIP স্কিমে মাসে মাত্র ২৫০ টাকা বিনিয়োগ করেই জমিয়ে ফেলুন ১ কোটি টাকার সম্পদ! সন্তানের জন্য ভবিষ্যৎ তৈরি করতে জেনে নিন এই স্কিমের সম্বন্ধে বিভিন্ন তথ্য
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট:-
১) বিগত পরীক্ষার মার্কশীট এবং সার্টিফিকেট
২) প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট
৩) বার্ষিক আয়ের প্রমাণ পত্র
৪) পাসপোর্ট সাইজ ফটো
৫) পরিচয় প্রমাণপত্র হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড
৬) কাস্ট সার্টিফিকেট ( যদি থাকে)
আবেদনের শেষ সময়সীমা:- আবেদন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে, আবেদন প্রক্রিয়ার শেষ হবে ২৮ নভেম্বর। যে সমস্ত প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রী রয়েছো তারা যদি উপরে উল্লেখিত যোগ্যতা পূরণ করতে পারো তাহলে অবশ্যই রাজ্য সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের বিকাশ ভবনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে সহানুভূতি স্কলারশিপ এর ফর্ম ডাউনলোড করে প্রিন্ট আউট করে নিয়ে যাবতীয় তথ্য সঠিকভাবে লিখে জমা করুন এবং এই স্কলারশিপের সুবিধা গ্রহণ করুন।

