২০২৫ সাল পার করে নতুন বছরের পা দিতে চলেছে বিশ্ব। নতুন বছরে আমূল পরিবর্তন হতে চলেছে রাজ্যের রেশন ব্যবস্থায়। এই পরিবর্তন বাঙালির হেঁসেলে টান পড়তে চলেছে। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনার অধীনে রেশনিং সিস্টেমে পরিবর্তন হতে চলেছে।
রেশন ব্যবস্থায় দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের অন্ন যোগান দেয়। সারা দেশের মানুষ এই প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে থাকে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সরকার রাষ্ট্রীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনা প্রকল্প শুরু করে। পরবর্তী ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদি সরকার করোনা মহামারির সময় থেকে গরীব কল্যাণ যোজনাতে গোটা দেশকে বিনামূল্যে রেশন দিয়ে যাচ্ছে। যদিও রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার রাজ্যের রেশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন করেন। প্রথমে ২ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা শুরু করে। যার নাম দেন খাদ্যসাথী। এই প্রকল্প খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এই প্রকল্পের সাফল্যে মমতা সরকার ব্যাপক সাফল্য পায়। পরবর্তী ক্ষেত্রে করোনা মহামারীর সময় রাজ্য জুড়ে বিনামূল্যে রেশন ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। এমনকি রেশন ব্যবস্থায় সর্বশেষ সংস্কার হিসাবে দুয়ারে রেশন শুরু করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। দুয়ারে রেশন গোটা দেশে দৃষ্টান্ত তৈরি করে।
সেই রেশন ব্যবস্থায় পরিবর্তন চালু হবে নতুন বছরে। সূত্রের খবর, জানুয়ারি মাস থেকে চাল ও গম প্রদানের নিয়মে পরিবর্তন হবে। এবার রেশনে চালের পরিমাণ কমিয়ে গমের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের নতুন নিয়মে পরিবর্তন হতে চলেছে।
আরোও পড়ুন : MOBILE MOVIE:মোবাইলে সিনেমা দেখছেন বিনামূল্যে? আপনি পড়তে পারেন বড়সড়ো বিপদে! পুলিশের তরফ থেকে কড়া নজর।
এবার দেখে নেওয়া যাক রেশন কার্ড অনুযায়ী কত বরাদ্দ পেতে চলেছে গ্রাহকরা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, AAY অর্থাৎ অন্ত্যদয় অন্ন যোজনাতে এতদিন পরিবার প্রতি মাসে ২১ কেজি চাল ও ৯৫০ গ্রাম ওজনের ১৪ প্যাকেট আটা পেতেন। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে চালের পরিমাণ কমিয়ে ১৫ কেজি করা হয়েছে এবং আটার পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ প্যাকেট করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার-এর সাথে AAY কার্ডধারীদের পরিবারদের জন্য প্রতিমাসে ১৩.৫০ টাকা কেজি দরে চিনি দেওয়া হত। তার সাথে ৩ জনের বেশি পরিবারের সদস্য হলে প্রয়োজনে ১১ কেজি চাল বাড়তি দেওয়া হয় বিনামূল্যে। অন্যদিকে, PHH কার্ড হোল্ডাররা ২ কেজি চাল ও তিন প্যাকেট আটা বিনামূল্যে পায়।
তবে রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনাতে RKSY -১ এবং RKSY -২ কার্ডধারী গ্রাহকদের জন্য বরাদ্দ খাদ্য, শস্য প্রদানে কোনো পরিবর্তন হবে না। তারা আগের মতোই খাদ্য শস্য পাবেন।