কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য ও অভিনব প্রকল্প হলো রেশন প্রকল্প, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দারিদ্র সীমা নিচে থাকা পরিবারগুলো ন্যূনতম দামে খাদ্যদ্রব্য কিনতে পারে, এবং কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চাল ও গম দেওয়া হয়। এতদিন পর্যন্ত রেশনের ক্যাটেগরি ভিত্তিক কার্ড অনুযায়ী যে পরিমাণ চাল ও গম দেওয়া হতো, 2026 জানুয়ারি থেকে সেই চাল ও গমের পরিমাণ বদল করা হয়েছে। কোন কার্ডের জন্য কত পরিমাণ চাল ও গম বরাদ্দ রয়েছে, জেনে নেওয়া যাক নতুন তালিকা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
দারিদ্র সীমা নিচে থাকা পরিবারগুলো এই রেশন প্রকল্পের মাধ্যমে পাওয়া খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে নিজেদের খাবারের চাহিদার অনেকটাই পূরণ করতে পারেন। এই জন্যই রেশন প্রকল্প খুবই জনপ্রিয় প্রকল্প। রেশন প্রকল্পের চালু করার মূল লক্ষ্য হলো অপুষ্টির হার কমানো এবং প্রত্যেক জনসাধারণের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া। আয়ের পরিমাপ অনুযায়ী রেশন ক্যাটাগরি ভাগ করা হয়ে থাকে এবং সেই অনুযায়ী প্রত্যেক কার্ডের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য বরাদ্দ করা হয়। যে ব্যক্তির যেই ক্যাটাগরি কার্ড রয়েছে, তিনি সেই ক্যাটাগরির কার্ড দেখিয়ে খাদ্যদ্রব্য পেয়ে থাকেন। কেন্দ্রীয় সরকার আগামী বছর থেকে অর্থাৎ ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে রসুন থেকে পাওয়া চাল ও গমের পরিমাণের বদল আনতে চলেছে। অনেকেই মনে করছেন, চাল ও গমের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হবে। আদতে তা নয়, চাল ও গমের পরিমাণ একই রকম থাকবে তবে আগে চালের পরিমাণ বেশি দেওয়া হতো গমের পরিমাণ কম দেওয়া হতো। নতুন বছর থেকে গমের পরিমাণ বাড়িয়ে চালের পরিমাণ কমানো হবে। কিন্তু কোন কোন ক্যাটাগরির কার্ডে কত পরিমাণ বরাদ্দ করা হয়েছে সেটা জেনে নেওয়া যাক। ২০২৫ পর্যন্ত বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার নিয়ম জারি ছিল। ২০২৬-এ বিনামূল্যেই রেশন দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মূলত পাঁচ ধরনের রেশন কার্ড রয়েছে। এগুলি হল AAY, PHH, SPHH এবং রাজ্যের নিজস্ব দুটি কার্ড RKSY-1 ও RKSY-2। কোন কার্ডে নতুন খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণের পরিবর্তন দেখে নেওয়া যাক।
রেশন কার্ডের ক্যাটেগরি অনুযায়ী দুটি কার্ডের খাদ্য দ্রব্যের পরিমাণ বদল করা হয়েছে। এই কার্ডগুলি হলো : AAY, PHH বা SPHH। যাদের এই কার্ড রয়েছে তাদের জন্য জেনে নেওয়া দরকার আগামী বছর থেকে কত পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য পাবেন।
AAY কার্ডে নতুন নিয়ম :-
সব থেকে দরিদ্র একটা দারিদ্র্যসীমা নিচে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এই রেশন কার্ড দেওয়া হয়। এ কার্ডেও চালের পরিমাণ কমিয়ে গমের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৯ কেজি চাল দেওয়া হতো। নতুন বছর থেকে ১৫ কেজি চাল দেওয়া হবে।
২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৪ কেজি গম দেওয়া হতো, নতুন বছর থেকে ২০ কেজি করে গম দেওয়া হবে।
গমের বদলে আটা নিলে আগে ১৩ কেজি ৩০০ গ্রাম দেওয়া হতো, নতুন বছর থেকে ১৯ কেজি দেওয়া হবে।
আরোও পড়ুন : রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে 2 লক্ষ থেকে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্কলারশিপের জন্য অনুমোদিত করা হলো, ৫১০০ জনকে। অনুমোদিত ফলাফল তালিকা কীভাবে দেখবেন?
PHH ও SPHH কার্ডে নতুন বরাদ্দ : –
এ কার্ডের ক্ষেত্রেও চালের পরিমাণ কমিয়ে গমের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
চাল : মাথাপিছু ৩ কেজির বদলে হবে ২ কেজি চাল দেওয়া হবে নতুন বছর থেকে।
গম : মাথাপিছু ২ কেজির বদলে ৩ কেজি করে দেওয়া হবে।
আটা (গমের বদলে) : ১ কেজি ৯০০ গ্রামের বদলে হবে ২ কেজি ৮৫০ গ্রাম দেওয়া হবে নতুন বছর থেকে।
RKSY কার্ডে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নিজস্ব কার্ড এই দুটি। যদিও এই কার্ডের অধীনে কোনো গম বা আটা দেওয়া হয় না, শুধুমাত্র চাল দেওয়া হয়।
RKSY–1: মাথাপিছু ৫ কেজি চাল ও RKSY–2: মাথাপিছু ২ কেজি চাল আগের মতই দেওয়া হবে।
শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের ক্যাটাগরির রেশন কার্ড গুলিতে চালের পরিমাণ কমিয়ে গমের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ ভাত খাওয়ার পরিবর্তে রুটি খাওয়ার দিকে জোর দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকার।
তবে যে সমস্ত সাধারণ মানুষ ভাবছিলেন খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ কমানো হয়েছে, তেমন কোনোটাই হয়নি। খাদ্যের পরিমাণ শুধুমাত্র অদল বদল করা হয়েছে। মোট খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ একই রয়েছে।