সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিটা মুহূর্তের জন্য মোবাইল ফোন জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র আলাপচারিতা বা চ্যাটিংয়ের জন্যই নয়, বিনোদনমূলক ক্ষেত্রে এবং সর্বোপরি বিভিন্ন প্রয়োজনে অর্থাৎ পড়াশোনা, নিউজ, অনলাইন কেনাকাটা, টাকা ট্রান্সফার, অজানাকে জানার জন্য গুগল এবং ক্যাব বুকিং থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট চেনার ক্ষেত্রে বলা যায় প্রতিটি পদক্ষেপে চলতে গেলে মোবাইল ফোন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। বাড়ি থেকে বাইরে বেরোলে আর অন্য কিছু সঙ্গে নেওয়া হোক কি না হোক, বর্তমানে আপনার হাতের মুঠোফোনটি নেওয়া একদম ভুললে চলবে না। কিন্তু যদি এই মোবাইল ফোনের রিচার্জ প্যাকেজ দাম আকাশ ছোঁয়া হয়ে যায়, তাহলে মধ্যবিত্তদের পকেটে চাপ পড়বে অবশ্যই, তার সাথে প্রত্যেক মাসে ইনকামের একটা মোটা অঙ্ক চলে যাবে এই রিচার্জ করতে গিয়ে। বর্তমানে যে হারে রিচার্জ প্যাকেজের দাম বাড়ছে, জানা যাচ্ছে জুন মাস থেকে বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানিগুলো আরও বাড়াতে চলেছে রিচার্জ প্যাকেজের দাম। কবে থেকে বাড়তে চলেছে রিচার্জ প্যাকেজ? কত টাকা করে বাড়বে? এসমস্ত আপডেট পেতে হলে পড়তে থাকুন প্রতিবেদনটি।
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আগামী জুন মাস থেকে বাড়তে চলেছে তিনটি কোম্পানির রিচার্জ প্ল্যানের দাম। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে মধ্যবিত্তদের পকেটে। জানা যাচ্ছে, প্রিপেইড এবং পোস্টপেইড, দু ধরনের প্ল্যানেই ১৬ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ এখন যে রিচার্জ প্যাকেজ-এর দাম ২০০ টাকা রয়েছে, জুন মাসের সেই প্যাকেজের দাম হয়ে যাবে ২৪০ টাকা। ৫০০ টাকা রিচার্জের দাম বেড়ে গিয়ে হতে পারে ৬০০ টাকা। অর্থাৎ একই প্ল্যানের জন্য এখন যে রিচার্জ দামের থেকে আগামী জুন মাস থেকে ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত আপনার বেশি খরচ হবে। বাড়ানোর ভাবনা চলছে। দাম বাড়লে গ্রাহকদের পকেটে যে বড় টান পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, এই শতাংশ অনুযায়ী এখন ২০০ টাকার রিচার্জ করলে দাম বেড়ে হতে পারে প্রায় ২৪০ টাকা, ৫০০ টাকার রিচার্জের দাম বাড়লে হতে পারে প্রায় ৬০০ টাকা। অর্থাৎ, একই প্ল্যানের জন্য এখনের থেকে ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি খরচ হতে পারে।
আরোও পড়ুন : মোবাইল সুরক্ষায় আরও সিকিউরিটি দেওয়ার প্রস্তাব কেন্দ্রের, পরিবর্তন আনা হবে মোবাইল সফটওয়্যারে।
এই দাম বাড়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও জিও কোম্পানি অনেকটাই রিচার্জ প্ল্যানের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। ২০১৯ সালে রিচার্জের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, অন্যদিকে ২০২১ সালে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ২০২৪ সালেও রিচার্জের খরচ প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব :
দাম বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব তো পড়বেই। বর্তমানে প্রত্যেকটা মানুষ মোবাইলের ওপর নির্ভরশীল। ডিজিটাল পরিষেবা গুলোর উপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে ব্যাংকিং ও অনলাইন কেনাকাটা। দাম বাড়লে যারা রিচার্জ করবে না সেক্ষেত্রে ইনকামিং আউটগোয়িং বন্ধ হয়ে যেতে পারে কিছুদিন পর। অনেকদিন রিচার্জ না করালে সিম বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে কমের মধ্যে রিচার্জ প্ল্যানগুলোকে উঠিয়ে দিয়ে বেশি দামে রিচার্জ প্ল্যানগুলোকে রাখা হচ্ছে, যাতে প্রত্যেকটি ব্যক্তি ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও দামি রিচার্জ প্ল্যানে রিচার্জ করতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে এখন যে আনলিমিটেড রিচার্জ ডেটা প্ল্যানগুলো রয়েছে সেগুলো বয়স্ক ব্যক্তি বা যারা এখনো পর্যন্ত কিপ্যাড ফোন ব্যবহার করেন তাদের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু কোম্পানি তরফে জোর করে আনলিমিটেড ডেটা রিচার্জ প্ল্যান রেখেছেন। বয়স্ক ব্যক্তি বা যে সমস্ত ব্যক্তির এখনো পর্যন্ত কিপ্যাড ফোন ব্যবহার করেন তাদের জন্য শুধুমাত্র কল বা মেসেজের জন্য কম দামি রিচার্জ প্ল্যান থাকলে অনেকটাই সুবিধা জনক হয়। যে সুবিধা গুলো প্রয়োজন পড়ে না বা যে পরিষেবা গুলো প্রয়োজন হয় না তার জন্য এক্সট্রা টাকা দেওয়ার কোন মানে দাঁড়ায় না। তবে দেখা যাক, আগামী জুন মাস থেকে জিও, ভোডাফোন এবং এয়ারটেল কোম্পানির তরফে সত্যিই রিচার্জ প্ল্যানের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয় কিনা? তবে যদি দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ব্যক্তিদের পকেটে তো চাপ পড়বেই এছাড়া অনেকটা টাকাই এই রিচার্জে চলে যাবে যার ফলে অনেকটাই সমস্যার সম্মুখীন হবেন সাধারণ গ্রাহকরা।