এবার বাড়ীতে বসেই পঞ্চায়েতের ইনকাম সার্টিফিকেট। দুয়ারে ঘুরে ঘুরে নাভিশ্বাস হওয়ার দিন শেষ।

রাজ্যের পঞ্চায়েত পরিষেবায় এল বিরাট পরিবর্তন। BDO অফিসের মতো পঞ্চায়েতের সমস্ত সার্টিফিকেট এখন অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে। পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে লম্বা লাইন দিয়ে সার্টিফিকেট তোলার দিন শেষ। এবার সম্পূর্ণ অনলাইন পরিষেবা নিয়ে এল মাননীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। পঞ্চায়েত প্রধানের নিকট হতে অনুমোদিত ইনকাম ও স্থায়ী বাসিন্দা সার্টিফিকেট সবই এখন ডিজিটাল সার্টিফিকেট। এই সব সার্টিফিকেট এখন বাড়ীতে বসেই আবেদন করা যাবে এবং বাড়ীতে বসেই সহজে পাওয়া যাবে।

গ্রামে বসবাসকারী মানুষের কাছে পঞ্চায়েত সার্টিফিকেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, স্বাস্থ্য, আইন, ও সরকারি পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই পঞ্চায়েতের ইনকাম সার্টিফিকেট ও স্থায়ী বাসিন্দা সার্টিফিকেট খুবই জরুরি। কোন কোন ক্ষেত্রে এই পঞ্চায়েতের সার্টিফিকেট সরাসরি গৃহীত হয়। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে এই পঞ্চায়েতের সার্টিফিকেটকে প্রাথমিক নথি হিসাবে নির্ভর করে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের অফিস থেকে ইনকাম বা স্থায়ী বাসিন্দা সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। BDO অফিসের সমস্ত সার্টিফিকেট আগেই অনলাইন হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরেই পঞ্চায়েত অফিসের ডিজিটাল সার্টিফিকেটের দাবী উঠছিল বিভিন্ন মহলে। সেই দাবীকেই গুরুত্ব দিয়ে রাজ্য শুরু হয়েছে অনলাইন পঞ্চায়েত সার্টিফিকেট পরিষেবা।

কিভাবে আবেদন করবেন?

রাজ্য সরকারের WBPMS ওয়েবসাইটে গিয়ে “সিটিজেনস কর্নার” অপসানে গিয়ে আবেদন করতে হবে। নিজের সমস্ত তথ্য দিয়ে ও প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এপ্লিকেশন স্ট্যাটাস চেক করতে হবে। সার্টিফিকেট অনুমোদন করা হলেই সেটাকে ডাউনলোড করে প্রিন্ট আউট করলেই সহজে আপনার হাতে চলে আসবে এই সার্টিফিকেট।

এই আবেদনের জন্য বাড়ীতে বসে নিজের মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার থেকেই আপনি আবেদন করতে পারবেন। এমনকি আপনার নিকটবর্তী বাংলা সহায়তা কেন্দ্র কিংবা কমন সার্ভিস পয়েন্ট অথবা বেসরকারি সাইবার ক্যাফে থেকেও সহজে আবেদন করতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র:- আবেদন করার সময় একাধিক নথি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। সেই নথি গুলি হল –

১) ভোটার কার্ড।

২) আধার কার্ড।

৩) পঞ্চায়েত প্রধানের উদ্দেশ্যে লেখা সাদা কাগজের দরখাস্ত, যেখানে আপনার পরিবারের বাৎসরিক ইনকামের পরিমাণ উল্লেখ থাকবে। সেই সাথে ঐ দরখাস্তে নিজের বুথের পঞ্চায়েত সদস্যের সাক্ষর থাকবে।

৪) আপনার রঙিন পাসপোর্ট ছবি।

৫) চলতি অর্থবর্ষে জমা করা পরিবারের ট্যাক্সের রশিদ।

৬) মোবাইল নং

নতুন আবেদন পদ্ধতির সুবিধা:- ১) অফলাইনের দরখাস্ত নিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে লাইন দেওয়ার ঝামেলা থাকছে না।

২) বাড়ি থেকেই সময় মতো আবেদন করা ও সার্টিফিকেট ডাউনলোড করার সুযোগ।

৩) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সার্টিফিকেট পাওয়ার সুবিধা।

৪) পঞ্চায়েত সার্টিফিকেটের জন্য দুর্নীতির সুযোগ থাকছে না।

৫) পঞ্চায়েত সার্টিফিকেট নেওয়ার পর পঞ্চায়েত সেক্রেটারির সাক্ষরের প্রয়োজন নেই।

৬) পরিবারের ন্যায্য ইনকামের পরিমাণের ভিত্তিতে সঠিক সার্টিফিকেট পাওয়ার সুবিধা।

৭) পঞ্চায়েত সার্টিফিকেট প্রদানকে নিয়ে বৈষম্যের সুযোগও থাকছে না।

৮) বর্তমান ডিজিটাল সময়কে গুরুত্ব দিয়ে পঞ্চায়েতের ডিজিটাল সার্টিফিকেট পরিষেবা আধুনিকতা ও প্রগতির প্রতীক।

নতুন পরিষেবার অসুবিধা:-

ডিজিটাল বা অনলাইন সার্টিফিকেট হলেও যারা শিক্ষা – স্বাস্থ্য – কাজের কারণে বাড়ি থেকে অনেক দূরে আছেন তারা দূর থেকে পরিষেবা পাবেন না। এর কারণ অনলাইন আবেদন করার জন্য নিজের পঞ্চায়েত মেম্বারের সাক্ষর প্রয়োজন। পঞ্চায়েত প্রধানের উদ্দেশ্যে লেখা সাদা কাগজের দরখাস্ততে তার সাক্ষর করাতেই হবে। সেই কারণে আপনাকে বাড়ি ফিরে আসতেই হবে কিংবা অন্য কোন ব্যক্তির সাহায্য নিতে হবে।

Join Group Join Group