আধার কার্ড এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি, দুটি বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচয় পত্রের সাথে নাগরিকত্ব প্রমাণের অংশ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্যাংকিং ক্ষেত্রে, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট তৈরিতে, এডমিশনের ক্ষেত্রে, চাকরি ক্ষেত্রে, সরকারি প্রকল্পে এবং স্কলারশিপ এর জন্য, সিম কার্ড কেনা, হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে ট্রেনের টিকিট বুকিং সর্বোপরি সব ক্ষেত্রে আধার কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে পরিগণিত করা হয়। তবে এতদিন পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রাহককে আধার কার্ডের তথ্য আপডেটের জন্য বা আধার কার্ড নতুন করে আবেদনের জন্য আধার কেন্দ্রে গিয়ে অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হতো। এর ফলে যেমন অনেক সময় অপচয় হতো তেমন অনেকটা খাটনিকর ব্যাপার ছিল। এইজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে একটি নতুন অ্যাপ চালু করা হয়েছে যেখানে আধার আপডেট থেকে শুরু করে আধার কার্ড আবেদন সমস্ত প্রক্রিয়া, যে কোন গ্রাহক খুব সহজেই বাড়িতে বসেই করতে পারবেন। এই সংক্রান্ত আরো তথ্য বিস্তারিত জানার জন্য প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়ে ফেলুন।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই নতুন অ্যাপ চালু করা হয়েছে ২৮শে জানুয়ারি থেকে। UIDAI তরফ থেকে এই নতুন অ্যাপের ফুল ভার্সন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে আজ অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি থেকে। এই নতুন অ্যাপ কিভাবে চালু করবেন এবং নতুন অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকরা কি কি সুবিধা পাবেন? এই সকল তথ্য ভালো করে জেনে নিন।
নতুন আধার অ্যাপ এর সুবিধা:
একাধিক সুবিধা পাওয়া যাবে নতুন আধার অ্যাপ এর মাধ্যমে। নিম্নে সে সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১) সহজ আপডেট: আধার কার্ডে অনেক সময় মোবাইল নম্বর বা বাড়ির এড্রেস চেঞ্জ করার দরকার হয়। আর এইটুকু তথ্য আপডেট এর জন্য আধার কেন্দ্রে যাওয়ার আর প্রয়োজন হবে না কোন গ্রাহকের। বাড়িতে বসেই আধার অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই মোবাইল নম্বর পরিবর্তন বা বাড়ির ঠিকানা পরিবর্তন করে ফেলতে পারবেন গ্রাহকরা।
আরোও পড়ুন: বিয়ের পর আপনার আধার কার্ডের স্বামীর নাম লিখতে চাইছেন? সহজ পদ্ধতি জেনে নিন।
২) রেজিস্ট্রেশন: নতুন আধার কার্ড রেজিস্ট্রেশন এর জন্য এই অ্যাপের মাধ্যমে করা যাবে। এতদিন পর্যন্ত নতুন আধার কার্ড রেজিস্ট্রেশন করার জন্য আধার কেন্দ্রে যেতে হতো, সেই সময় ও পরিশ্রম অনেকটাই কমে যাচ্ছে নতুন অ্যাপ চালু হওয়ার ফলে।
৩) তথ্য শেয়ার: বিভিন্ন জায়গায় বা সংস্থার আধার কার্ড শেয়ার করার প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে অরজিনাল আধার কার্ড শেয়ার না করে এই অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল আধার কার্ড শেয়ার করা যাবে। এর ফলে কাগজের কার্ডের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যাবে। পকেটে করে বা ব্যাগে করে এখন থেকে আর কাগজের আধার কার্ড পকেটে বয়ে নিয়ে যেতে হবে না।
৪) ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা: এ নতুন অ্যাপ এর সবথেকে ভালো দিক হলো গ্রাহকের প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা বজায় থাকবে। কোন সমস্যায় আধার কার্ডের তথ্য দেওয়ার সময় আপনি নিজে ঠিক করে দিতে পারবেন কতটুকু তথ্য তাদেরকে দেখাতে চাইছেন। এর ফলে জালিয়াতি প্রভাব অনেকটা কমে যাবে। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকবে।
ব্যবহার করবেন কিভাবে:
প্রথমে প্লে স্টোর থেকে এই অ্যাপটি আপনাকে ইন্সটল করে নিতে হবে। এরপর আপনার আধার নম্বর দিয়ে লগ-ইন করতে হবে। লগইন হয়ে যাওয়ার পর আপনার ডিজিটাল আধার কার্ড আপনার স্ক্রিনে শো করবে। এখান থেকেই আপনি যেকোনো জায়গায় আপনি আধার কার্ড শেয়ার করতে পারবেন।
অর্থাৎ এই নতুন অ্যাপ চালু হওয়ার ফলে সাধারণ গ্রাহকদের আঁধার সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যকলাপ করার প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে এবং সময় বাঁচবে, জালিয়াতির প্রভাব কমবে। আপনিও যদি এই নতুন অ্যাপ এর সুবিধা উপভোগ করতে চান তাহলে অবশ্যই প্লে স্টোর থেকে এই নতুন অ্যাপ ইন্সটল করে নিন।