জমি বা সম্পত্তি কেনাবেচা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল বিষয়। এজন্য জমি বা সম্পত্তি কেনাবেচার আগে বিভিন্ন নিয়ম-কানুন ও বিষয় সম্পর্কে অবগত থাকতে হয়। বিশেষ করে জমি বা সম্পত্তি কেনাবেচার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জমির মার্কেট ভ্যালু বা বাজার মূল্য। ২০২৬ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের জমির বাজার মূল্য কেমন রয়েছে? জানতে হলে প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ পড়ুন।
সবার প্রথমে জেনে নেওয়া যাক মার্কেট ভ্যালু বা বাজার মূল্য বলতে কি বোঝায়?
কোন জমির মার্কেট ভ্যালু বলতে বোঝায় খোলা বাজারে সেই জমি বা সম্পত্তি বিক্রি হলে সাধারণভাবে যে দাম পাওয়া যায়। অর্থাৎ সরকারের দ্বারা নির্ধারিত নির্দিষ্ট নিয়ম ও নির্দেশিকা অনুযায়ী এই বাজার মূল্য নির্ধারিত হয়। এর ফলে জমি লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
পশ্চিমবঙ্গের জমি বা সম্পত্তির বাজার মূল্য নির্ধারণ করে থাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Directorate of Registration and Stamp Revenue বিভাগ। এই জমির মূল্য অন্য দুটি নামেও পরিচিত রয়েছে। একটি হলো “Circle Rate” বা “Guideline Value”। সরকার দ্বারা নির্ধারিত জমির মূল্যের কমে জমি রেজিস্ট্রি করা আইনত অন্যায়।
এইবার জেনে নেওয়া যাক পশ্চিমবঙ্গের জমি বা সম্পত্তির বাজার মূল্য কোন কোন বিষয়ের উপর নির্ধারিত হয়ে থাকে?
বেশ কিছু বিষয়ের ওপর জমি বা সম্পত্তির বাজার মূল্য নির্ধারিত হয়ে থাকে।
১) গ্রাম, শহর বা কর্পোরেশন এলাকার জমির অবস্থানের উপর নির্ভর করে বাজার মূল্য।
২) বড় রাস্তা, বাজার, স্কুল, হাসপাতাল নিকটবর্তী অবস্থানে থাকলে জমির বাজার মূল্য বেড়ে যায়।
৩) কোন ধরনের জমি নিচ্ছেন অর্থাৎ বাসস্থানের জন্য, বাণিজ্যিক কাজের জন্য বা কৃষি জমির জন্য সে অনুযায়ী জমির বাজার মূল্য নির্ধারিত হয়।
৪) জমির পরিমাণের ওপর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে বাজার মূল্য নির্ধারিত হয়।
উপরের এই চারটি পয়েন্টের উপর ভিত্তি করে সরকারের তরফ থেকে একটি নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
২০২৬ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের সম্পত্তি বা জমি কেনা বেচার স্ট্যাম্প ডিউটি কত রয়েছে?
১) যদি কর্পোরেশন বা মিউনিসিপ্যালিটি এলাকায় কেনা হয় এবং সম্পত্তির দাম যদি ১ কোটি টাকার নিচে হয় তাহলে স্ট্যাম্প ডিউটি রয়েছে 6 শতাংশ।
২) ১ কোটির বেশি হলে স্ট্যাম্প ডিউটি রয়েছে ৭ শতাংশ।
৩) রেজিস্ট্রেশন ফি সাধারণত ১ শতাংশ নেওয়া হয়।
তবে এই হার গ্রামীণ বা পঞ্চায়েত এলাকার ক্ষেত্রে কিছুটা কম রয়েছে।
অর্থাৎ শহর এলাকায় যদি আপনি একটি জমি কেনেন বা ফ্ল্যাট কেনেন এবং সে জমির মূল্য যদি ৮৫,০০,০০০ টাকা হয় তাহলে স্ট্যাম্প ডিউটি হবে ৬ শতাংশ হারে ৫,১০,০০০ টাকা। অন্যদিকে রেজিস্ট্রেশন চার্জ পড়বে ১ শতাংশ হিসেবে ৮৫,০০০ টাকা। অর্থাৎ সরকারি চার্জ হিসাবে আপনাকে দিতে হবে মোট ৫,৯৫,০০০ টাকা। এই হিসাব যদি আপনি গ্রামে কোন সম্পত্তি কেনেন বা জমি কেনেন তাহলে অনেকটাই কম হবে।
আপনি অনলাইনেও জমির বাজার মূল্য দেখতে পারেন। বর্তমানে ডিজিটাল মাধ্যমেও জমির বাজার মূল্য দেখার সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি রেজিস্ট্রেশন ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার জেলা, ব্লক এবং মৌজা ইনপুট করে জমির সম্ভাব্য বাজার মূল্য দেখতে পারেন। অনলাইনে এই বাজার মূল্য দেখে নিলে জমি বা সম্পর্কে কেনার সময় জালিয়াতির হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যায় এবং আপনি সঠিক দামটি জানতে পারেন।
কোন সম্পত্তি বা জমি কেনার আগে অবশ্যই বাজার মূল্য সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নেবেন তাহলে ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট ধারণা থাকে এবং আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কোন জমি কেনা আগে অনলাইনে এলাকা অনুযায়ী জমির বাজার মূল্য এবং স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন চার্জ যাচাই করে নেবেন।