মোবাইল সুরক্ষায় আরও সিকিউরিটি দেওয়ার প্রস্তাব কেন্দ্রের, পরিবর্তন আনা হবে মোবাইল সফটওয়্যারে।

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোন ছাড়া এক মুহূর্ত থাকা বা চলা সম্ভব নয়। মোবাইল ফোন এমন একটি দরকারি বস্তু যেটি বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন সমস্যাই মুশকিল আসান হিসাবে কাজ করে। কিন্তু মোবাইল ফোনের বিভিন্ন পজিটিভ দিকের মধ্যেও নেগেটিভ দিক রয়েছে, সেটা হলো, অনেক সময় মোবাইলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হ্যাক হয়ে যাচ্ছে। মোবাইল ডাটা হ্যাক হওয়ার ফলে বিভিন্ন মোবাইল ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড, ব্যাংক ডিটেলস থেকে শুরু করে অন্যান্য দরকারি জিনিসপত্র হ্যাকারদের হাতে চলে যাচ্ছে। আর এই জন্যই মোবাইল সফ্‌টওয়্যার পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলেন কেন্দ্রীয় সরকার মোবাইল নির্মাতাকারী সংস্থাদের। বিষয়টি কী? বিস্তারিত জানার জন্য প্রতিবেদন সম্পূর্ণ পড়ুন।

গত মাসেই “সঞ্চার সাথী” অ্যাপকে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল। নতুন মোবাইল গুলিতে আগে থেকেই install করা থাকবে সরকারি নামক একটি অ্যাপ, যার নাম “সঞ্চার সাথী”। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল মোবাইল নির্মাতাকারী সংস্থাদের। কিন্তু আবার পরে এই নির্দেশ উঠিয়ে দেন কেন্দ্রের তরফ থেকে।

তবে আবার কেন্দ্রের তরফ থেকে নতুন করে কিছু নির্দেশ দেওয়া হলো মোবাইল নির্মাতাকারী সংস্থাদের।
এবার থেকে মোবাইল নির্মাতাকারী সংস্থাদের মোবাইলের সোর্স কোড জানাতে হবে কেন্দ্রকে। মোবাইল সফ্‌টওয়্যারও কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। তবে এই রকম নির্দেশ শুনে অ্যাপল, স্যামসাং-এর মতো প্রথম সারির মোবাইল সংস্থাগুলি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আরোও পড়ুন : প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করুন শেয়ার বাজার থেকে, জেনে নিন SWP বিনিয়োগ প্ল্যান সম্পর্কে।

সোর্স কোড এর কী কাজ : একটি মোবাইল কীভাবে কাজ করবে সেটি নির্ধারণ করে এই সোর্স কোড। এটি এমন কিছু নির্দেশ বা কমান্ড যেটি এপ্লিকেশন তৈরির জন্য লেখা হয়। বর্তমানে যে হারে সাইবার ক্রাইম বা জালিয়াতি বেড়ে গিয়েছে, তার জন্য সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় তরফে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আর তার জন্যই মোবাইল সোর্স কোড গুলি ভারতের নির্দিষ্ট গবেষণাগারে আগে বিশ্লেষণ করা হবে এবং সেগুলোর পরীক্ষা করা হবে। শুধু তাই নয় মোবাইল সংস্থাগুলিকে সফ্‌টওয়্যার এর ব্যাপারে আরও নতুন কিছু পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে মোবাইলে আগে থেকে থাকা অ্যাপ গুলিকে আনইন্সটল করা যায়। এছাড়া মোবাইলে থাকা অ্যাপগুলো যখন অব্যবহৃত অবস্থায় অর্থাৎ ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকবে, তখন যেন ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন ব্যবহার কেউ না করতে পারে, সেই রকম সফ্‌টওয়্যার নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি মোবাইলের লগ অর্থাৎ মোবাইল ফোনে কী কাজ হয়েছে, তার ডিজিটাল রেকর্ড যে কোনো স্মার্টফোনে বারো মাসের জন্য সংরক্ষণ করার যাবে, এমনটাই নিশ্চিত করতে হবে। এই একগুচ্ছ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তরফে।

ভারতে বর্তমানে প্রায় ৭৫ কোটি স্মার্ট ফোন রয়েছে। একদিক থেকে ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার মোবাইলের জন্য। কিন্তু এর পাশাপাশি ভারতেই সব থেকে বেশি জালিয়াতি ও ডেটা চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্যই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে মোবাইল নির্মাতা সংস্থাগুলিকে বেশ কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো মোবাইল নির্মাতা সংস্থা এই প্রস্তাবে এখনো পর্যন্ত সেভাবে পজিটিভ কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

এর অন্যতম কারণ হলো স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থাগুলি সোর্স কোডের ব্যাপারে বরাবরই নিজেদের কাছেই সুরক্ষিত রাখতে চান। তারা এই সোর্স কোডের ব্যাপারে কাউকে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নন। মোবাইল সংস্থার তরফে জানানো হচ্ছে, কিছু ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার কারণে সোর্স কোড দেওয়া কখনই সম্ভব নয়। এছাড়া তারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে এই বিষয়ে অনুরোধ পাঠিয়েছেন যে, মোবাইলে বারোমাসের জন্য ডিজিটাল রেকর্ড ধরে রাখার ক্যাপাসিটি বা জায়গা ডিভাইসগুলোতে থাকে না। সফ্‌টওয়্যার আপডেটের ব্যাপারেও তারা একই মতামত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রককে। এক কথায় বলা যায়, কেন্দ্রীয় সরকারের একগুচ্ছ নির্দেশের বিপরীত পথেই হাঁটতে চাইছেন ভারতীয় মোবাইল নির্মাতা সংস্থাগুলি।

Join Group Join Group