কমতে চলেছে রেশনের চালের পরিমাণ, রেশন কোটায় বড়সড় পরিবর্তন! জানুন বিস্তারিত।

কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের রেশন প্রকল্প দারিদ্র সীমার নিচে থাকা মানুষদের জন্য একটি অভিনব প্রকল্প। এই রেশন প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য দ্রব্যের সংস্থান হয় তাদের। খাদ্যের ন্যূনতম যোগান ও পুষ্টিগুণ রেশন দ্রব্যের মাধ্যমে তারা পেয়ে থাকে। তবে এই রেশন কোটায় বড়সড়ো পরিবর্তন আসতে চলেছে আগামী বছর থেকে। রেশন প্রকল্পের যে সমস্ত খাদ্য দলের উপর দেওয়া হয় তার মধ্যে চাল ও গম উল্লেখযোগ্য। কিন্তু পরের বছর থেকে চালের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ সহ আরো কয়েকটি রাজ্যে আগামী বছর থেকে চালের পরিমাণ কমিয়ে গমের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ যাতে অর্থনৈতিক সাশ্রয় হয় কেন্দ্রের তার জন্য মূলত এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ পরিবর্তন:- বর্তমানে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষার গ্রাহকেরা (NFSA) মাথাপিছু ৫ কেজি খাদ্য দ্রব্য পেয়ে থাকেন। এরমধ্যে ৩ কেজি হল চাল এবং ২ কেজি গম। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের ৬০ শতাংশ চাল এবং ৪০ শতাংশ গম পেয়ে থাকেন। চাল ও গমের এই অনুপাত পরিবর্তন করা হচ্ছে তবে মোট পরিমাণ একই থাকছে। আগামী বছর থেকে ৫৯.৫ শতাংশ গম এবং ৪০.৫ শতাংশ চাল দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।

কোন কোন রাজ্যে পরিবর্তন হচ্ছে:- পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বিহার, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, দিল্লী এইসব জায়গাতেই একই পরিবর্তন আনা হবে।

আরোও পড়ুন:- 180 কিমি বেগে চালু হচ্ছে ভারতের অন্যতম স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেন! ভাড়া কত হতে পারে?

খাদ্যদ্রব্য অনুপাতের পরিবর্তনের কারণ:- কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, খাদ্য সুরক্ষা খাতে অর্থ খরচ কমানোর জন্য এ নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চালের পরিবর্তে গমের পরিমাণ বাড়ালে অনেকটাই অর্থ সাশ্রয় হবে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক খাতে। বর্তমানে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা খাতে প্রত্যেক মাসে ৩০৪ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা খরচ বরাদ্দ করা হয়। এছাড়া বছরে ৩৬৫৪ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা খরচ বরাদ্দ করা হয়। চালের পরিবর্তে গমের পরিমাণ বাড়ানো হলে ২৪৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। বছরের হিসেবে দেখলে ৩৪০৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
জানা যাচ্ছে এক টন চাল উৎপন্ন করতে কেন্দ্রীয় সরকারের খরচ পড়ে ৪১ হাজার ৭৩৩ টাকা। অন্যদিকে গম উৎপন্ন করতে খরচ করে ২৯ হাজার ৮০০ টাকা। এর ফলে ১২ হাজার টাকা বেশি খরচ পরে চাল উৎপন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে। এজন্যই চালের পরিমাণ কমিয়ে গমের পরিমাণ বাড়ানোর কথা ভাবা হয়েছে। এতে সরকারের অর্থনৈতিক সাশ্রয় হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের রাজ্যপালের মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। রেশন ডিলারশিপ গুলো থেকে শুরু করে অন্যান্য রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীরা কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে কিছুটা নেগেটিভ বার্তাই রেখেছেন। এখন দেখা যাক আগামী বছর থেকে এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় কিনা। যদিও চাল ও গমের অনুপাতে পরিমাণ কমানো হবে না বলে গ্রাহকদের কোন রকম সমস্যা হওয়ার কথা নয় এই নতুন সিদ্ধান্তে।

Join Group Join Group