পশ্চিমবঙ্গের জমি রেজিস্ট্রেশন খরচ কত! অনলাইন মাধ্যমে কীভাবে জানবেন?

কোনো জমি কেনার সময় সেই জমির রেজিস্ট্রেশন খরচ কত এবং জমিসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য জানার জন্য অনেকেই ভেবে থাকেন, কীভাবে এ সমস্ত তথ্য গুলি একসঙ্গে সঠিকভাবে পাওয়া যাবে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে যে-কোনো তথ্য সম্পর্কে সঠিকভাবে জানার জন্য সব থেকে ভালো মাধ্যম হল অনলাইন। তেমনি জমি রেজিস্ট্রেশন খরচ কত পড়বে এবং জমিসংক্রান্ত যে-কোনো তথ্য আপনি জানতে পারবেন অনলাইন মাধ্যমে। কীভাবে অনলাইন মাধ্যমে জানবেন সে সম্পর্ক তথ্যই আজকে থাকবে এই প্রতিবেদনে।

সরকারি রেকর্ডের জমি নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন করতে হলে এবং মালিকানার প্রমাণ পেতে হলে একটি চার্জ সরকারকে দিতে হয়। এই জমি রেজিস্ট্রেশন ক্যালকুলেটর কীভাবে নির্ণয় করা হয় অনলাইন মাধ্যমে যদি আপনি জানতে ইচ্ছুক থাকেন, তাহলে এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে সেই সম্পর্কে খুব সহজে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১৯০৮ সালের প্রথম জমির রেজিস্ট্রেশন আইন বাধ্যতামূলক করা হয়। জমি রেজিস্ট্রেশন করার জন্য বিভিন্ন কর এবং অন্যান্য অনেক কিছু উপর নির্ভর করে। বিভিন্ন স্থান বিশেষে ও রাজ্য সরকার দ্বারা এই কর নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আপনি জমি রেজিস্ট্রেশন করার সময় সঠিক ক্যালকুলেটর দ্বারা জমি রেজিস্ট্রেশন চার্জ নির্ণয় করা হচ্ছে কিনা সেটি দেখে নেওয়া দরকার। আর এর জন্য সব থেকে সঠিক পথ হল অনলাইনে ক্যালকুলেট করা।

সাধারণত জমি রেজিস্ট্রেশন চার্জের মধ্যে স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন কর, অন্যান্য কিছু চার্জ ইনক্লুড থাকে।
স্ট্যাম্প ডিউটি বলতে বোঝায়, যখন জমি কেনা হয় বা হস্তান্তরের উপর আরোপ করা একটি কর। এটি সম্পত্তির মূল্যের উপর নির্ধারণ করে কর নির্ণয় করা হয়। কোনো সম্পত্তির মোট মূল্যের 1 শতাংশ ধার্য করা হয় কর। যেহেতু স্ট্যাম্প ডিউটির হার রাজ্য ভেদে বিভিন্ন হয়ে থাকে। এজন্য আপনার সম্পত্তি কেনা বা হস্তান্তরের সময় আপনার রাজ্যে স্ট্যাম্প ডিউটি কত রয়েছে, সেটি আগে ক্যালকুলেট করে নেওয়া জরুরি।

আরোও পড়ুন : বাংলার কৃষকদের জন্য সুখবর, শুরু হতে চলেছে এবছরের রবি মৌসুমের বাংলা শস্য বীমা যোজনা। জেনে নিন সমস্ত তথ্য।

কীভাবে ক্যালকুলেট করবেন : –

প্রথমে সম্পত্তির অবস্থান নির্ণয় করতে হবে।
এরপর লিঙ্গ নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ কিছু রাজ্যে মহিলা ক্রেতাদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হয়।
এরপর সম্পত্তির মান লিখুন এবং সেই মান অনুযায়ী আপনার রাজ্যে কত শতাংশ স্ট্যাম্প ডিউটি রয়েছে, সেটি আপনি ক্যালকুলেট করতে পারবেন খুব সহজেই। আপনি একটি তালিকা পেয়ে যাবেন যেখানে জমির মান অনুযায়ী চার্জের বিবরণ এবং শতাংশ লেখা রয়েছে।

যদি উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যায় তাহলে বলা যায়, যদি আপনার এলাকার circle rate প্রতি বর্গফুট ৫ হাজার টাকা হয়। আপনার সম্পত্তির আয়তন যদি ১০০০ বর্গফুট হয়। এদিকে আপনার সম্পত্তির মূল্য যদি ৫০ লক্ষ টাকা হয়, তাহলে রেজিস্ট্রেশন চার্জ ১ শতাংশ হবে।

ভারতে সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন চার্জ কীভাবে পরিশোধ করবেন : –

আপনি দুইভাবে পরিশোধ করতে পারেন অর্থাৎ অফলাইন এবং অনলাইন দুটি মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।
অফলাইনে পরিশোধ করতে হলে, জমিসংক্রান্ত সমস্ত তথ্য বা নথি আপনাকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে আপনার এলাকার সাব রেজিস্টার অফিসে জমা দিতে হবে।

অনলাইন মাধ্যমে করতে হলে আপনাকে আইজিয়ার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রথমে প্রবেশ করতে হবে।
এরপর বৈধ ই-মেইল আইডি সহযোগে একটি নতুন একাউন্ট তৈরি করতে হবে তারপর ইউজার আইডি দিয়ে লগইন করতে হবে।
এরপর যে পেজ আসবে তাদের নাগরিক অপশনে নির্বাচন করে, নতুন অর্থ প্রদান করুন অপশনে ক্লিক করে আপনাকে স্ট্যাম্প শুল্ক বা কর এবং রেজিস্ট্রেশন কর পরিশোধ করতে হবে। আপনি দুটো একসাথে পরিশোধ করতে পারেন আবার আলাদাভাবে পরিশোধ করতে পারবেন।
এরপর আপনার একটা আবেদনপত্র আসবে সেখানে আপনার জমিসংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে ইনপুট করতে হবে।
এরপর সমস্ত কিছু একবার যাচাই করে নিয়ে proced অপশনে ক্লিক করে, খসড়া চালানের বিবরণ উল্লেখ করতে হবে।
এরপর পেমেন্ট করে তার একটি রেফারেন্স প্রিন্ট আউট করে রাখবেন ভবিষ্যতের জন্য।
এরপর আবেদন পত্রের একটি স্লিপ এবং পেমেন্টের প্রিন্ট আউট নিয়ে নির্দিষ্ট তারিখে সাব রেজিস্টার অফিসে জমা দিন তাহলে আপনার রেজিস্ট্রেশন কর পরিষদ করা কমপ্লিট হবে।

উপরে বর্ণিত পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনি কোন জমি কেনার সময় খুব সহজেই জমি রেজিস্ট্রেশন ফ্রি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে কত পরিমাপ জমির জন্য বা কত টাকার সম্পত্তির ক্ষেত্রে কত শতাংশ কর আরোপ করা হবে সেটি জানতে পারবেন অনলাইন মাধ্যমে। এতে আপনার জমি রেজিস্ট্রেশন কর নিয়ে কোনোরকম দ্বিধায় বা ভুল ভ্রান্তির মধ্যে থাকতে হবে না।

Join Group Join Group