রাজ্য সরকার রাজ্যের জনসাধারণের জন্য যে সকল প্রকল্পের সূচনা করেছেন সেগুলির মাধ্যমে রাজ্যে জনসাধারণ অনেকটাই উপকৃত হয়েছেন। রাজ্য সরকার কন্যাদের জন্য একটি প্রকল্পের সূচনা করেছেন, যার মাধ্যমে আপনার যদি কন্যা সন্তান থাকে, তাহলে অনেকটাই আর্থিক ভাবে উপকৃত হতে পারবেন আপনি। কি কি শর্ত বা যোগ্যতা থাকতে হবে এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য? কীভাবে আবেদন করবেন এবং আবেদনের সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য জেনে নিতে হলে প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হয়ে থাকেন এবং আপনার ঘরে যদি কন্যা সন্তান থাকে, তাহলে কন্যা সন্তানের পড়াশুনা এবং উচ্চ শিক্ষার জন্য কোনো রকম চিন্তা এখন আর করতে হবে না। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এককালীন টাকা দেওয়া হচ্ছে এবং বছরে একটি অনুদান আপনি পেয়ে যাবেন আপনার কন্যা সন্তানের জন্য। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের নাম কন্যাশ্রী প্রকল্প।
যোগ্যতার মানদণ্ড : এই প্রকল্পে আবেদন করতে হলে কন্যার বয়স ১৩ বছর হতে হবে বা তার বেশি হতে হবে।
কন্যাকে ও তার পরিবারকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
আরোও পড়ুন : ভোটের আগে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের লিস্ট প্রকাশিত। কিভাবে দেখবেন আপনার নাম আছে কিনা?
অনুদানের পরিমাণ : ১৩ বছর বয়সি আবেদন করলে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত প্রত্যেক বছর ১০০০ টাকা করে দেওয়া হবে আবেদনকারীর ব্যাংক একাউন্টে। কন্যা সন্তানের বয়স ১৮ বছর পার হয়ে গেলে এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে উচ্চ শিক্ষার জন্য। এরপর কন্যা সন্তানের বিবাহ উপযুক্ত হলে, রাজ্য সরকারের রূপশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে আবেদন করলে আরেকবার এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। অর্থাৎ আপনার বাড়িতে কন্যা সন্তান থাকলে উচ্চশিক্ষা এবং বিয়ে বাবদ আপনি 50000 টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া বছরে ১ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে আপনার বাড়িতে কন্যা সন্তান থাকলে তার উচ্চশিক্ষা এবং বিয়ে নিয়ে কোনোরকম চিন্তা অভিভাবকদের থাকবে না বললেই চলে।
আবেদন পদ্ধতি : কন্যাশ্রী প্রকল্পের জন্য আলাদা করে কোনো আবেদন করতে হয় না। একজন ছাত্রী যে স্কুলে পড়াশোনা করে, সেই স্কুলের তরফ থেকেই আবেদনপত্র পূরণ করে দেওয়া হয়, তবে বিয়ের জন্য রূপশ্রী প্রকল্পে আবেদন করতে হলে বিডিও অফিসে গিয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সেটি পূরণ করে ডকুমেন্ট সহযোগে জমা দিতে হয়।
রাজ্য সরকারের এই দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে কন্যা সন্তানের জন্য অভিভাবকদের চিন্তা অনেকটাই কমে গিয়েছে, বলা যায় মুক্ত হতে পেরেছেন। এখনো পর্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে অনেক কন্যা সন্তানের বাবা মায়েরা পড়াশোনা করাতে অনিচ্ছুক থাকেন, তাদের জন্য এই কন্যাশ্রী প্রকল্প অনেকটাই কন্যা সন্তানদের পড়াশুনা ও উচ্চ শিক্ষার আলোতে আলোকিত করতে সাহায্য করবে।