এতদিন পর্যন্ত এসএসসি দুর্নীতি নিয়ে উত্তাল হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। কিন্তু এইবার পৌরসভার নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে চার্জশিট জমা করলো সিবিআই। ৮টি পৌরসভার মধ্যে ৬০০ টেরই বেশি চাকরি বেআইনিভাবে নিয়োগ হয়েছে এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানার জন্য প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
২০২৩ সালের ২১শে এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় পৌরসভার নিয়োগ এবং দুর্নীতি রয়েছে, এমনটাই অভিযোগ করে এফআইআর করেন এবং সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সেই সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট জমা করলো সিবিআই। এই চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে IAS জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়কে দেখানো হয়েছে। কারণ নিয়োগ দুর্নীতির সময় তিনি ছিলেন DLB বিভাগের ডিরেক্টরের পদে। সেই সময়কার মোট ৮ টি পৌরসভার ৬০০ টির বেশি চাকরি বেআইনিভাবে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয় চার্জশিটে। এই ৮ টি পৌরসভার মধ্যে রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর সহ অন্যান্য। এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতোমধ্যে ইডি আধিকারিকরা, একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়িতে ও অফিসে গিয়ে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিলেন, কিন্তু সে সমস্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম চার্জশিটে উল্লেখ করতে দেখা যায়নি। আলিপুরের সিবিআই স্পেশাল কোর্টে যে চূড়ান্ত চার্জশিট জমা পড়েছে সেখানে শুধুমাত্র IAS জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। শুধুমাত্র অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে তাকে এবং অয়ন শীলের সংস্থা ABS ইনফোজোন প্রাইভেট লিমিটেড উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতির সময় যে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ছিলেন, তাদের নাম উল্লেখ করেননি কেন চার্জশিটে, সেটাই প্রশ্ন উঠছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনের সেক্রেটারি পদে নিযুক্ত রয়েছেন।
আরোও পড়ুন : ভুটানে পেট্রোলের দাম অর্ধেক ভারতের তুলনায়, ভারত থেকে ভুটানে যাচ্ছে বহু গাড়ি, জেনে নিন বিস্তারিত!
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় পৌরসভার নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করার দায়ভার সিবিআই এর হাতে দেয়। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের বিরোধিতা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় পুনঃবিবেচনার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্ভুক্তি স্থগিতাদেশ দিয়েছিল সেই মামলায়। তারপর ওই মামলা আবার কলকাতা হাইকোর্টে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে এই মামলা স্থানান্তরিত করা হয় বিচারপতি অমৃতা সিনার এজলাসে। এবং সেই বিচারপতি পৌরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করার জন্য দায়িত্বভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেয়।
মজদুর, ক্লার্ক, পিয়ন, অ্য়াসিস্ট্যান্ট, ড্রাইভার প্রত্যেকটি পদে ঘুস নিয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে 2014 সালের পর থেকে বিভিন্ন পৌরসভায় কীভাবে নিয়োগ হয়েছে, কতজন নিয়োগ হয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নিয়োগ হয়েছে কিনা, কোন পদ্ধতিতে নিয়োগ হয়েছে, কোন কোন প্রার্থীকে বাছাই করা হয়েছিল, কীসের ভিত্তিতে বাছাই করা হয়েছিল এবং গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারা অংশ নিয়েছিলেন এ সমস্ত বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছে সিবিআই আধিকারিকরা। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন পৌরসভায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে এবং সম্পূর্ণ তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি অর্থাৎ সিবিআই।
এখন দেখার পালা এটাই, তদন্তে কী চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে কিনা এবং সেই অভিযোগ সত্যি কিনা সেটাই দেখার পালা। যদি টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়, তাহলে চাকরি প্রার্থীদের পরবর্তী ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে সেটাও প্রশ্ন উঠে আসছে, সব মিলিয়ে তদন্তের দিকে চোখ রয়েছে প্রত্যেকের।