লক্ষীর ভান্ডার, বার্ধক্য ভাতা সহ অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কত টাকা করে বাড়তে চলেছে? জানুন বিস্তারিত!

নতুন বছর সূচনা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যবাসী জন্য সুখবর দিল রাজ্য সরকার। লক্ষীর ভান্ডার, বার্ধক্য ভাতা সহ একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে রাজ্য সরকার ভাতার পরিমাণ বাড়াতে চলেছে এমনটাই ঘোষণা করল মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। কবে থেকে এই ভাতা বৃদ্ধি পাবে? ভাতার পরিমাণ কোন কোন প্রকল্পে কত বাড়ানো হলো এই সম্পর্কে জানতে হলে সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি পড়ে ফেলুন।

রাজ্য সরকার রাজ্যে জনগণের জন্য একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সূচনা করেছেন। এ প্রকল্প গুলো মূলত সূচনা করা হয়েছে আর্থিকভাবে সচ্ছল নয় এমন পরিবারদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোর জন্য। বিগত বছরগুলিতে এই সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পেয়ে নিম্ন ও দরিদ্র পরিবার গুলোর মুখে অনেকটাই হাসি ফুটেছে এবং তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। কিন্তু যেভাবে প্রতিনিয়ত মুদ্রাস্ফীতি ঘটছে অর্থাৎ জিনিসপত্রের দাম বাড়তে চলেছে, সেই অনুযায়ী ভাতার পরিমাণ কিন্তু বছরের পর বছর একই রয়েছে। এই জন্য নতুন বছর পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য সরকার নিম্ন ও দরিদ্র পরিবার গুলোর আর্থিক অবস্থার কথা চিন্তা করে ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প :

বিগত বছরগুলোতে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প সব থেকে জনপ্রিয় প্রকল্প হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিম্নদরিদ্র পরিবারের মহিলাদের প্রত্যেক মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতা প্রদান করা হয়। জেনারেল ক্যাটাগরি ও তপশিলিদের জন্য মাসিক ১০০০ ও ১২০০ টাকা করে ব্যাংক একাউন্টে দেওয়া হয়। অনেক বছর ধরে একই পরিমান ভাতা দেওয়ার পর 2026 সালে জানা যাচ্ছে ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হতে পারে। জেনারেল ক্যাটাগরিদের ১৫০০ টাকা বা ১৮০০ টাকা দেওয়া হতে পারে এবং তপশিলি উপজাতিদের ভাতার পরিমাণ ১৮০০ বা ২০০০ করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। আর্থিক ভাতার পরিমান বাড়লে মহিলাদের অনেকটাই উপকৃত হবে কারণ অনেকেই এই টাকা দিয়ে ছোট ব্যবসা শুরু করেছেন এবং পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছেন তাই এই ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি হলে মহিলাদের আরো অনেকটাই আর্থিক উন্নতি হবে।

বার্ধক্য ভাতা :

রাজ্যের বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এই ভাতা অনেকটাই উপকার দিয়েছে। অনেক বয়স্ক মহিলা ও পুরুষদের বার্ধক্যের সময় রাজ্য সরকারের দেওয়া এই প্রকল্পের টাকা চিকিৎসার ক্ষেত্রে ও খাওয়ার খরচ জোগাতে সাহায্য করেছে। এতদিন পর্যন্ত এই প্রকল্পে মাসিক ভাতা হিসাবে দেওয়া হতো ১০০০ টাকা। জানা যাচ্ছে ২০২৬-এ আরো ৫০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে এই প্রকল্পের ভাতার পরিমাণ করা হতে পারে ১৫০০ টাকা করে। এটা যদি করা হয় তাহলে রাজ্যের বয়স্ক ব্যক্তিদের আরো অনেকটা আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পাবে। মূলত বার্ধক্য ভাতা বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে। কারণ অন্যান্য রাজ্যে বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে তাই জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এই ভাতা বাড়ানোর দিকেই অগ্রসর নিচ্ছে।

অন্যদিকে আদিবাসী প্রকল্প অর্থাৎ জয় জোহার প্রকল্পেও ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন পর্যন্ত এই প্রকল্পে ভাতা হিসেবে দেওয়া হতো মাসিক ১০০০ টাকা। কিন্তু আদিবাসী পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করে এক লাফে ৮০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে এই নতুন বছর থেকে।

শুধুমাত্র এই তিনটি প্রকল্পই নয় এছাড়াও অন্যান্য রাজ্য সরকারি প্রকল্প যেমন লোকপ্রসার প্রকল্প, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এছাড়া অন্যান্য প্রকল্পের ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হতে পারে নতুন বছরে।
তবে যে সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া গ্রাহকদের জয়েন্ট একাউন্ট রয়েছে সে সমস্ত গ্রাহকদের ভাতার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নতুন বছরে ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হলে নতুন করে আয় এর শংসাপত্র হিসাবে নথি দিতে হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন বছরে যদি ভাতার পরিমাণ বিভিন্ন রাজ্য সরকারি প্রকল্পের বাড়ানো হয় তাহলে রাজ্যের নিম্ন ও দরিদ্র পরিবারের ব্যক্তিদের অনেকটাই আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পাবে ও সামাজিক স্তরে উন্নয়ন ঘটবে।

Join Group Join Group