কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক কিস্তওয়াড়ে চন্দ্রভাগা নদীর উপর ২০৬০ মেগাওয়াটের দুলহস্তি স্টেজ টু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সবুজ সংকেত ইতিমধ্যে দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তারপর থেকেই পাকিস্তান নয়াদিল্লিকে এই বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কিন্তু কেন? জেনে নেওয়া যাক এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
চন্দ্রভাগা নদীর উপরে নতুন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ নিয়ে ভারত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক যদিও সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছে কিন্তু বাঁধ সেধেছে পাকিস্তান।
এই বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদের তরফে একটি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ভারতকে।
প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি ভেঙেই ভারত পশ্চিমমুখী নদীগুলির উপর এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করতে চেয়েছেন। কিন্তু পাকিস্তানের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত যদি পশ্চিম মুখী নদীগুলির উপর জলবিদ্যুৎ নির্মাণের জন্য দখলদারি কায়েম করতে আসে তাহলে যে কোনো অবস্থাতেই আটকানো হবে ভারতকে। এমনটাই হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ।
ডিসেম্বরের শেষ পর্বেই প্রকল্প নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পরিবেশ মন্ত্রক বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন কমিটি। এই প্রকল্পের মোট খরচ বরাদ্দ করার কথা রয়েছে আনুমানিক ৩২০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই টেন্ডার নেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। অথচ এরমধ্যেই ইসলামাবাদ থেকে হুঁশিয়ারি এসেছে এই কাজ বরবাদ করার।
গত বৃহস্পতিবার যে বৈঠক হয়েছিল, সেই বৈঠকে উপস্থিত বিদেশি দপ্তরের মুখপাত্র তাহির হোসেন আন্দ্রাবি জানিয়েছিলেন, সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন গুলোর মাধ্যমে চন্দ্রভাগা নদীর উপর নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ নিয়ে ভারতের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা গেলেও এই বিষয়ে পাকিস্তানকে কোনো বিষয়ে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। জলবিদ্যুৎ নতুন প্রকল্প নিয়ে কোনো তথ্য পাকিস্তানিকে জানানো হয়নি। ভারত পশ্চিমমুখী কোন নদীতে একতরফা ভাবে কোন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করতে পারবে না। কারণ এর ফলে সীমাবদ্ধ অনুমতির অপব্যবহার করা হবে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু এবং তৎকালীন তৎ প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খানের সিন্ধু নদীর জল বণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি সাইন করেছিল। পাকিস্তানের করাচি শহরে এই চুক্তিপত্র সাইন করেছিলেন পন্ডিত নেহেরু। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছিল, পূর্ব দিকে তিনটি নদী অর্থাৎ বিপাশা, ইরাবতী ও শতদ্রুর জলের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের। অন্যদিকে পশ্চিমমুখী নদীগুলি যেমন সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তার জল ব্যবহার করতে পারবে পাকিস্তান। এর ফলে হিন্দু এবং তার শাখা ও উপনদী মিলিয়ে 30% ভারত পাবে এবং ৭০ শতাংশ পাকিস্তান পাবে। এমনটাই নির্ধারিত হয়েছিল সিন্ধু জল বন্টন চুক্তিতে। তবে চুক্তিতে এটাও উল্লেখ ছিল যে পশ্চিম মুখী তিন নদীর জলের উপর অধিকার ভারতের না থাকলেও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনোরকম বাধা ভারতের থাকবে না। সেই জন্য ওই চুক্তি অনুযায়ী অতীতে পশ্চিমবঙ্গের তিন নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করেছে ভারত। আর সম্প্রতি সেই তিন নদীর জলের উপর জলবিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন।
কিন্তু পহেলগাও হত্যাকাণ্ডের পর পশ্চিমমুখী নদীগুলোর উপর যে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, তার স্লুইস গেট বন্ধ করে জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে নয়াদিল্লি। সেই সময় থেকেই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামাবাদ। ঠিক এর পরই জলবিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে যখন কাজ শুরু করার কথা উঠছে, ঠিক সেই সময় গত বৃহস্পতিবার বৈঠকে পাক বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের হিন্দু জল কমিশনার ভারতের কাছে দুলহস্তী স্টেজ-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছেন। এই তথ্য তারা ভালো করে আগে বিচার বা যাচাই করবেন, তারপরেই ভারত জলবিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিজে যেতে পারবেন কিনা সেটা বলা যাবে। আপাতত ভারতকে জলবিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসলামাবাদ।