বাংলার আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের জন্য বড় সুখবর! রাজ্য সরকারের “বাংলার বাড়ি 2026 প্রকল্পের” দ্বিতীয় পর্যায়ে এখন নতুন করে কাজ শুরু। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর এই স্বপ্নের প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার পরিবার এবার বাংলার বাড়ি পেতে চলেছেন। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত উপভোক্তাদের জন্য আর্থিক সাহায্য প্রদান শুরু হবে। নতুন বছরের জানুয়ারি দ্বিতীয়-তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে টাকা ব্যাঙ্ক একাউন্ট-এ ঢুকবে। এরফলে পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ পরিবারের পাকা বাড়ির স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।
প্রকল্পের গুরুত্ব : “বাংলার বাড়ি প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাংলা আবাস যোজনা যা গত ২০২৪ সালে সূচনা হয়। ১৯৮৪ সালে কেন্দ্রের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সরকার দেশের গরীব মানুষের মাথায় পাকা বাড়ি তৈরির জন্য শুরু করেছিলেন ইন্দিরা আবাস যোজনা। সাধারণ মানুষের মধ্যে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠে এই প্রকল্প।২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় এসে এই প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করেন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প চলতো। কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়। সমস্যায় পড়েন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ আর্থিক ভাবে দুর্বল শ্রেনীর মানুষ। রাজ্যের মানুষের প্রতি কেন্দ্র সরকারের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের সম্পূর্ণ আর্থিক উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মাথায় ছাদ তৈরির জন্য এই প্রকল্প শুরু করেন। গরীব মানুষের মাথায় পাকা ছাদ তুলে দেওয়ার জন্য ১.২ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে কয়েক লক্ষ মানুষ বাড়ি তৈরি টাকা পান। তাদের বাড়ি নির্মাণের কাজও সম্পূর্ণ হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতোই ২০২৬ ভোটের আগে দ্বিতীয় পর্যায়ের টাকা পেতে চলেছেন পরবর্তী লক্ষাধিক মানুষ।
নতুন লিস্ট :
যে সমস্ত মানুষ এই প্রকল্পে আবেদন করেছেন তারা খুব শীঘ্রই নতুন লিস্ট দেখতে পাবেন। বিধানসভা ভোটের আগে বিরাট সুবিধা পেতে চলেছেন আবেদনকারীরা। সফল ও যোগ্য গ্রাহকেরা ব্যাংক একাউন্টে ঘর নির্মাণের টাকাও পেয়ে যাবেন। বাড়ি নির্মাণের জন্য সরকারি আর্থিক অনুদানের নবতম সংযোজন এই বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে রাজ্যের গরীব মানুষ।
আরোও পড়ুন : কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু! স্ট্যাটাস চেক করবেন কিভাবে? জেনে নিন বিস্তারিত।
এই প্রকল্পের ২০২৬ আপডেটেড PWL লিস্টের উপভোক্তাদের জন্য কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। আগে এই লিস্টের প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষের নাম ছিল। তার সাথেই আরও ৫০ হাজার নতুন উপভোক্তার নাম যুক্ত হয়েছে। এই নতুন উপভক্তারা পঞ্চায়েত, বিডিও অফিস বা হেল্পলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন। নবান্ন সূত্রে খবর জানুয়ারির দ্বিতীয়- তৃতীয় সপ্তাহে টাকা ছাড়ার ব্যাপক সম্ভবনা আছে। শেষ মুহূর্তের বাছাই চলছে যাতে সম্পূর্ণ নির্ভুল ও যোগ্য মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পান।
লিস্ট চেক করার পদ্ধতি : এই প্রকল্পের লিস্ট চেক আপনি এখন অফলাইনে করতে পারবেন। এখনও অনলাইন সুবিধা দেওয়া হয়নি। এই জন্য প্রথমে আপনার পঞ্চায়েত অফিসে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে তালিকা দেখে নিন কিংবা পঞ্চায়েত কর্মীদের থেকে জেনে নিন। তবে সর্বশেষ ভেরিফিকেশনের জন্য আপনার রেজিষ্টার মোবাইল নম্বরে কল আসতে পারে। এমনকি আগামীদিনে অনলাইন পোর্টালে সুবিধা আসতে পারে, যেখানে নিজের নাম দেখতে পাবেন। খুব সম্ভবত আপনার মোবাইলে এসএমএসও আসতে পারে। তবে, নতুন লিস্ট নিয়ে কৌতুহল থাকলে এখনই পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে নিজের নাম আছে কিনা দেখে নিন।
কবে টাকা পাবেন?
রাজ্য সরকার সূত্রে খবর দ্বিতীয় পর্যায়ের আর্থিক সাহায্য উপভক্তাদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আসবে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের শুরুতে প্রথম লট টাকা ছাড়া হবে। তার আগে শেষ বারের জন্য নাম, ঠিকানা, ব্যাঙ্ক ডিটেলস যাচাই করা চলছে। এই প্রকল্প নিয়ে কোন দুর্নীতি ও ত্রুটির সুযোগ রাখতে চায়না সরকার। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য কোন কোনো মধ্যস্থতাকারী বা রাজনতিক নেতাকে ধরার প্রয়োজন নেই। আপনি যদি যোগ্য হন এবং সঠিক তথ্য দিয়ে থাকেন তাহলে টাকা পেতে দেরি হবে না।
এই প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে আছেন রাজ্যের কয়েক লক্ষ দুর্বল শ্রেনীর মানুষ। এই প্রকল্প তাদের পরিবারের জীবন বদলে দেবে। নিজেদের মাথায় পাকা বাড়ির ছাদের সুরক্ষা পাবেন। তবে তাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকলে খুব শীঘ্রই মোবাইলে মেসেজ আসবে। আপনার শখ পূর্ণ হওয়ার খবর সুনিশ্চিত হবে। তারপর নির্দিষ্ট সময়ে একাউন্টে টাকা পেয়ে যাবেন। তারপর শুরু হবে আপনার সুখের বাসা নির্মাণ।