লটারি কাটছেন কি? হতে পারে সমূহ বিপদ! লটারি টিকিট নিয়ে তল্লাশি অভিযানে CID

বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে লটারি টিকিট কাটার একটা আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই একলাফে ধনী হওয়ার জন্য সব থেকে উৎকৃষ্ট পন্থা, লটারি টিকিট কাটাকে পছন্দ করে থাকে। তবে রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে জাল লটারির কারবার। এই জাল লটারির কারবার ধরার জন্য তল্লাশি অভিযানের নেমেছে CID। ব্যাপারটি সম্বন্ধে আরও বিস্তারিত জানার জন্য প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

দক্ষিণবঙ্গে বেশ কিছু জেলাতে জাল লটারির কারবার ধরা পড়েছে। ইতিমধ্যে সিআইডি অভিযান চালিয়ে কিছু নকল টিকিট ও সামগ্রী সংগ্রহ করেছে। এর সাথে কিছু অসাধু চক্রের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে যারা অনেকদিন ধরেই এই জাল লটারির কারবার চালিয়ে আসছে।

হাওড়া, হুগলি, পুরুলিয়া ও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলাতে নকল লটারি সহ লটারি বিক্রেতাদের ধরা হয়েছে। যে লটারি গুলো পাওয়া গিয়েছে সেগুলো বেশিরভাগই ভিন রাজ্যের। তবে এই লটারি গুলো কাটার জন্য ক্রেতাদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে মোটা টাকা লোভ দেখিয়ে। অনেক সাধারণ মানুষ মোটা টাকা পাওয়ার লোভে নকল টিকিট সংগ্রহ করছে।

এমনকি ভুটানের লটারি টিকিট পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায়। বিভিন্ন খেটে খাওয়া মানুষ অনেক টাকা দিয়ে এই লটারির টিকিট কিনছে। কিন্তু কোনো প্রকার লাভ তাদের হচ্ছে না, বরং লটারি কেনার টাকা সংগ্রহ করে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জাল লটারি টিকিট কারবারীর পান্ডারা। অনেকদিন ধরেই এই ব্যাপারটি প্রশাসনের নজরে আসার পরে জেলায় জেলায় ঘুরে জাল লটারি সংগ্রহ করে এদের ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিআইডিদের।

সিআইডি লটারির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা দেখেন, দক্ষিণবঙ্গের বর্ধমান, পুরুলিয়া, হাওড়া, বীরভূম সহ ৮ টি জেলায় এরকম কারবার চলছে অনেক দিন ধরে। এই লটারির টিকিট বিক্রি হচ্ছে 50, 100, 200 টাকা। এদের মধ্যে ১০ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের নামে বেআইনির জাল টিকিট কারবারের কেস রুজু করা হয়।

ধৃতদের জেরা করে জানা যাচ্ছে, বেশ কয়েকটি রাজ্যের এই মুহূর্তে লটারির টিকিট বিক্রি করা বন্ধ রয়েছে, তার জন্য সে সমস্ত রাজ্যের টিকিট বেআইনি ভাবে ছাপিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক সাধারণ মানুষ এ সম্বন্ধে না জেনেই এই ফাঁদে পা দিচ্ছে। তারা তাদের সর্বস্ব খুইয়ে এর টিকিটগুলো কিনে নিয়ে যাচ্ছে অনেক টাকা দামে কিছু মোটা টাকা লাভের আশায়। তবে এখনো পর্যন্ত আসল যারা এই বেআইনি চক্রের সাথে যুক্ত হয়েছে অর্থাৎ মূল পান্ডাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। জাল টিকিট বিক্রির বেআইনি চক্রের মূল পান্ডাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে সিআইডি। যে সমস্ত জায়গায় এই জাল টিকিট কারবার হচ্ছিল, অনেকদিন ধরে সেগুলোকে বন্ধ করা হয়েছে।
এজন্য সাধারণ মানুষকে সিআইডির তরফ থেকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে এইরকম কোনো বেআইনি জাল টিকিট বিক্রিতাদের কাছ থেকে টিকিট কেনা থেকে বিরত থাকতে। কেউ যদি লটারি টিকিট কিনে থাকে তাহলে অনেক খোঁজ খবর ও প্রমাণ নিয়েই লটারির টিকিট কাটতে বলা হচ্ছে।

Join Group Join Group