রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মধ্যে পড়ুয়াদের জন্য সূচনা করা তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প একটি অভিনব প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের পড়াশোনার সুবিধার জন্য ট্যাব কিনতে টাকা দেওয়া হয়। যদিও এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের এই টাকা দেওয়ার ব্যাপারে অনেক রকম অসুবিধা সম্মুখীন হতে হয়। এখনো পর্যন্ত এই বছরের ২০২৫ সালের একাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের টাকা ঢোকেনি ব্যাংকে। তবে শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের অনুদান নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সুখবর দিলেন। দেখে নেওয়া যাক, কবে নাগাদ ঢুকতে চলেছে পড়ুয়াদের ব্যাংক একাউন্টে তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পের টাকা।
২০২৪ সালে তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পের টাকা জালিয়াতি ও অন্যদের একাউন্টে চলে যাওয়ার মতন বিভ্রান্তিকর ঘটনা ঘটে। প্রকৃত পড়ুয়ারা তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পের টাকা পাওয়া থেকে বিরত থাকেন। তবে সে সমস্ত সমস্যা যাতে এই বছর ফিরে না আসে তার জন্যই বিভিন্ন রকম যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা করেই নির্দিষ্ট পড়ুয়াদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠানোর বন্দোবস্ত করা হয়। আর মূলত তার জন্যই ২০২৫ সালে একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকতে অনেকটাই দেরি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার স্টুডেন্ট উইক সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ১০ হাজার টাকা ব্যাংক একাউন্টে পাঠানোর বড় আপডেট দিয়ে দিলেন শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
গত বছর তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পের টাকা না পাওয়ায় এই বছরেও পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢোকা নিয়ে একটা চিন্তা ছিল। অবশেষে সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটলো শিক্ষা মন্ত্রীর ঘোষণার মাধ্যমে। গত বৃহস্পতিবার দিন খেলাধুলায় ভালো ফল করার জন্য দুপুর বারোটার সময় যখন শিক্ষামন্ত্রী পুরস্কৃত করছিলেন, ঠিক তখনই জানিয়ে দেওয়া হয় একাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার 10 হাজার টাকা ব্যাংক একাউন্টে ৮ জানুয়ারি থেকেই ঢুকতে শুরু করবে। তবে সমস্ত পড়ুয়াদের একদিনে টাকা ঢুকবে না। কয়েকদিন ধরে এই প্রসেস চলবে। এর আগেও বলা হয়েছিল, জানুয়ারি মাসের মধ্যে প্রত্যেক একাদশ শ্রেণীর পড়ুয়ার ব্যাংক একাউন্টে ট্যাব কেনার অনুদান চলে যাবে। ঠিক সেরকমই, রাজ্যের ৬ লক্ষ একাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বৃহস্পতিবার থেকে কেনার 10 হাজার টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। এই ৬ লক্ষ পড়ুয়ার ব্যাংক একাউন্টে টাকা আনার জন্য মোট খরচ হতে চলেছে ৮৫০ কোটি টাকা।
আরোও পড়ুন : ৫ জেলায় শৈত্য প্রবাহের সতর্কবার্তা, নিম্নচাপের জেরে আরও পারদ-পতন দক্ষিণবঙ্গে।
তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পের লক্ষ্য : রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্য, সরকারি ও সরকার অধিকৃত স্কুল এবং মাদ্রাসা স্কুলের একাদশ শ্রেণীর করুয়াদের জন্য ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয় ট্যাব বা স্মার্টফোন কেনার জন্য। বিশেষ করে, ডিজিটাল শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার জন্য এবং শিক্ষার মান উন্নত করার জন্যই এই টাকা বরাদ্দ করা হয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে।
টাকা দেরিতে দেওয়ার কারণ : ২০২৫ সালে আবেদন প্রক্রিয়ায় একটু দেরি করে শুরু হয়েছে, যার জন্য ভেরিফিকেশন প্রসেস করতে অনেকটা সময় লেগে গেছে। অন্যদিকে ২০২৪ এর ঘটনার পর এই বছর আর ২০২৫ সালে যাতে সঠিক ও প্রকৃত পড়ুয়াদের একাউন্টে টাকা ঢোকে, তার জন্যই ভেরিফিকেশন এবং সিকিউরিটি প্রসেস ওপর আরও বেশি নজর ও সর্তকতা অবলম্বন করা হয়েছে।
এই বছর চালু করা হয়েছে আধার অথনটিকেশন প্রসেস এবং ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরাই কোটালের লগইন করে ব্যাংক ডিটেলস চেক করতে পারবেন, এবং তার জন্য চালু করা হয়েছে সেল্ফ ডিক্লারেশন সিস্টেম।
৮ জানুয়ারি থেকে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকের টাকা একই দিনে ঢুকবে না। প্রথমে জেলাভিত্তিক টাকা পাঠানো হবে, তারপর সেখান থেকে স্কুলে টাকা পাঠানো হবে। ব্যাংকে টাকা পৌঁছাতে ১ থেকে ২ দিন সময় লাগতে পারে। যে সমস্ত পড়ুয়াদের ব্যাংকে টাকা ঢুকেছে তাদের প্রত্যেকের ফোন একটি করে মেসেজ পাঠানো হবে।
২০২৫ সালের একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ব্যাংক একাউন্টে অনেক দেরিতেই টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। অন্যান্য বছর যেখানে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকেছে, সেখানে এই বছর জানুয়ারি মাস হয়ে গেছে টাকা ঢুকতে। অবশেষে সমস্ত পড়ুয়াদের চিন্তার অবসান ঘটেছে। তবে 2025 সালে প্রত্যেক প্রকৃত পড়ুয়াদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢোকায় কোনোরকম জটিলতা আসেনি, যেটা অনেকটাই সুখবর। বলা যায়, এই বছর ভেরিফিকেশন এবং সিকিউরিটি প্রসেস জোরদার করায় সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সাথে হয়েছে।