মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের জনসাধারণের জন্য যেরকম বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সূচনা করেছেন ঠিক তেমনি পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য স্কলারশিপের সূচনা করেছেন। এই বিশেষ স্কলারশিপ ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ নামে পরিচিত। সব থেকে বড় খবর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় আরো দশ গুণ বাজেট বৃদ্ধি করা হচ্ছে ঐক্যশ্রী স্কলারশিপে। আপনিও যদি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে পড়েন তাহলে আপনার জন্য এই প্রতিবেদনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। প্রতিবেদনের মাধ্যমে জেনে নিন কিভাবে ঐক্যশ্রী স্কলারশিপে আবেদন করবেন, এই স্কলারশিপে আবেদনের জন্য কি প্রয়োজনীয় যোগ্যতা রয়েছে এবং কত টাকা পর্যন্ত বৃত্তি প্রদান করা হয় ও আরো অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে।
ঐক্যশ্রী স্কলারশিপের লক্ষ্য:- মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মেধাবী ও দুস্থ পড়ুয়াদের জন্য যেমন বিভিন্ন স্কলারশিপ চালু করেছেন তার মধ্যে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের জন্য এক বিশেষ স্কলারশিপ এনেছেন যার মাধ্যমে সংখ্যালঘু শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা যাতে আর্থিক অভাবে পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে না পড়ে এবং তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে এই স্কলারশিপ চালু করা হয়েছে।
বাজেট ঘোষণা:- ২০১০ সালে প্রথম ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ চালু করা হয়েছিল। ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষে ৪৭২ কোটি টাকা খরচা করা হয়েছিল ঐক্যশ্রী স্কলারশিপে। সেখান থেকে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৫৬০২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১০,২০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এতগুলো বছরে ৪ কোটি ৮৫ লক্ষ সংখ্যালঘু ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ এর মাধ্যমে বৃত্তি পেয়েছে। আরো দশ গুণ বাজেট বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে মুখ্যমন্ত্রী। যার ফলে ঐক্যের স্কলারশিপ এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পড়ুয়ারা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে পারবেন।
যে সমস্ত পড়ুয়ারা এখনো পর্যন্ত এই স্কলারশীপে আবেদন করেননি, তাদের জন্য রইল আবেদনের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত:-
১) এই স্কলারশিপ এ আবেদন করতে হলে পড়ুয়াকে অবশ্যই সংকলঘু সম্প্রদায়ের পড়ুয়া হতে হবে।
২) পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
৩) নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে এবং আধার কার্ডের সাথে লিংক থাকতে হবে।
৪) পূর্ববর্তী পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাস করতে হবে।
৫) সরকার বা সরকার প্রদত্ত স্কুলে পড়াশোনা করতে হবে।
৬) প্রিম্যাট্রিক কলারশিপ এর জন্য আবেদন করতে হলে পারিবারিক আয় ২ লক্ষ টাকার কম থাকতে হবে। পোস্ট ম্যাট্রিক স্কলারশিপ এর জন্য আবেদন করতে হলে পারিবারিক ২.৫ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
উপরের এই যোগ্যতা গুলো পূরণ করলে তবেই আপনি আবেদন করতে পারবেন ঐক্যশ্রী স্কলারশিপে।
অনুদানের পরিমাণ:– ঐক্যশ্রী স্কলারশীপে অনুদানের পরিমাণকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রি মেট্রিক স্কলারশিপ বিভাগে ফেলা হয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত মাসিক ১১০০ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হয়। এরপরে শ্রেণী ওপর নির্ভর করে বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো হয়। একাদশ, দ্বাদশ, কলেজ,স্নাতকোত্তর, আইটিআই কোর্স, ডিপ্লোমা কোর্স, d.el.ed, d.el.ed এই কোর্সগুলো পোস্ট ম্যাট্রিক স্কলারশিপের আওতায় পড়ে। এই স্কলারশিপের অনুদান ২৭৫০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়ে থাকে।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট:-
১) পূর্ববর্তী পরীক্ষার মার্কশীট
২) এডমিশন সার্টিফিকেট
৩) পারিবারিক আয়ের শংসাপত্র
৪) ব্যাংক একাউন্ট ডিটেইলস
৫) আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড
৬) পাসপোর্ট সাইজ ফটো
৭) জাতিগত শংসাপত্র
আবেদন পদ্ধতি:- আবেদন করার জন্য পড়ুয়াকে সর্বপ্রথম রাজ্য সরকারের ঐক্যের স্কলারশিপের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট https://wbmdfcscholership.in/ এইখানে প্রবেশ করতে হবে। এরপর আপনি যদি প্রথম হয়ে থাকেন তাহলে ইমেইল আইডি ও মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর লগইন আইডি দিয়ে আবেদন পত্র সঠিকভাবে পূরণ করে ভালো করে একবার যাচাই করে উল্লেখিত ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। এরপরে সাবমিট করলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
যে সমস্ত সংখ্যালঘু শ্রেণীর পড়ুয়ারা এখনো পর্যন্ত ঐক্য স্কলারশিপে আবেদন করেনি তারা অবশ্যই উপরে বর্ণিত পদ্ধতি অবলম্বন করে আবেদন করুন এবং স্কলারশিপ এর সুবিধা নিয়ে পড়াশোনার লক্ষ্যকে স্থির রেখে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করুন।