শেয়ার বাজারের অস্বাভাবিক পতন! সেনসেক্স নেমে দাঁড়ালো ২১০০ পয়েন্টের নিচে, নিফটি ২ শতাংশের নিচে। শেয়ার বাজারের পতনের কারণ গুলো কি?

প্রায় 5 দিন ধরে ট্রেডিং সেশনে ইকুইটি বেঞ্চমার্ক সূচক অনেকটাই পতন ঘটেছে। নিফটি 50 থেকে বিএসই সেনসেক্স ২ পার্সেন্ট নেমে গিয়েছে। শেয়ার বাজারে এই অস্বাভাবিক পতনের জন্য বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এই কারণগুলোই আজকের আলোচনার মুখ্য বিষয়। জানতে হলে সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি পড়ুন।

শেয়ারবাজারের পতনের অন্যতম কারণ হিসাবে, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং সেই সাথে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের আরো বেশি করে চিন্তায় ফেলেছে।

গত ২ রা জানুয়ারি যেখানে বিএসই সেনসেক্স ৮৫,৭৬২,০১ থেকে নেমে এসেছে, শুক্রবারে ৮৩,৪০২,২৮ ইন্ট্রান্ডে হয়ে গেছে। অন্যদিকে এনএসই নিফটি শুক্রবারে নেমে এসেছে ৫০,২৫,৭০০ নীচে।
কিন্তু এখানে প্রশ্ন হচ্ছে হঠাৎ করে শেয়ার বাজার এতটা পতন হওয়ার কারণ কি? আজকের এই প্রতিবেদনে শেয়ার বাজার ধসে যাওয়ার কিছু কারণ সম্পর্কে আপনাদেরকে জানাতে চলেছি।

আরোও পড়ুন : সবুজ সাথী প্রকল্পে এইবার 12 লক্ষ পড়ুয়াকে দেওয়া হবে সাইকেল, আপনার নাম সেই তালিকায় আছে কিনা? জেনে নিন বিস্তারিত!

১) FII এর ব্যাপক বিক্রি : বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অব্যাহত বহির্গমনের ঘটনা শেয়ারবাজার ধসের অন্যতম কারণ। এর ফলে ইকুইটির ওপর চাপ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার দিন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৩,৩৬৭.১২ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। বিদেশি তহবিলের জন্যই বেঞ্চমার্ক সূচক অনেকটাই প্রভাবিত হয়েছে।

২) ট্রাম্পের শুল্কের হার : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্কের বৃদ্ধি নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা রেখে দিয়েছেন। দিল্লি যদি রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ক্রয় করতে ইচ্ছুক না থাকে, তাহলে ভারতীয় রপ্তানি উপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হতে পারে। এই ভয়টা ভারতের রয়েছে। কারণ রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল ক্রয় করা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব ও বিল অনুমোদন করা হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফে। যদিও মার্চ মাস থেকে দুই দেশের মধ্যে অনেকবার প্রায় ছয় দফা বৈঠক হওয়ার পরেও এই ব্যাপারে দ্বন্দ্ব এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। যদি আমেরিকার তৈরি করা সেই বিল আইনে পরিণত হয়, তাহলে রাশিয়ার তেলের ক্রেতাদের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ বসানো খুব সহজ হবে। এর ফলে রাশিয়ান তেল ক্রেতা যেমন চিন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশের কাছে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ভারত হলো রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। রাশিয়ার এই তেল কেনার জন্য ইতিমধ্যেই ভারতীয় পণ্যে ৫০% শুল্ক কর চাপিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। যদি ওই নতুন বিল কার্যকর হয়, তাহলে আরো শুল্ককর বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে স্টক মার্কেটে। আর এটিই হচ্ছে শেয়ার মার্কেট ধ্বসে পড়ার অন্যতম কারণ বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে।

৩) ভেনেজুয়েলার উত্তপ্ত পরিস্থিতি : আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে ভেন জুয়েলারি রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অনেকটাই উত্তেজনার। সেই দেশের তৈল ভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের মুখে। এর ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এর একটি প্রভাব পড়ছে। যার ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

৪) বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা : গত বছরে ট্রাম্পের ট্যারিড ঘোষণা হয়েছিল। যদি সেই ঘোষণা অনুযায়ী রাশিয়ান তেল কেনার জন্য আমেরিকার তরফ থেকে ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়, তাহলে আগামী দিনে বাণিজ্য যুদ্ধের পরিচিতি তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে শেয়ার মার্কেটে।

৫) বিদেশি বিনিয়োগকারী : বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির প্রবণতা খুব বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, তারা 19 শে মে ৫২৬ কোটি টাকার ভারতে দ্বিতীয়টি শেয়ার বিক্রি করেছিলেন। এছাড়া দেশীয় বিনিয়োগকারীরাও একই দিনে বিক্রেতার অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের শেয়ার বিক্রি করার পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৮ কোটি টাকা। এবং এই ঘটনা প্রথমবার দেখা গিয়েছে যেখানে বিদেশি এবং দেশীয় বিনয়নকারীরা বিক্রেতা পরিণত হয়েছে।

৬) হেভিওয়েট স্টকগুলিতে বিক্রির চাপ : হেভিওয়েট স্টকগুলিতে শেয়ার বিক্রির চাপ বেঞ্চমার্ক সূচকগুলিকে নীচের দিকে নামিয়ে দিয়েছে। এর ফলে HDFC Bank, Reliance Industries, ICICI Bank, M&M, মারুতি সুজুকি এবং বাজাজ ফিনান্সের মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ার প্রথম লক্ষ্য করা গিয়েছে।

৭) বাজার ডাউন : বৃহস্পতিবার এশিয়ার বিভিন্ন দেশ-সহ ইউরোপের বাজার অনেকটাই ডাউন রয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দালাল স্ট্রিটে। এছাড়াও কমোডিটি মার্কেটে পতনও সেনসেক্স ও নিফটি৫০-র উপরে চাপ বাড়িয়েছে।

সবমিলিয়ে এতটাই শেয়ার বাজারের পতন লক্ষ্য করা যায় না, যেটা গত পাঁচ দিনে হয়েছে। এরপরে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের অনেকটাই লস হয়েছে, যার ফলে তাদের মানসিক অবস্থা অনেকটাই খারাপ রয়েছে।

Join Group Join Group