বড় আপডেট! কৃষক বন্ধু প্রকল্পের নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু, কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন জানুন

রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে একটি অভিনব প্রকল্প হল কৃষক বন্ধু প্রকল্প। যে সমস্ত ব্যক্তির চাষযোগ্য জমি রয়েছে তাদের কৃষিকাজে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের মাধ্যমে অনুদান প্রদান করা হয়। কিন্তু যদিও কৃষক বন্ধু প্রকল্পের জন্য বিভিন্ন তথ্য দেওয়া হয় অফলাইন মাধ্যমে তবুও অনলাইন পরিষেবা দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে যার নাম মাটির কথা। 

এই মাটির কথা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে কি কি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে? 

কৃষক বন্ধু প্রকল্পে যারা আবেদন করেছেন বা আবেদন করবেন তারা এই পোর্টালের মাধ্যমে কৃষক বন্ধু প্রকল্প সম্পর্কে জানতে পারবেন, আবেদন করতে পারবেন ফার্ম মিশনারি সুবিধা পেতে পারবেন। বলা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি দপ্তরের একটি অভিনব উদ্যোগ হল এই ডিজিটাল পরিষেবা। এই ডিজিটাল পরিষেবার মাধ্যমে প্রত্যেকটি কৃষক কৃষিকাজ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান, তার সাথে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, কৃষিকাজ বা ফলন ভালো করার জন্য আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সম্পর্কে ধারণা, ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমস্যাগত কারণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসলের ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে তথ্য জানার সুযোগ পাবেন। 

মাটি এই কথাটি কৃষিকাজের সঙ্গে ওতপ্রতোভাবে জড়িত। মাটি ছাড়া কৃষিকাজ একদমই সম্ভব নয়। আর তার জন্যই কৃষকদের ডিজিটাল পরিষেবা দেওয়ার জন্য এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে মাটির কথা। এই মাটির কথা পোর্টাল ২০২৬ প্রকাশিত করা হয়ে থাকে এগ্রিকালচার ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে। 

মাটির কথা পোর্টালের মাধ্যমে কোন কোন সুবিধা দেওয়া হয় এক নজরে দেখে নেওয়া যাক: 

 ১) Soil Health Card অর্থাৎ মাটির স্বাস্থ্য কার্ড 

২) কৃষক বন্ধু প্রকল্প

৩) অনলাইন লাইসেন্স স্কিম

৪) বাংলা শস্য বীমা

৫) আবহাওয়ার তথ্য

৬) সুসংহত রোগপ্রকার নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

৭) কৃষি কাজের জন্য নতুন যন্ত্রপাতির ধারণা

আরোও পড়ুন: কৃষক বন্ধু ও যুবসাথী একসঙ্গে নিলে আইনি সমস্যা? সরকারের নতুন নিয়ম জানুন

মাটির কথা পোর্টালে কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন: 

মাটির কথা অনলাইন পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য সর্বপ্রথম মাটির কথার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.matirkatha.net এখানে প্রবেশ করতে হবে। এরপর নিজের নাম, আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং এড্রেস ইনপুট করুন। এগুলো সাবমিট করলেই আপনার একটি লগইন আইডি তৈরি হয়ে যাবে। তাহলে রেজিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে। 

মাটির কথা অনলাইন লাইসেন্স পাওয়ার জন্য কি করতে হবে? 

যে সমস্ত ব্যক্তি বা দোকানের মালিক চাষবাসের জন্য সার, কীটনাশক, ফসলের বীজ এগুলো বিক্রি করতে চাইছেন তারা সরকারের তরফে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য মাটির কথা অনলাইন লাইসেন্সে আবেদন করতে পারেন। মাটির কথা লাইসেন্সের মাধ্যমে এই সমস্ত ফসলের বীজ, সার, কীটনাশক বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হয়। কিভাবে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবেন জেনে নিন। 

মাটির কথা লাইসেন্স পাওয়ার জন্য কোন ডকুমেন্টগুলো লাগবে? 

১) প্যান কার্ড 

২) পাসপোর্ট সাইজ ফটো জেপিইজি ফরম্যাটে 

৩) ড্রাইভিং লাইসেন্স বা আধার কার্ড 

৪) খাজনার রশিদ 

৫) জমির দলিল

আবেদন করার আগে matirkatha.net বা www.matirkatha.gov.in এই ওয়েবসাইট খুলে আপনার লাইসেন্সের যে প্রয়োজন তার জন্য আবেদন করতে হবে। নিম্নে ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দেওয়া হলো। 

১) প্রথমে আপনাকে মাটির কথা যে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট matirkatha.net এখানে প্রবেশ করতে হবে।

২) এরপর “Online Licence System” এই অপশনে ক্লিক করুন। 

৩) এরপর দেখবেন আরেকটি নতুন পেজ আসবে যেখানে লেখা আছে Licence Category (Seed / Fertilizer / Pesticide) অর্থাৎ আপনি কোন দ্রব্য বিক্রি করার জন্য লাইসেন্স চাইছেন, আপনি যেটা বিক্রি করার জন্য লাইসেন্স চাইতেন সেটা নির্বাচন করুন। 

৪) সমস্ত তথ্য দেওয়া হয়ে গেলে ডকুমেন্ট বা নথি স্ক্যান করে আপলোড করুন। 

৫) এরপর একবার সব যাচাই করে সাবমিট অপশনে ক্লিক করুন এবং একটি অ্যাপ্লিকেশন নাম্বার পাবেন সেটি কপি করে প্রিন্ট আউট করে নিতে পারেন ভবিষ্যতের রেফারেন্স এর জন্য। 

আপনি যদি একজন কৃষক হয়ে থাকেন তাহলে মাটির কথা পোর্টালের যে ফোন নাম্বার রয়েছে, সেই নাম্বারে কল করেও কৃষিকাজ সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধান পেতে পারেন। টোল ফ্রি নাম্বারটি হল 1800-103-1100

অতএব আপনি যদি একজন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে কৃষক হয়ে থাকেন বা কৃষিজাত দ্রব্য বিক্রি করার জন্য লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষা করছেন তাহলে অবশ্যই মাটির কথা পোর্টালের মাধ্যমে এই সুবিধা গুলো গ্রহণ করুন।

Join Group Join Group