কৃষক বন্ধু প্রকল্পে নাম থাকলে যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন কি? আবেদনপত্র বাতিল হওয়ার আগে সঠিক নিয়মকানুন জেনে নিন!

রাজ্য সরকার ২০২৬ এর বাজেট ঘোষণার সময় ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য অর্থাৎ 21 থেকে 40 বছর বয়সী বেকার যুবকদের জন্য পাঁচ বছরের মেয়াদে ১৫০০ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। আর সেই অনুদান দেওয়া শুরু হবে পহেলা এপ্রিল থেকে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে ১৫ ই ফেব্রুয়ারি থেকে। প্রতিটি বিধানসভা ব্লকে একটি করে ক্যাম্প বসানো হয়েছে এবং সেখানেই আবেদন প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু অনেকেই এখনো পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারছেন না আবেদন করার সঠিক নিয়মকানুন। কৃষক বন্ধু প্রকল্পে যদি আপনার নাম নথিভুক্ত থাকে তাহলে কি আপনি যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন? এই বিষয়ে অনেকেই সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না। আজকের এই প্রতিবেদন আপনাকে সঠিক তথ্য দিতে চলেছে। জানতে হলে সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। 

যুব সাথী প্রকল্পের উদ্দেশ্য: রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছরের বেকার যুবকদের যারা মাধ্যমিক পাস উত্তীর্ণ, তারা যদি কোনরকম চাকরি না পেয়ে থাকে তাহলে তাদের প্রত্যেক মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অনুদান দেওয়া হবে। এই অনুদান দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো, যাতে বেকার যুবক যুবতীরা পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ থেকে শুরু করে পরীক্ষার যাতায়াত খরচ, বই কেনা ও বিভিন্ন কোচিংয়ে পড়ার খরচ বহন করতে পারে এই অনুদানের মাধ্যমে। অর্থাৎ চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা করার উদ্দেশ্যই হল যুব সাথী প্রকল্পের মূল উদ্যোগ। 

যদিও রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যদি কোন ছাত্র বা ছাত্রী স্কলারশিপের বৃত্তি পেয়ে থাকে তবে তারাও এই যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। তবে রাজ্য সরকারের অন্য কোন প্রকল্পের অনুদান পেয়ে থাকলে তিনি এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না। কিন্তু এরপরেও কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে যাদের চাষযোগ্য জমি রয়েছে, যারা কৃষিকাজ করে থাকেন, তাদের চাষযোগ্য জমি থাকার জন্য এবং কৃষক হওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ভাতা পেয়ে থাকেন। এই ভাতা পেয়ে থাকলে কি আলাদা করে যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন করা যাবে সেই ব্যাপারটি অনেকেই বুঝে উঠতে পারছেন না। 

আরোও পড়ুন: আলুর দামে নিম্ন পতন! আরো কমতে পারে আলুর দাম? চাষীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ! জানুন বিস্তারিত

রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী জানানো হয়েছে, আপনি যদি একজন কৃষক হয়ে থাকেন এবং তার জন্য কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অনুদান হিসাবে 4000 টাকা পেয়ে থাকেন তাহলে আপনি সরকারি খাতায় বেকার রইলেন না। কারণ টেকনিক্যালি দেখলে কৃষক একটি পেশা হিসেবে বিবেচিত হয়। যুব সাথী প্রকল্প দেওয়া হচ্ছে মূলত বেকারদের জন্য। যেহেতু আপনি কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অনুদান সুবিধা গ্রহণ করছেন এবং আপনি পেশাগত একজন কৃষক তাই বেকার ভাতার আওতায় আপনি পড়বেন না। 

অন্যান্য রাজ্য সরকারের প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। আপনি যদি লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পেয়ে থাকেন তাহলে যুব সাথী প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। আপনি যদি প্রতিবন্ধী ভাতা বা বার্ধক্য ভাতা পেয়ে থাকেন তাহলেও যুব সাথী প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। শুধুমাত্র স্কলারশিপ পেয়ে থাকলে আবেদন করতে পারা যাবে। 

অনেকেই মনে করতে পারেন যে ভুল তথ্য দিয়ে ফর্ম ফিলাপ করবেন কিন্তু আপনি ভুল তথ্য দিয়ে ফর্ম ফিলাপ করলে ডিজিটাইলেশনে ধরা পড়ে যাবেন। এর কারণ বর্তমানে প্রত্যেকটি সরকারি প্রকল্প ডিজিটাল ভাবেই আবেদন প্রক্রিয়া, পর্যালোচনা ও যাচাই করা হয়। আর এর জন্য সরকারি প্রকল্প আধার কার্ডের সাথে লিংক করা থাকে। ডেটা এন্ট্রির সময় আপনার আধার নম্বর ইনপুট করলেই আপনি অন্য কোন প্রকল্পে সুবিধা পান কিনা সেটা উঠে আসবে সিস্টেমে। যখনই সিস্টেমে উঠে আসবে আপনি অন্য কোন রাজ্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান, সঙ্গে সঙ্গে আপনার যুব সাথী প্রকল্পের আবেদন বাতিল করে দেওয়া হবে। ভুল তথ্য দিলে ব্লক অফিস থেকে আপনাকে ডাকা হবে এবং আপনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ক্যাম্পে যুব সাথী প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া কিভাবে হচ্ছে? 

যে সমস্ত বিধানসভা ব্লকে ক্যাম্প বসেছে যুব সাথী প্রকল্পের জন্য। সেখানে যারা ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে সত্যিকারের বেকার রয়েছেন এবং অন্য কোন সরকারি প্রকল্পের ভাতা পান না তাদের প্রথমে ক্যাম্পে এসে আধার ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর ক্যাম্পের পক্ষ থেকে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেবে। এই নম্বরটি আপনাকে আবেদনপত্র ফিলাপ করার সময় নির্দিষ্ট স্থানে এবং রিসিভ কপিতে লিখতে হবে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পরে ক্যাম্পের আধিকারিকরা আপনার আবেদনপত্রে স্ট্যাম্প ও সই করে রিসিভ কপিটি আপনাকে ফেরত দিয়ে দেবেন। এই রিসিভ কপি আপনাকে যত্ন করে রাখতে হবে কারণ ভবিষ্যতের রেফারেন্সের জন্য। 

অর্থাৎ আপনি যদি কৃষক বন্ধু প্রকল্পের বা অন্য কোন রাজ্য সরকারি প্রকল্পের অনুদান পেয়ে থাকেন তাহলে যুব সাথী প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে যাবেন না। যারা সত্যি কারের ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বেকার রয়েছেন এবং অন্য কোন সরকারি প্রকল্পের অনুদান নেন না বা পান না তারাই একমাত্র এই প্রকল্পের জন্য ব্লক ক্যাম্পে গিয়ে আবেদন করুন।

Join Group Join Group