বাজারে আলুর দাম অনেকটাই সস্তা রয়েছে যার ফলে সাধারণ মানুষ বা মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে একদিকে সোনায় সোহাগা বলা যায়! তবে অপরদিকে চাষীদের দুর্ভোগ কপাল। আলুর দাম হঠাৎ এতটা সস্তা হয়ে যাওয়ার কারন কি? চাষীদের মাথায় চিন্তার ভাঁজ কবে যাবে? আরো কি সস্তা হবে আলুর দাম? এ সম্পর্কিত সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়ে ফেলুন।
আলু এমন একটি সবজি যেটি যে কোন তরকারির সাথেই ব্যবহার করা হয়। আলু ছাড়া যেন বাড়ির খাবার অসম্পূর্ণ। এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যাদের আলু সিদ্ধ বা আলু ভাতে ছারা একদিনও চলে না। তবে তাদের কাছে আলুর দাম সস্তা হয়ে যাওয়ায় এক কথায় পৌষ মাস বলা যায়। অপরদিকে বিভিন্ন রেস্তোরা বা রেস্টুরেন্টে বা বিভিন্ন স্ট্রীট ফুড বিশেষ করে ফুচকা, আলু কাবলি, আলুর চপ এই সমস্ত দোকানদারদের আলুর দাম সস্তা হওয়ায় অনেকটাই লাভ হচ্ছে। কিন্তু এতসব লাভের পরেও চাষীদের কপালে কিন্তু দুর্ভোগ লেগেই রয়েছে। যতটা অর্থ খরচ করে আলু ফলিয়েছিলেন, সেই চড়া দামে আলু বিক্রি করা যাচ্ছে না। খুব সস্তায় আলু বিক্রি করতে হচ্ছে, এর ফলে চাষীদের লাভের লাভ কিছুই থাকছে না। এই বছর আলু চাষ করে লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে আলু কৃষকদের। প্রতি বিঘা আলু চাষ করে প্রায় ৫-৬ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে কৃষকদের। এককথায় বলা যায় সাড়ে সর্বনাশ অবস্থা কৃষকদের।
বাজারে বর্তমানে আলুর দাম কত?
কলকাতা ও শহরতলীর খুচরো বাজারগুলোতে আলুর দাম রয়েছে ১৩ থেকে ১৭ টাকার মধ্যে। পোখরাজ আলুর প্রতি কেজি দাম রয়েছে ১৩ থেকে ১৪ টাকা। অন্যদিকে শিয়ালদা কোলে মার্কেটে আলুর দাম আরো কম, প্রতি কেজির দাম ৭ থেকে ১০ টাকা। S1 আলুর দাম ৭ থেকে ৮ টাকার কাছাকাছি রয়েছে। এছাড়া ভালো জাতের আলুর দাম 10 টাকার আশেপাশে রয়েছে।
আরোও পড়ুন: ব্যাঙ্ক অফ বরোদা ২৭৩ টি শূন্যপদে ম্যানেজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজার পদে কর্মী নিয়োগ! জানুন আবেদন পদ্ধতি ও অন্যান্য তথ্য?
আগের দাম বর্তমান দাম থেকে কত বেশি ছিল?
যদিও শীতে আলুর দম একটু কম থাকে তবে শীত চলে যাওয়ার পর আলুর দাম আবার চড়চড়িয়ে বাড়তে থাকে। গতবছর শীত চলে যাওয়ার পরেই আলুর পাইকারি দাম ছিল প্রতি কেজিতে ১০ টাকার উপরে। কিন্তু চলতি বছরে শীত চলে যাওয়ার পরেও এখনো পর্যন্ত ৭ টাকায় প্রতি কেজিতে আলু বিক্রি হচ্ছে।
চাষীদের অভিযোগ : সবথেকে বেশি যে আলু বাজারে বিক্রি হয় তা হল পোখরাজ আলু। আর এই আলু পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় সবথেকে বেশি উৎপন্ন হয়। প্রত্যেক বছরের মতন এই বছরও এই আলুর চাষ প্রত্যেক চাষী অনেক টাকা খরচ করে করেছে। জানা যাচ্ছে দীঘা প্রতি এ বছর ফলন হয়েছে প্রায় ৬০ কুইন্টাল পোখরাজ আলু। আর এই আলু চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বাজারে যখন এই আলো বিক্রি হচ্ছে তাদের হাতে আসছে কুইন্টাল প্রতি ৪৭০ টাকার মতন। অর্থাৎ ৬০ কুইন্টাল আলু বিক্রি করে তাদের হাতে পাচ্ছেন 28 হাজার থেকে ২৯ হাজার টাকা। তাহলে বোঝা যাচ্ছে বিঘা প্রতি লোকসান হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার টাকা করে। আর এই ভেবেই আলু চাষীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আরো যদি আলুর দাম সস্তা হয় তাহলে চাষীদের মাথায় হাত দেওয়ার জোগাড়।
অস্বাভাবিকভাবে আলুর দাম কমে যাওয়ার কারণ কি:
আলুর দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার কারণ এই বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় আলুর ফলন খুব ভালো হয়েছে। প্রায় প্রত্যেক আলু গাছ থেকে অনেক আলু ফলন হয়েছে। আর এর জন্য ফলন বেশি হয় বাজারের দাম অনেকটাই কমে গিয়েছে। এখনো পর্যন্ত জ্যোতি আলু মাঠেই পড়ে রয়েছে বেশিরভাগ কৃষকদের সেই আলু বাজারে আসলে আলুর দাম আরো সস্তা হবে আর সেটাই ভয় রয়েছে কৃষকদের। অর্থাৎ যথেষ্ট উৎপাদন হওয়ায়, যোগান বেশি থাকায় বাজারে দাম কমে গিয়েছে আলুর।
চাষীদের এই সমস্যার সমাধান হতে পারে যদি সরকার আলু চাষিদের সাথে যদি মিটিং এ বসেন এবং স্টোরেজে তোলার সময় আলুর দাম যদি সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দিয়ে দেওয়া হয় কৃষকদের তাহলে কিছুটা কৃষকদের স্বস্তি আসতে পারে। আপাতত আলুর দাম অনেকটাই সস্তা হওয়ায় কৃষকদের আর্থিক লোকসান অনেকটাই হয়েছে এবং আগামীতে যদি আরও সস্তা হয় চাষীদের দুর্ভোগ অনেকটাই রয়েছে। অন্যদিকে চাষীদের দুর্ভোগ হলেও খাবার ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষদের আলুর দাম সস্তা হওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে।