SIR হেয়ারিং এর জন্য যে সমস্ত ভোটারদের ডাকা হয়েছে তাদের রাজ্য স্তরের নাগরিক হিসেবে প্রমাণ দেওয়ার জন্য প্রামাণ্য নথি হিসেব বাসস্থান সার্টিফিকেটকে গণ্য করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। জাতীয় নির্বাচন কমিশন তার জন্যই ডমিসাইল সার্টিফিকেটকে রাজ্য স্তরের নাগরিক প্রমাণের প্রামান্য নথি হিসেবে বিবেচিত করেছে। কিন্তু এরপর থেকেই বিভিন্ন ভোটারদের একটাই প্রশ্ন কিভাবে এবং কোথা থেকে খুব সহজে কম সময়ের মধ্যে ডোমিসিয়াল সার্টিফিকেট এর জন্য আবেদন করা যাবে। আজকের এই প্রতিবেদনে আপনাদেরকে জানাতে চলেছি ডোমিসাইল সার্টিফিকেট আবেদন করার সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে।
ডোমিসাইল সার্টিফিকেট কি?
ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা আবাসিক শংসাপত্র হল একটি সরকারি নথি, যেটি জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলা শাসক ও মহকুমা শাসকের সই করা থাকে এবং এটি রাজ্য স্তরের একজন নাগরিক হিসাবে প্রমাণ দেয়। এই সার্টিফিকেট কোন ব্যক্তিকে ওই সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হিসাবে গণ্য করে।
প্রসঙ্গত এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরোধিতা করেছিলেন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিহারের মতন পশ্চিমবঙ্গেও এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে সমস্ত ভোটারদের দেওয়া তথ্য ভুল রয়েছে বা কোন কিছু ত্রুটি রয়েছে তাদেরকে এসআইআর হেয়ারিং এর জন্য ডাকা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন কমিশন হেয়ারিং এ যাদেরকে ডাকা হয়েছিল তাদেরকে রাজ্যস্তরের স্থানীয় বাসিন্দা হিসাবে প্রামাণ্য নথি হিসাবে ১১ টি নথির মধ্যে যে কোন একটি প্রদর্শন করার কথা বলেছিলেন। তবে তার মধ্যে বাসস্থান সার্টিফিকেট বা ডোমিসিয়াল সার্টিফিকেট অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কিন্তু বিহারে এসআইআর হেয়ারিং এর সময় বাসস্থান সার্টিফিকেটকে প্রামাণ্য নথি হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। তবে গত বুধবার এসআইআর শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য কে মান্যতা দেয় হাইকোর্ট। হেয়ারিং এর জন্য প্রামাণ্য নথি হিসেবে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা বাসস্থান সার্টিফিকেটকে গণ্য করা হবে বলে মেনে নেয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই রায়ের ফলে অনেক ভোটারদের প্রামাণ্য নথি প্রদর্শন করার ব্যাপারটি অনেক সহজ হয়ে যায়। হাইকোর্টের এই রায়ের পর থেকেই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট আবেদন করার জন্য হিড়িক পড়ে গিয়েছে কলকাতা পুরসভা গুলোতে।
আরোও পড়ুন : লক্ষীর ভান্ডার এর বর্ধিত টাকা কবে থেকে ঢুকবে? টাকা ঢুকেছে কিনা স্ট্যাটাস কিভাবে চেক করবেন?
তবে এখনো পর্যন্ত যে সমস্ত ব্যক্তি জানেন না এই সার্টিফিকেট কিভাবে আবেদন করবেন তাদের জন্য রইল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
কিভাবে আবেদন করবেন : ডোমিসাইল সার্টিফিকেট এর জন্য আবেদন করতে হলে কোন রাজ্যে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত তাকে বসবাস করতে হবে। রাজ্য ভেদে এই নিয়ম আলাদা থাকে। মোটামুটি সময়কাল ৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদনকারীকে স্ব ঘোষণা পত্রসহ একটি পূরণ করার স্থায়ী ঠিকানার আবেদন পত্র জমা করতে হবে। এর সাথে পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট এর মত প্রামাণ্য নথি দিতে হবে। এছাড়া জন্ম শংসাপত্র, দুটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিতে হবে। ঠিকানার প্রমাণ নিশ্চিত করতে প্রামাণ্য নথি হিসেবে ব্যাংকের পাস বই, কোথাও ভাড়া থাকলে সেখানকার নথি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট ইত্যাদি বিল প্রদর্শন করতে হবে।
কোথায় আবেদন করবেন : আপনি কোন রাজ্য থেকে আবেদন করছেন সেই রাজ্যের উপর নির্ভর করবে আবেদন প্রক্রিয়ার খরচ। তবে ১৫ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে খরচ হয়। তবে কিছু রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল উত্তরপ্রদেশ এবং নয়া দিল্লিতে কোন ফি নেওয়া হয় না। আপনি অনলাইন ও অফলাইন দুটি ভাবে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইন আবেদনের জন্য ই ডিস্ট্রিক্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করবেন। এছাড়া আপনি অফলাইন আবেদনের জন্য রাজস্ব অফিস, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অফিস অথবা মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট, কালেক্টর বা ডেপুটি কালেক্টর অফিস, নাগরিক পরিষেবা কর্নার বা রেজিস্ট্রার বা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে উপরে উল্লেখিত সমস্ত ডকুমেন্ট নিয়ে আবেদন করতে পারেন।
আবেদন করা তথ্য এবং উল্লেখিত ডকুমেন্টগুলো যদি সঠিক হয় তাহলে খুব সহজেই আপনি ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন। জাতীয় নির্বাচন কমিশন ডোমিসাইল সার্টিফিকেটকে মান্যতা দেওয়ায় ভোটারদের অনেকটাই নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং হেয়ারিং এর ব্যাপারটি অনেকটি সহজ হয়ে গিয়েছে।