স্কুল জীবনের সব থেকে প্রথম বড় পরীক্ষা হল মাধ্যমিক পরীক্ষা আর এই পরীক্ষার জন্য প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে অভিভাবকগণ অনেকটাই প্রত্যাশা নিয়ে থাকে। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা অন্য কোন স্কুলে গিয়ে দেওয়ার মধ্যে যেমন একটা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার ব্যাপার থাকে ঠিক তেমনি কিছুটা ভয় কাজ করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। তবে এই প্রথম বড় পরীক্ষা অর্থাৎ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল এর ওপর জীবনের চাকরির জীবনের অনেকটাই নির্ভর করে থাকে বলে এই পরীক্ষার অনেকটাই মূল্য রয়েছে। আজ অর্থাৎ ২রা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হলো ২০২৬ এর মাধ্যমিক বোর্ড এক্সাম। এই এক্সাম চলবে ১২ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রত্যেকবারের মতনই আজ অর্থাৎ প্রথম দিন প্রথম ভাষার সাব্জেক্টে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে প্রথম দিন থেকেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য একাধিক নিয়ম লাঘু করা হয়েছে।
পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা:
এই বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ছেলেদের তুলনার মেয়েদের সংখ্যা অনেকটাই বেশি রয়েছে। এই বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ৯৭১৩৪০ জন। এরমধ্যে ছাত্রের সংখ্যা রয়েছে ৪২৬৭৩৩ জন। অন্যদিকে ছাত্রীর সংখ্যা রয়েছে ৫৪৪,৬০৬ জন। মোট পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে ২৬৮২ টি। এই পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে পরীক্ষার্থীদের সিট পড়েছে।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে দেওয়া নিয়ম :
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকটি পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্রে ১০:৪৫ এর মধ্যে পৌঁছে যেতে হবে। তার কারণ প্রশ্নপত্র এবং উত্তরপত্র দুটি দশটা ৪৫ মিনিটের মধ্যে দিয়ে দেওয়া হবে। পরীক্ষা শুরু হবে বেলা ১১ টা থেকে। ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে, প্রশ্নপত্র ভালো করে পড়ার জন্য। প্রশ্নপত্রে যদি কোন ভুল থাকে বা বুঝতে না পারা যায় তাহলে সেই সময়টা জিজ্ঞেস করতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষ হবে বেলা ২ টোর সময়। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশ করার সময় এডমিট কার্ড এবং রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। অরজিনাল কার্ড নিয়ে প্রবেশ করতে হবে কোনরকম জেরক্স কপি নিয়ে প্রবেশ করলে সেটি গ্রাহ্য করা হবে না। পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনরকম স্মার্টওয়াচ, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ইয়ার প্লাগ নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার সময় প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে চেকিং করা হবে।
আরোও পড়ুন : শীতের শেষ দিকেই বৃষ্টির পূর্বাভাস! কেমন থাকবে আবহাওয়া? শীতের প্রকোপ বাড়তে চলেছে কি?
পর্ষদ সভাপতি আরও জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোন পরীক্ষার্থী কোন ব্লুটুথ গেজেট নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না আর যদি পরীক্ষা কেন্দ্রের কোন পরীক্ষার্থী কোন ব্লুটুথ গ্যাজেট নিয়ে ধরা পড়ে তাহলে তার পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হবে। শুধুমাত্র সাধারণ ঘড়ি পড়ে যেতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। জলের বোতল নিয়ে প্রবেশ করার নিয়ম নেই। স্কুলের তরফ থেকে পানীয় জল সরবরাহ করা হবে। পেন্সিল বক্স এবং বোর্ড খুবই সহ্য হতে হবে যাদের তাতে কোন লেখা না থাকে। কোন অভিভাবককে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এমনটা জানানো হয়েছে পর্ষদের তরফ থেকে।
এছাড়াও জানানো হয়েছে পরীক্ষা কেন্দ্রের বই খাতা নিয়ে প্রবেশ করলেও পরীক্ষা শুরুর আগে সেটি ক্লোক রুমে রেখে দিতে হবে। পরীক্ষা শুরুর পর দেড় ঘন্টা শৌচালয়ে যেতে পারবেন না কোন পরীক্ষার্থীরা। কোন পরীক্ষার্থী যদি পরীক্ষা শেষের আগেই উত্তরপত্র জমা দিতে চায়, তাহলে তার প্রশ্নপত্র জমা দিতে হবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে তাকে প্রশ্নপত্র ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোন পরীক্ষার্থীকে সন্দেহজনক মনে হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ মেটাল ডিটেক্টর এর মাধ্যমে তাকে পরীক্ষা করতে পারেন। প্রতিটি স্কুল সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো থাকবে। যদি কোন পরীক্ষার্থী কোন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা বা অন্যান্য অশিক্ষক কর্মীর সাথে খারাপ ব্যবহার বা আচরণ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এছাড়া কোন ছাত্র বা ছাত্রী পরীক্ষা কেন্দ্রে কোন রকম ভাঙচুর পড়লেও তার বিরুদ্ধে অভিযুক্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমনটা জানিয়ে দিয়েছে পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। এছাড়া পর্ষদের কন্ট্রোল রুমের নম্বর দেওয়া রয়েছে কোনরকম অসুবিধা সম্বোধন হলে হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা।
সব মিলিয়ে 2026 এর মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু থেকে একদম কঠোর নিয়মাবলী সেট করে দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর জন্য। কোনরকম বিশৃঙ্খলা যাতে না হয় সেদিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী যেন সম্পূর্ণ শৃঙ্খল পূর্ণভাবে পরীক্ষা দিতে পারেন তার জন্য সব রকম কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।