SIR হেয়ারিং শুনানিতে ৫০ বছর আগে বাড়িতে জন্মগ্রহণ করা শংসাপত্র পাওয়ার জন্য আবেদনের সম্ভার।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী পশ্চিমবাংলা জুড়ে চলেছিল ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া। যে সমস্ত ভোটারদের এসআইআর ফর্মে কিছু ত্রুটি দেখা গিয়েছিল তাদেরকে ডাকা হয়েছে এসআইআর হেয়ারিং এর জন্য। এই হেয়ারিং এর জন্য যাদেরকে ডাকা হয়েছে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসাবে প্রমাণ করার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো একটি নথি প্রদর্শন করতে হবে। আর এই নথি নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্বিগ্নতা লক্ষ্য করা গিয়েছে হেয়ারিং-এ ডাক পাওয়া ভোটারদের মধ্যে। এরই মধ্যে যে সমস্ত ব্যক্তির বয়স ৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছে তারা ৫০ বছর আগের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করা জন্ম শংসাপত্র আবেদনের জন্য লাইন দিয়েছেন। 

এর কারণ হলো তখনকার সময়ে বেশিরভাগ সন্তান জন্মগ্রহণ করত বাড়িতেই। যেহেতু হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে শিশুসন্তান জন্মগ্রহণ হতো না তার জন্য কোনরকম অফিশিয়ালি বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়া হত না। বাড়িতে জন্মগ্রহণ করার জন্য কোন রকম অফিসিয়ালি নথি বা বার্থ সার্টিফিকেট প্রদর্শন করতে পারছেন না এসআইআর হেয়ারিং এর শুনানিতে নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি হিসাবে। এদিকে হেয়ারিং এর ডাক পড়ায় একসঙ্গে অনেক ব্যক্তি বার্থ সার্টিফিকেটের আবেদনের জন্য লাইন দিয়েছেন। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকদের কাছে দফায় দফায় আবেদন জমা পড়ছে। আবেদনকারীরা এসে জানাচ্ছেন, বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছি, কোন নথি নেই, জন্ম শংসাপত্র চাই। চলতি এসআইয়ার পর্বে এমনই দাবি-দাওয়া শুনতে শুনতে কলকাতা পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকদের অবস্থা নাজেহাল হয়ে পড়েছে। এদিকে পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকদের তরফ থেকে বলে দেওয়া হচ্ছে, কোন রকম অফিসিয়াল নথি না থাকলে বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করা সম্ভবপর নয়। বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করার জন্য কিছু নিয়ম-কানুন মেনে করতে হবে এবং তার জন্য কিছু নথি বা ডকুমেন্ট প্রয়োজন পড়বে। কোন ডকুমেন্ট বা অফিশিয়াল নথি ছাড়া বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না। এমনটাই স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুরসভার তরফ থেকে। 

বিশেষ করে এসআইআর পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকে পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ কর্মীদের কিছুটা বাড়তি কাজ বা দায়িত্ব বেড়ে গিয়েছে। প্রত্যেকদিনই কোন না কোন ব্যক্তি আসছেন কোন রকম ডকুমেন্ট ছাড়াই বার্থ সার্টিফিকেটের আবেদনের জন্য। এখন পর্যন্ত ৫০ জনের মতন ব্যক্তি আবেদন নিয়ে এসেছেন। এই ব্যাপার নিয়ে প্রায় কয়েক মাস ধরে পুরসভার কর্মকর্তারা বাড়তি ঝামেলা মধ্যেই রয়েছেন। 

আরোও পড়ুন : পোস্ট অফিসে ২৮,৭৪০ শূন্য পদে গ্রামীণ ডাক সেবক নিয়োগ, আবেদনের শেষ তারিখ ও আবেদন সংক্রান্ত তথ্য জানুন!

পৌরসভার কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী তারা সে সমস্ত ব্যক্তিদের জানাচ্ছেন, তখনকার সময়ে বাড়িতে জন্মগ্রহণ করলেও স্থানীয় কোন ডাক্তারের দ্বারা ইস্যু করা জন্মসংশাপত্র না থাকলে সেই ব্যক্তি কি করে স্কুল বা কলেজে এডমিশন নিয়েছেন। কারণ জন্মসংশাপত্র ছাড়া কখনো স্কুল বা কলেজ এডমিশন নেওয়া যায় না। নিয়ম অনুযায়ী, কারো বাড়িতে জন্মগ্রহণ হলেও স্থানীয় চিকিৎসকের দেওয়া সার্টিফিকেট অবশ্যই থাকবে এবং তার ভিত্তিতে ফাস্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেটের অর্ডার এবং হলফনামা দিতে হবে। এর সাথে ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড জমা করতে হবে। এই নথি বা ডকুমেন্টগুলো নিয়ে পৌরসভায় স্বাস্থ্য বিভাগে আসলে সেই ব্যক্তির সার্টিফিকেট ইস্যু করার আবেদন প্রক্রিয়া গ্রহণ করা যাবে বলে জানিয়েছেন কলকাতা পৌরসভা। 

অনেক ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের বয়স ৪০ বছর, ৪৫ বছর, ৫৫ বছর, তারা কোন কিছু ডকুমেন্ট না নিয়েই জন্মসংশাপত্রের জন্য আবেদন করতে এসেছেন কিন্তু কোন ব্যক্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। এর কারণ পরবর্তীকালে জন্মসংশাপত্র নিয়ে যদি কোন আইনি জটিলতা তৈরি হয় তার দায় বা ঝক্কি পৌরসভার কর্মকর্তারা নেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার অনুযায়ী কোন ডকুমেন্ট ছাড়া বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করা যাবে না আর সেই অর্ডার মেনেই পৌরসভার কর্মকর্তারা কোনরকম অফিশিয়াল ডকুমেন্ট ছাড়া বার্থ সার্টিফিকেট আবেদন গ্রহণ করছেন না। 

এর জন্য যদি সেই ভোটারের ভোটার তালিকায় নাম না উঠে তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সেই ব্যক্তি, জাতীয় নির্বাচন কমিশন বা সুপ্রিম কোর্টের উপরে বর্তাবে এমনটাই স্পষ্ট বার্তা জানাচ্ছেন কলকাতা পৌরসভা।

Join Group Join Group