কৃষি ক্ষেত্রে আরও সফলতা! উচ্চ ফলনশীল ধানের আরো চারটি নয়া প্রজাতি তৈরি করলো কৃষিদপ্তর।

বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে কৃষি ক্ষেত্রে বিপুল পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি এবং উচ্চ ফলনশীল বীজ বপনের মাধ্যমে আরো বেশি করে ফসল উৎপন্ন হচ্ছে। যার ফলে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা এসেছে। তবে সম্প্রতি কৃষি দপ্তরের তরফ থেকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল কৃষি কাজের ধরন। জানা যাচ্ছে উচ্চকলনশীল ধানের আরো চারটি নয়া প্রজাতি তৈরি করেছে কৃষি দপ্তর। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হলে প্রতিবেদনটি পড়ে ফেলুন।

এতদিন পর্যন্ত ধানের প্রজাতি বলতে আমরা জানতাম আমন, আউশ, বোরো ইত্যাদিকে। তবে জানা যাচ্ছে উচ্চফলনশীল আরো চারটি প্রজাতি ইতিমধ্যে তৈরি করে ফেলেছে কৃষি দপ্তর। এই কাজের সাথে যে সমস্ত বিজ্ঞানীরা জড়িয়ে রয়েছেন তাদের সকলকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশংসা বার্তা ও শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছেন।

কিভাবে এই নতুন চারটি উচ্চফলনশীল ধানের প্রজাতি তৈরি করা হলো সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

জানা যাচ্ছে আবহাওয়া এবং জলবায়ুর উপযোগী রয়েছে এই নতুন ধানের প্রজাতি গুলো। অনেক বছর ধরেই পুরুলিয়ার খরা প্রতিরোধ গবেষণা কেন্দ্র এবং চুঁচুড়ার ধান গবেষণা কেন্দ্র আরো উচ্চফলনশীল ধানের প্রজাতি তৈরি করার জন্য কাজ করছিলেন এবং এই নিয়ে বিস্তর গবেষণা ও পরীক্ষা মূলক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

আরোও পড়ুন : বসন্ত পঞ্চমীতে ৪ টি রাশিতে হতে চলেছে শুভ ফল, কোন চারটি রাশি আগামীকাল ২৩ শে জানুয়ারি শুভ ফল পেতে চলেছে?

নতুন তৈরি করা প্রজাতি: চারটি নতুন ধানের প্রজাতির মধ্যে রয়েছে সুভাষিণী, ‘লছমন্তি’ও ‘মুসাফির’ নামের তিনটি প্রজাতি। এগুলো রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার মতো খরাপ্রবণ অঞ্চল গুলির জন্য তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ খরা প্রবণ অঞ্চলেও এই প্রজাতিগুলি খুবই উচ্চফলন দেবে। খরিফ মরশুমে হেক্টর প্রতি ৫২ থেকে ৫৫ কুইন্টাল ফলন দিতে সক্ষম এই প্রজাতির ধানগুলো।

অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের বন্যা প্রবণ এলাকার জন্য তৈরি করা হয়েছে ইরাবতী নামে অন্য একটি ধানের প্রজাতি। এগুলি জলমগ্ন এলাকাতে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে খুব ভালো করেই উচ্চফলন দেবে অর্থাৎ জলমগ্ন থাকলেও  ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম।

প্রসঙ্গত রাজ্যের মধ্যে রাজ্যের কৃষি ক্ষেত্রের সাথে জড়িত বিজ্ঞানীরা নতুন ধানের চারটি প্রজাতি তৈরি করার মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে আরো ব্যাপক প্রসারতা ও উদ্ভাবনা শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে যেতে আগামীতে কৃষি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটাবে। প্রসঙ্গ ২০১১ সাল থেকেই কৃষকদের কৃষিকাজের সুবিধার জন্য কৃষি ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত বিজ্ঞানীরা মোট ২৫ টি নতুন ফসলের প্রজাতি তৈরি করে ফেলেছে ইতিমধ্যে যার মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে ও কৃষি কাজে ব্যাপক প্রসারতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ২৫ টির মধ্যেই হল 15 টি ধানের নতুন প্রজাতি। নতুন চারটি ধানের প্রজাতি তৈরি করার মাধ্যমে শুধুমাত্র কৃষি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এলো তা নয়, এর মাধ্যমে কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নতি হবে এবং তার সাথে সাধারণ মানুষেরও পরোক্ষ ভাবে সুবিধা হবে। যেহেতু খরা প্রবণ অঞ্চলে অভিযোজন করার মতন তিনটি প্রজাতি তৈরি করা হয়েছে এবং অন্যদিকে জলমগ্ন এলাকায় বেঁচে থাকার জন্য বা প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ঠিক থাকার মতন একটি প্রজাতি তৈরি করা হয়েছে, তাই আগামীতে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও ধানের মতন ফসল কমতি হবে না, যা রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন বলাই যায়।

Join Group Join Group