জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে যে ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া অর্থাৎ SIR চলছিল, তার পরবর্তী ধাপ অনুযায়ী SIR হেয়ারিং এর ডাক দেওয়া হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের ভোটারদের। ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রকাশিত হতে চলেছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ব্যাপারটি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়ে ফেলুন।
আজ সোমবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের এসআইআর মামলার শুনানি ছিল। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের মূল বক্তব্য ছিল যাতে গোটা প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সাথে করা হয়। রাজ্যের কোন ভোটারকে যেন অস্বচ্ছতার দায়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করা হয়।
নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের SIR মামলার শুনানি ছিল। তাতে সুপ্রিম কোর্টের মূল বার্তা একটাই। গোটা প্রক্রিয়াটা যেন আরও স্বচ্ছ হয়। কোনও ভোটার যেন সুযোগের অভাবে বাদ না পড়েন। যে সমস্ত ভোটারকে হেয়ারিং এর জন্য ডাকা হয়েছে তাদেরকে কেন ডাকা হয়েছে অর্থাৎ নোটিশ কেন পাঠানো হয়েছে তার বিস্তারিত কারণ যেন উল্লেখ করা হয় নোটিশে।
প্রসঙ্গত জাতীয় নির্বাচন কমিশন তরফে যে ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া করা হয়েছিল এবং সেখানে এনুমারেশন ফর্ম ফিলাপ করে প্রত্যেক ভোটারকে জমা দিতে হয়েছিল। যে সমস্ত ভোটারের ফর্মে ত্রুটি ছিল বা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাদের নাম ছিল না, তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য একটি নথি যাচাই করার জন্য হেয়ারিং এর জন্য ডেকে পাঠানো হয়। অনেক ভোটার হেয়ারিংয়ের ডাক পেয়েছেন কিন্তু কেন তাদের ডাকা হয়েছে নোটিশের সেই কারণ উল্লেখ করা না থাকে অনেকেই চিন্তিত বা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। সূত্র অনুযায়ী জানা যাচ্ছে রাজ্য জুড়ে, ১.২৫ কোটি নোটিশ জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ এত কোটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই নোটিশকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১) ম্যাপড’, অর্থাৎ ২০০২ সালের SIR তালিকার সঙ্গে যে সমস্ত ভোটার যুক্ত রয়েছেন তাদেরকে এই ভাগে রাখা হচ্ছে।
২) ‘আনম্যাপড’, যে সমস্ত ভোটারদের পুরনো তালিকায় নাম নেই তাদেরকে এই শ্রেণীতে রাখা হচ্ছে।
৩) আর সবথেকে বিতর্কিত যে শ্রেণী রয়েছে তার নাম যাঁদের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’। এই ভাগে সবথেকে বেশি ভোটারের নাম রয়েছে। আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, প্রায় ১.৩৬ কোটি ভোটারকে এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ শ্রেণীতে রাখা হয়েছে।
‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি বলতে কি বোঝানো হচ্ছে? এই বিষয়ে আদালতের তরফ থেকে কি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
আদালত সূত্র অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, যাদের এই বিভাগের নাম রয়েছে তাদের নাম গ্রামাঞ্চলের পঞ্চায়েত ভবন এবং শহর অঞ্চলের ওয়ার্ড অফিসে প্রকাশ্যে তালিকা দিয়ে দিতে হবে। এর ফলে ভোটাররা সহজেই নিজেদের নাম এই বিভাগের রয়েছে কিনা জানতে পেরে যাবেন। এবং কেন কোন কারনের জন্য এই বিভাগে তাদের নাম রয়েছে সেটাও উল্লেখ করে দিতে হবে। এছাড়াও আদালত জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটারদের দাওয়া নথি যাচাইয়ের জন্য তারা নিজে না এসে যদি পরিবার আত্মীয় বন্ধু-বান্ধব কিংবা রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেলের এজেন্টের হাত দিয়ে পাঠানো হয় তাহলে বাধা দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ আদালত বলতে চাইছেন যাতে ভোটারদের অধিকার সুরক্ষার দিকটি বিবেচনা করেই সমস্ত প্রক্রিয়া চালাতে হবে। এছাড়া আদালতের তরফ থেকে পশ্চিমবঙ্গের ডিজেপিকেও নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে এস আই এর প্রক্রিয়া চলাকালীন আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক এবং সুশৃংখল বজায় থাকে যাতে সেদিকে লক্ষ্য রাখার।
আদালতে তরফ থেকে আরো জানানো হয়েছে নথি জমা নেওয়া বা হিয়ারিং শেষ হয়ে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিক সেই নথি গ্রহণ করার পর লিখিত স্বীকৃতি কপি গ্রাহককে দিয়ে দিতে হবে।
আরোও পড়ুন : ১০ হাজার টাকা ছাড়ে লেটেস্ট Pixel 10 স্মার্টফোন! কি কি অভিনব বৈশিষ্ট্য থাকতে চলেছে এই ফোনে?
মূলত সোমবার SIR শুনানির পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সংবিধান মেনে এস আই আর গোটা প্রক্রিয়াটা করা হয়েছে। এজন্য এই প্রক্রিয়া যাতে সহজভাবে ও সুষ্ঠুভাবে কমপ্লিট করা হয় তার জন্য প্রত্যেক ভোটারদেরও সহযোগিতা করতে হবে। অন্যদিকে ভোটারদের সুযোগ দেওয়া হবে নথি দেওয়ার জন্য এবং সেগুলো সঠিকভাবে যাচাই করুন করতে হবে যাতে কোন ভোটার ভোটার তালিকা থেকে অন্যায় ভাবে বাদ না পরে সেদিকে নজর দিতে হবে। কোন ভোটার যেন পরবর্তী সময়ে বলতে না পারে তাকে বাড়তি সুযোগ দেওয়া হয়নি। কোন ভোটার ওপর বাড়তি চাপ বা ভোগান্তি যেন না দেওয়া হয় সেদিক নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে। সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে এসআইআর প্রক্রিয়াকে সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে। এই হেয়ারিং পর্ব শেষ হওয়ার পরেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত করা হবে ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ এমনটা জানা যাচ্ছে।