বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেন খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং বেশিরভাগ ব্যক্তি ডিজিটাল লেনদেনের উপর নির্ভর করে থাকে। তবে কখনো কখনো এই ডিজিটাল লেনদেনে ত্রুটি দেখা যায়। অনেক সময় কন্টাক্ট লিস্টে থাকা একজন গ্রাহককে টাকা দিতে গিয়ে অন্য কারো ব্যাংক একাউন্টে টাকা লেনদেন হয়ে যায়। এর ফলে একজনের টাকা অন্য কোনো ব্যক্তির ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়ে যায়। যে ব্যক্তির ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমা হয়, তিনি মেসেজ দেখে কিংবা ব্যালেন্স চেক করে বুঝতে পারেন তার ব্যাংক একাউন্টে ভুলবশত টাকা চলে এসেছে। কিন্তু এটি জানা সত্ত্বেও অনেকে এমন রয়েছে যে এই টাকা রিফান্ড করার কোনো প্রক্রিয়া করেন না। আবার অনেকে ব্যালেন্স চেক না করার জন্য বুঝতেও পারেন না তার অ্যাকাউন্টে ভুলবশত টাকা ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছে। এইজন্য তিনি কোনো কিছু কেনার ফলে সেই টাকা খরচ করে ফেলেন। কিন্তু আইনের চোখে এই টাকা সেই ব্যক্তির না হওয়ায় তিনি অপরাধী হয়ে যান। আপনিও যদি জেনেশুনে অন্যের ব্যাংক একাউন্টের টাকা আপনার অ্যাকাউন্ট এসে পড়ার পর কোনপ্রকার রিফান্ড না করে চুপ করে থাকেন, তাহলে আপনার কি সাজা হতে পারে? এই বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন, কারণ এটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে।
ভুলবশত টাকা অ্যাকাউন্টে চলে আসলে কী করা উচিত :
আপনি যদি জানতে পারেন আপনার একাউন্টে অন্য কোনো একাউন্টে টাকা ভুলবশত চলে এসেছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে যে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা এসেছে সেই অ্যাকাউন্ট গ্রাহককে জানানো উচিত। আপনি যদি জেনে শুনে চুপ করে থাকেন, তাহলে এটি ফৌজদারি অপরাধের মতন একটু অপরাধ হবে, যার সাজা আপনি পেতে পারেন। সাজা হিসেবে কারাদণ্ড ও জরিমানা পর্যন্ত হতে পারে।
সবকিছু জানা সত্ত্বেও টাকা ফেরত না দিলেই কি কি হতে পারে :
অনেক মনে করে থাকেন, যেহেতু তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়েছে, তাই সেই টাকার উপর সম্পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটি এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভুল। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১৬ ধারায় মামলা দায়ের করতে পারে পুলিশ। কারণ এই অন্যায়কে আইনের ভাষায় বিশ্বাসভঙ্গের অন্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়। সবকিছু জানার পরেও যদি টাকা ফেরত দিতে না চান সেই ব্যক্তি, তাহলে তার তিন বছর পর্যন্ত জেল বা কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।
আরোও পড়ুন : শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করেন? দেখে নিন ১৬ টাকার বিশেষ পেনিস্টকের সুবিধা।
টাকা পুনরুদ্ধার করার জন্য ব্যাংকের কী করনীয় থাকে :
যখন কোনো অ্যাকাউন্ট হোল্ডার ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানায়, তিনি তার টাকা অন্য কোনো ব্যক্তির ব্যাংক একাউন্টে ভুল করে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এবং সেই ব্যক্তিকে অনেকবার জানানো সত্ত্বেও তিনি টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। এরকম আবেদনের পরেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, যে ব্যক্তির কাছে টাকা চলে গিয়েছে সেই অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে আনুষ্ঠানিক একটি নোটিশ পাঠানো হয়। যদি তারপরে ব্যক্তিটি সহযোগিতা করে তাহলে ব্যাপারটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এই নোটিশ পাঠানোর পরও যদি ব্যক্তিটি টাকা পেয়েছেন বলে অস্বীকার করেন বা টাকা খরচ করে ফেলেছেন বলে জানান, তাহলে ব্যাংকের তরফ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ সেই অভিযোগকারী নামে অন্যের টাকা আত্মসাৎ বা অন্যের টাকা ব্যাংক একাউন্টে জমা করার পরও অস্বীকার করার অপরাধে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪১৬ ধারা অনুযায়ী ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হয়। শুধুমাত্র সেই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হলো তাই নয়, এর পাশাপাশি সেই ব্যক্তির সম্পত্তি, ব্যাংক ব্যালেন্স, বেতন থেকে টাকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হয়।
এইজন্য সতর্কবার্তা দেওয়ার রয়েছে যে, আপনার একাউন্টে যদি এরকম অন্য কোন ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে ভুলবশত টাকা চলে আসে, তাহলে যে ব্যক্তির একাউন্ট থেকে টাকা এসেছে তাকে সরাসরি জানান বা তিনি যদি আপনার কাছে জানতে চায় তাকে সরাসরি টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া করুন নতুবা আপনার নামে ফৌজদারি মামলা ও জরিমানা ও সর্বোপরি আপনার সম্মানহানি মতন ঘটনা ঘটবে যেটি মোটেও কাম্য নয়।