বর্তমানে যে হারে দুই চাকা থেকে শুরু করে চার চাকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তার সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে অ্যাক্সিডেন্টের প্রবণতা। বেশিরভাগ ব্যক্তিদের মধ্যে গাড়ি চালাবার বৈধ লাইসেন্স নেই বা থাকলেও সঠিক ট্রাফিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালাচ্ছে না এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এর জন্যই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কিছু নতুন নিয়ম লাঘু করা হয়েছে, এই নিয়মগুলো না মেনে লাগাতার গাড়ি চালালে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দেওয়া হবে। আগে থেকে সতর্ক হতে কোন কোন নিয়ম মেনে চলতে হবে, সে সমস্ত বিষয় বিস্তারিত জেনে নিন এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
ট্রাফিক রুলস না মেনে গাড়ি চালানোর মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এর জন্যই অ্যাক্সিডেন্টের মাত্র বেড়ে গিয়েছে দিন প্রতিদিন। আর এর জন্যই কেন্দ্র সরকার কিছু নতুন নিয়ম চালু করতে চলেছে। কিছু ট্রাফিক রুলস নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার।
ট্রাফিক রুলস না মানলে এদিকে জরিমানার টাকা জমা পড়ছে মাত্র ৩৮ শতাংশ। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে ৬২ শতাংশ গাড়ি ব্যবহারকারী ট্রাফিক রুলস না মানলেও জরিমানা দিতে চান না। আর মূলত এর জন্যই কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। আর এর জন্যই এবার থেকে নিয়ম না মানলে শুধুমাত্র জরিমানাতেই শেষ নয়, ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে শুরু করে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ বাতিল করে দেওয়া হবে এমনটাই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরোও পড়ুন : ভোটের আগে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের লিস্ট প্রকাশিত। কিভাবে দেখবেন আপনার নাম আছে কিনা?
ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যে-কোনো কারণেই হোক লাগাতার নিয়ম অমান্য করলে বাতিল করা হবে ড্রাইভিং লাইসেন্স। গত তিন বছরে যদি একবারের জন্য কারো লাইসেন্স বাতিল হয়ে থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স আর পুনর্নবীকরণ করা যাবে না। ট্রাফিক নিয়ম ভেঙ্গে জরিমানা না মিটানো পর্যন্ত গাড়ি রেজিস্ট্রেশন বাতিল থাকবে। অর্থাৎ সেই গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেড়াতে পারবেন না গাড়ি ব্যবহারকারী। বলা যায় এক কথায় মোটর ভেহিকেল সংশোধনী বিল অনেকটাই কঠিন হতে চলেছে আগামীতে।
আপনি যেদিন গাড়ি কিনছেন সেদিন থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বৈধ বলে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ যেদিন রেজিস্ট্রেশন মিলছে সেদিন থেকে গণ্য করা হবে না। এরকম মোট 61 সংশোধনী আইন নতুন করে করা হচ্ছে। তবে কিছু বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যেমন চল্লিশের ওপরে ব্যক্তিদের লাইসেন্স পেতে বা রিনিউ করতে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট আবশ্যিক ছিল। এই বয়স নতুন আইনে বাড়ি দিয়ে ৬০ বছর করা হচ্ছে। অন্যদিকে পণ্যবাহী গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে ৩০০০ ওজন বইতে গেলে পারমিটের প্রয়োজন ছিল। এইবার সেই ওজন আরো কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। নতুন সংশোধনী বিলে এই ওজন ভিন্ন রাজ্যের ক্ষেত্রে করা হয়েছে সাড়ে সাত হাজার কেজি, এবং একই রাজ্যের মধ্যে করা হয়েছে ১২ হাজার কেজি।
নতুন উদ্যোগে কেন্দ্রীয় সরকার আরো কিছু বিষয় যুক্ত করতে চলেছেন। যেমন ট্রাফিক রুলস মেনে গাড়ি চালালে তার জন্য জমা হবে পয়েন্ট। এই পয়েন্টের ভিত্তিতে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। এছাড়াও গাড়ির মালিকানা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হোল্ডারের নথি ও আপডেট থাকবে কেন্দ্রের ওয়েব পোর্টালে। বর্তমানে এই সমস্ত বিষয় মোটর ভেহিকেল আইনে নেই। এই নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে গাড়িচালকদের মধ্যে নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।
যদিও এই নতুন সংশোধনী আইন গত দুবছর ধরে বদলানোর কথা চলছে। সেই সূত্র ধরে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গাদকারি ২০২৪ সালের ৯ জুলাই এবং ৩০শে সেপ্টেম্বর দুধ অফাই রাজ্যকে সংশোধনী প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো রকম পদক্ষেপ গ্রহণ না করায়, গত বছর অর্থাৎ 2025 সালে নতুন আইন তৈরি করে ডিসেম্বর মাসে ২২ তারিখ আবার সংশোধনী কপি রাজ্যগুলোকে পাঠানো হয়। এখন কেন্দ্র সরকার একদম পুরোপুরি ভাবে এই সংশোধনী আইন আনতে চলেছে ট্রাফিক রুলসে।
সংশোধনী আইনের লক্ষ্য : বর্তমানে চালকরা যেভাবে গাফিলতি করে বা নিয়মের তোয়াক্কা না করে ট্রাফিক রুলস অমান্য করে গাড়ি চালাচ্ছে, তার ফলে অ্যাক্সিডেন্টের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে থেকে দুর্ঘটনার মাত্রা অনেক বেড়ে গিয়েছে। এর জন্য শক্ত হাতে মোকাবেলা করতে এবং দুর্ঘটনা কমানোর জন্যই কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাফিক রুলসের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তাই এখন থেকে গাড়ি চালকরা সতর্ক না হলে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে শুরু করে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন বাতিল হতে পারে। এজন্য সবসময় চেষ্টা করুন মোটর ভেহিকেল নতুন সংশোধনী আইন মেনে গাড়ি চালানোর।