রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মধ্যে রাজ্যের কৃষকদের জন্য একটি অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প হল কৃষক বন্ধু প্রকল্প। কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে রবি শস্য চাষের জন্য প্রকল্পের অনুদান দিয়ে দেওয়া শুরু হয়েছে। আপনি কিভাবে পেমেন্ট স্ট্যাটাস চেক করবেন? টাকা পেতে হলে কি করতে হবে? সেই সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য জেনে নিন প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের লক্ষ্য : রাজ্যের কৃষকরা আপামর জনসাধারণের জন্য কষ্ট করে ফসল ফলান। কিন্তু সে সমস্ত কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থা এখনো পর্যন্ত তেমন উন্নত নয়। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে আধুনিক সার, কীটনাশক এগুলো কেনার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। একজন কৃষক যত টাকা খরচ করেন তার থেকে অনেকটাই কম আয় হয়। এই জন্যই কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য এবং তাদের উন্নত চাষাবাদ করার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্যই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক বন্ধু প্রকল্প সূচনা করা হয়েছে।
অনুদানের পরিমাণ : একই বছরে রবি শস্য এবং খারিফ শস্যের জন্য দুবার অনুদান প্রদান করা হয়। এছাড়া জমির পরিমাণের ওপর অনুদানের পরিমাণ নির্ভর করে। যেমন যে সমস্ত কৃষকের ১ একর বা তার বেশি জমি রয়েছে তাদেরকে ৫০০০ টাকা করে দুটি কিস্তিতে মোট ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। যে সমস্ত কৃষকের ১ একরের কম জমি রয়েছে তাদেরকে আনুপাতিক হারে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। এছাড়া কোন কৃষক মারা গেলে ততার পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
আরোও পড়ুন : মোবাইল ব্যবহারকারীদের পকেটে পড়তে চলেছে চাপ! জুন মাস থেকেই বাড়তে চলেছে জিও, এয়ারটেল, ভোডাফোনের রিচার্জ প্যাকেজ।
রাজ্য সরকার রবিশস্যের জন্য রাজ্যের কৃষকদের ব্যাংক একাউন্ট ইতিমধ্যে ৮ই জানুয়ারি থেকে অনুদান দেওয়া শুরু করেছে। ধাপে ধাপে এই টাকা কৃষকদের ব্যাংক একাউন্টে ঢুকবে। ৯ই জানুয়ারি থেকে রাজ্যে বিভিন্ন জেলার কৃষকদের ব্যাংক একাউন্টের টাকা ঢুকেছে, এমনটা খবর পাওয়া গিয়েছে। যে সমস্ত কৃষকের ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকেছে তাদের মোবাইল ফোনে একটি মেসেজ পাঠানো হয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক সহ অন্যান্য গ্রামীণ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এই টাকা ক্রেডিট হচ্ছে। আপনার মোবাইলে মেসেজ পাঠানোর টাকাটি কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা কিনা, সেটা বুঝতে পারবেন ট্রানজেকশন কিছু কোড উল্লেখ করা থাকে তার মাধ্যমে।
টাকা না ঢুকলে কি করবেন : যদি আপনি দেখে থাকেন যে আপনার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বা আপনার পাড়ার অন্য কৃষকের ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকেছে কিন্তু আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এখনো টাকা ঢোকেনি, তবে এই বিষয়ে চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। অন্যান্য প্রকল্পের মতনই কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকাও ধাপে ধাপে দেওয়া হয়। এছাড়া ব্যাংকিং সার্ভার সিস্টেম এবং জেলাভিত্তিক বন্টন ভিত্তি করেও একাউন্টে টাকা ঢুকতে কোন কোন সময় ১ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
স্ট্যাটাস চেক করার পদ্ধতি : আপনার ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকেছে কিনা সেটা জানার জন্য আপনি খুব সহজে স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করে।
১) আপনাকে সর্বপ্রথম রাজ্য সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট krishokbandhu.wb.gov.in এখানে প্রবেশ করতে হবে।
২) এরপর হোমপেজে এসে কি সব বন্ধু tab অপশনটি সিলেক্ট করে ক্লিক করতে হবে।
৩) এরপর সাইন ইন বা স্টেটাস চেক অপশনে গিয়ে অ্যাপ্লিকেন্ট লগইন অথবা স্ট্যাটাস চেক অপশন সিলেক্ট করুন।
৪) তারপর আপনার মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর, কৃষক বন্ধু আইডি নম্বর, পাসওয়ার্ড যদি থাকে এবং ক্যাপচা পূরণ করে লগইন করে স্ট্যাটাস চেক করুন। স্ট্যাটাসে আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা, পেমেন্ট বিবরণ ও অন্যান্য তথ্য উল্লেখ করা থাকবে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের রবিশস্যের জন্য বরাদ্দ টাকা পাওয়ার ফলে রাজ্যে কৃষকদের অনেকটাই অর্থনৈতিক সুরাহা হবে এবং এই প্রকল্প মাধ্যমে রাজ্য সমস্ত কৃষক অনেকটাই উপকৃত হবেন।