বর্তমানে প্রত্যেকটি ব্যক্তি নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে আয়ের পাশাপাশি একটি বিকল্প কর্মসংস্থানের খোঁজ করে থাকেন। এর মূল কারণ হলো বর্তমানে যে হারে মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে, তার ফলে শুধুমাত্র একটি কর্মস্থল থেকে আয়ের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প পথ খুঁজে বার করা খুব দরকার। আরে বিকল্প পথের মধ্যে বিনিয়োগ হচ্ছে অন্যতম একটি মাধ্যম। শেয়ার বাজারে SWP বিনিয়োগ প্ল্যান আপনাকে অনেকটাই আয়ের সুযোগ করে দেবে। মাসে যদি ৫০ হাজার টাকা আয় করতে ইচ্ছুক থাকেন ঘরে বসে, তাহলে আজকের এই প্রতিবেদন পড়ে জেনে নিন কিভাবে এবং কোন কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে শিয়াল বাজার থেকে আপনি ঘরে বসেই মাসিক 50000 টাকা আয় করতে পারবেন।
SWP বলতে সাধারণত বোঝায় একটি বিনিয়োগ ব্যবস্থা, যেখানে আপনাকে এককালীন মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। আরে বিনিয়োগ থেকেই প্রত্যেক মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আপনি তুলতে পারবেন। বর্তমানে প্রত্যেকটি ব্যক্তি ফিক্সড ডিপোজিট স্কিমে বিনিয়োগ করে থাকেন। তেমন SIP বিনিয়োগ ভবিষ্যতের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা সঞ্চয় করতে সাহায্য করে, ঠিক তেমনি SWP শেয়ার বাজারে শুধুমাত্র ধনী হওয়ার জন্যই নয়, মাসিক একটি নিরবিচ্ছিন্ন ইনকাম ধরে রাখার ব্যবস্থা করে দেয়। SWP বিনিয়োগ করার অন্যতম সুবিধা হল আপনার বিনিয়োগ করা অর্থ কমেনা বরং বাজার থেকে যে রিটার্ন পাওয়া যায় তা বিনিয়োগের ক্ষয় অনেকটাই সামলে নেয়।
প্রত্যেক মাসে ৫০০০০ টাকা আয় করবেন কিভাবে :
ধরে নেওয়া যাক, গড়ে আপনি ৮ শতাংশ রিটার্ন পাচ্ছেন এবং আপনার বার্ষিক প্রয়োজন রয়েছে ৬ লাখ টাকা। তাহলে এই পরিমাণ টাকা পেতে হলে আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে ৭৫ থেকে ৮০ লাখ টাকা।
যদি আপনার গড় রিটার্ন ১০ শতাংশ হয়, তাহলে আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা।
অন্যদিকে আপনার গড় রিটার্ন যদি ১২ শতাংশ হয়, তাহলে আপনার বিনিয়োগ করতে হবে ৫০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা।
এইবার প্রশ্ন আসতে পারে, একজন ব্যক্তির এত পরিমাণ টাকা একসঙ্গে নাও থাকতে পারে জমানো। তখন কিভাবে SWP প্লানে আপনি বিনিয়োগ করবেন?
এর জন্য আপনাকে প্রথমে SIP টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। ১২ শতাংশ রিটার্ন পাওয়ার জন্য আপনাকে মাসে ১৭০০০ থেকে ১৮০০০ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। ১৫ বছর ধরে যদি আপনি বিনিয়োগ করেন, তাহলে আপনার বিনিয়োগ শেষে মোট টাকার পরিমাণ হবে ৮০ লাখ। তারপর সেই পরিমাণ টাকা আপনি শেয়ার বাজারে অর্থাৎ SWP প্ল্যানে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবেন।
তবে সবসময় মনে রাখবেন, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার আগে কোণ ফিন্যান্সিয়াল এডভাইজারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এর কারণ শেয়ারবাজারে সব সময় দাম ওঠানামা করে। আপনি যদি শেয়ার বাজারের সম্পর্কে ভালো করে অবগত না হন, তাহলে একজন সুপরামর্শদাতা সঙ্গে পরামর্শ করে শেয়ার বাজার বা যে কোনো বড়ো মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা উচিত।