Zomato-Swiggy-র কর্মীরাও পাবেন একাধিক সুবিধা, কোন কোন সুবিধা মিলতে চলেছে কর্মীদের? জেনে নিন বিস্তারিত।

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল যুগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোনো রেস্টুরেন্ট বা খাবার দোকানে গিয়ে খাবার কেনার থেকে বাড়িতে বসে শুধুমাত্র Android ফোনে একটিমাত্র অনলাইন অর্ডার বুকিং করলেই বাড়িতে খাবার ডেলিভারি হয়ে যায়। আর এর জন্যই অনলাইন খাবার ডেলিভারি অ্যাপগুলোর প্রাধান্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইন জামা কাপড় বা জিনিসপত্র কেনার মতন অনলাইনে খাবার কেনার এই রমরমা বাজার বর্তমানে খুব চলছে। তবে এতদিন পর্যন্ত এই অনলাইন খাবার ডেলিভারি অ্যাপগুলোর যে কর্মীরা ছিলেন তারা সরকারি বিশেষ সুযোগ সুবিধা পেতেন না। কিন্তু এখন থেকে জোমাটো ও সুইগি-র মতন ডেলিভারি অ্যাপগুলোর কর্মীদের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে হেলথ ইন্সুরেন্স অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলবে।

এক কথায় বলা যায়, এই সমস্ত কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অর্থাৎ তারা স্বাস্থ্য, জীবন ও অ্যাক্সিডেন্টের ইনস্যুরেন্স সুবিধা পাবেন। তবে এর জন্য কি কি শর্ত পালন করতে হবে জেনে নেওয়া যাক।

সবার প্রথমেই বলে রাখা উচিত, এই সমস্ত খাবার ডেলিভারি অনলাইন অ্যাপ গুলো চালু হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হয়েছে। পরিশ্রম ও সময় নষ্ট করে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে খাবার কেনা অনেকটাই ঝামেলার কাজ। এমন সময় আসে কখনো, যখন বাইরে বেরোনোর সময় টুকু থাকে না। তার জন্য অনলাইন অর্ডারে খুব সহজেই বাড়িতে এসেই খাবার দিয়ে যায় এই সমস্ত অ্যাপগুলোর কর্মীরা। তবে এর ফলে সাধারণ মানুষের হাতের কাছে খাবার পৌঁছে যায় ঠিকই। কিন্তু এই সমস্ত অ্যাপে যে সমস্ত কর্মী কাজ করে, তাদের অনেকটাই পরিশ্রম ও জীবনকে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। যেহেতু এই কর্মীদের বাইক যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম, এবং তার জন্য অনেক সময় বিপদের মধ্যে পড়তে হয় বা অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে। তারা ঝড় জল উপেক্ষা করে গ্রাহকদের অর্ডার দিয়ে আসে বাড়িতে। কিন্তু কোনো সময় তাড়াহুড়ো বা বিপদজনক পরিস্থিতিতে পড়লে তাদের জীবনকে বাজি রাখতে হয়। এবং তার পরেও তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কোনোরকম ইন্সুরেন্স বা অন্য কোনো সুবিধা পাওয়া যেত না, যেটা তাদের কাজকে এবং জীবনকে অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে দিয়েছিল। তবে সে সমস্ত দিক বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একটি নতুন প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে উপকৃত হবেন অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করা এমন ধরনের কর্মীরা।

কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের তরফে কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি (সেন্ট্রাল) রুলস ২০২৫-র খসড়া অনুযায়ী এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।

এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার কারণ :
কাজের প্রচণ্ড মানসিক চাপ, অস্বাভাবিক ডেডলাইন এবং সামাজিক সুরক্ষার দাবি নিয়ে ২৫ ডিসেম্বর ও ৩১ ডিসেম্বর দেশজুড়ে স্ট্রাইক বা বন্ধ ডেকেছিল অনলাইন ডেলিভারি এজেন্ট ও গিগ ওয়ার্কারগণ। এরপরে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে শীতকালীন অধিবেশনে একটি রুলস কার্যকর করা হয়। যার নাম কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি রুলস 2025। এই রুলস অনুযায়ী বা এই আইনের অধীনে, এবার থেকে গিগ ওয়ার্কারদের জন্য রেজিস্ট্রেশন এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

আরোও পড়ুন : শেয়ার বাজারের অস্বাভাবিক পতন! সেনসেক্স নেমে দাঁড়ালো ২১০০ পয়েন্টের নিচে, নিফটি ২ শতাংশের নিচে। শেয়ার বাজারের পতনের কারণ গুলো কি?

কি কি সুবিধা পেতে চলেছে গিগ ওয়ার্কাররা :

১) সামাজিক সুরক্ষা অর্থাৎ স্বাস্থ্য, জীবন ও অ্যাক্সিডেন্টে ইন্সুরেন্স সুবিধা পাবেন গিগ ওয়ার্কার। তবে এর জন্য গিগ ওয়ার্কারদের কোনো একটি এগ্রিগ্রেটর বা অ্যাপের অধীনে অন্তত ৯০ দিন কাজ করতে হবে। আর যে সমস্ত ওয়ার্কাররা একাধিক প্লাটফর্মে কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে একটি অর্থবর্ষে অন্তত ১২০ দিন কাজের সাথে যুক্ত থাকতে হবে। যেদিন থেকে ওয়ার্কাররা কাজের সাথে যুক্ত হবেন সেদিন থেকেই এই দিন গণনা করা হবে। যদি একজন ওয়ার্কার দুটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করেন তাহলে তার দিন দুটি আলাদা ভিত্তিতে গণনা করা হবে।

২) এছাড়া ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে যে সমস্ত ওয়ার্কাররা অনলাইন খাবার ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন, তাদের আধার কার্ড ও অন্যান্য নথি দেওয়ার মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন প্রসেস সম্পন্ন করতে হবে।

৩) এগ্রিগেটর অর্থাৎ যে অ্যাপে কাজ করছেন ওয়ার্কাররা, তারাই গিগ ওয়ার্কারদের তথ্য সেন্ট্রাল পোর্টালে আপলোড করে দেবেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি করা হবে প্রত্যেকটি ওয়ার্কারের জন্য ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর।

৪) প্রত্যেক রেজিস্টার্ড ওয়ার্কারদের জন্য আই কার্ড দেওয়া হবে এবং এই আই কার্ড ডিজিটাল এবং ফিজিক্যাল দুই ধরনের হবে। আই কার্ডের মধ্যে প্রত্যেক ওয়ার্কারের নিজস্ব ছবি এবং তথ্য উল্লেখ থাকবে। আই কার্ড ডাউনলোড করা যাবে সেন্ট্রাল পোর্টাল থেকে।

৫) এখানেই শেষ নয়, কেন্দ্রীয় সরকার একজন অফিসারকে নিয়োগ করবেন, যার কাজ থাকবে এগ্রিগেটরদের থেকে কন্ট্রিবিউশন সংগ্রহ করা। এই আর্থিক কালেকশন সোশ্যাল সিকিউরিটি ফান্ডে হিসেব রাখা হবে। যেটি গিগ ওয়ার্কারদের জন্য বরাদ্দ করা হবে।

৬) যখন ওয়ার্কারদের বয়স ৬০ বছর হবে তখন তারা সোশ্যাল সিকিউরিটি স্কিমের অধীনে সুযোগ-সুবিধা পাবেন। কেন্দ্রীয় সরকার গিগ ওয়ার্কার ও প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার দের মধ্যে থেকে পাঁচজন সদস্যকে নির্বাচিত করবেন, যারা রোটেশন ভিত্তিতে বিভিন্ন প্লাটফর্মের ওয়ার্কারদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

এক কথায় বলা যায়, এত বছর ধরে যে সমস্ত গিগ ওয়ার্কাররা জোমটো ও সুইগি বা এরকম খাবার ডেলিভারি প্লাটফর্মে কাজ করে আসছিলেন তাদের একগুচ্ছ সুযোগ সুবিধা দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যার ফলে তারা অন্যান্য বড়সড়ো প্রাইভেট কোম্পানি বা সরকারি চাকরিজীবীর মতনই একাধিক সুবিধা পেতে চলেছে যা তাদের কর্ম জীবনকে আরো উৎসাহিত করবে।

Join Group Join Group