নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যেভাবে বেড়ে চলেছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কিন্তু বাড়ছে। এর জন্য গাড়ি ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের পকেটের চাপ প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। কিন্তু ভুটানে পেট্রোলের দাম অর্ধেক ভারতের তুলনায়। ভুটানের পেট্রোলের দাম কত রয়েছে এই মুহূর্তে? ভারত থেকে বহু গাড়ি ভুটানে যাচ্ছে কেন? এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদনটি মনোযোগসহকারে পড়ে ফেলুন।
লোকজন ভারত থেকে গাড়ি নিয়ে ভুটানে যাচ্ছে সস্তায় পেট্রোল আনতে। আর তার জন্যই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চামুর্চি চেকপোস্টের কাছে দুই কিমি রাস্তা জুড়ে যানজট হয়ে চলেছে বেশ কিছুদিন ধরে। সেই কারণে বানারহাট থেকে চামুর্চি যাওয়ার আন্তর্জাতিক সার্ক রোডের একাংশ যানজট থাকায় রাস্তা বন্ধ থাকছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকটাই অসুবিধা হচ্ছে। শুধু ছোট গাড়ি নয়, অনেক বড় গাড়িও এসে উপস্থিত হচ্ছে চেকপোস্টের কাছে সার্ক রোডের উপর।
যারা গাড়ি নিয়ে চেকপোস্টের কাছে যাচ্ছে, তাদের প্রত্যেকেরই লক্ষ্য একটাই, ভারতের থেকে অর্ধেক দামে ভুটান থেকে পেট্রোল নিয়ে আসা। এর জন্য রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কিন্তু সরকারও জ্বালানি ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভুটানের পুলিশদের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আরোও পড়ুন : SBI ক্লার্ক মেইনস 2025 পরীক্ষার ফলাফল শীঘ্রই প্রকাশিত হতে চলেছে। কোন ওয়েবসাইটে ফলাফল দেখতে পাবেন?
এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গাড়ির যানজটের জন্য এমন পরিস্থিতি হচ্ছে যেখানে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত যেতে পারছে না। আবার অনেকে বেশি টাকা লাভের জন্য ভুটান থেকে অনেক বেশি পরিমাণে পেট্রোল এনে ভারতে দোকানের দোকানে বিক্রি করছে। এর ফলে রাজস্ব অনেকটাই মার খাচ্ছে ভারতের রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকারের।
এই মুহূর্তে ভারতে পেট্রোলের দাম রয়েছে লিটার প্রতি ১০৬ টাকার কাছাকাছি। অন্যদিকে ভুটানি লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম রয়েছে মাত্র ৬৩ টাকা মত। এইজন্যই ভারত থেকে প্রচুর গাড়ি ভুটানে যাচ্ছে শুধুমাত্র পেট্রোল আনার জন্য। একদম ট্যাংকি ফুল করে ভারতে নিয়ে আসছে গাড়ির ড্রাইভাররা। ভারতের সেই পেট্রোল দোকানে দোকানে বিক্রি করছেন তারা ৮৫ টাকা করে। এর ফলে অনেকটাই লাভবান হচ্ছেন ভারতীয় গাড়ির ড্রাইভাররা। আর এই কারণেই মূলত নাগরাকাটা, বানারহাট এলাকার পেট্রোল পাম্পের বিক্রি কমে গিয়েছে। এমনটা জানিচ্ছেন স্থানীয় পাম্প মালিকরা।
বলা যায় যেভাবে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ভারতে বাড়ছে, তাতে গাড়ি চালকদের পকেট ফাঁকা হওয়ার জোগাড়। অন্যদিকে, ভুটানে পেট্রোলের দাম অনেকটাই কম থাকায় ভারতের গাড়ির ড্রাইভাররা বা গাড়ি চালকরা শুধুমাত্র পেট্রোল আনার জন্য ভুটানের পাড়ি দিচ্ছেন। তবে এইভাবে চলতে থাকলে ভারতের পেট্রোল পাম গুলোর অবস্থা খুবই শোচনীয় হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার।