বাংলার কর্মীরা ১০০ দিনের যে কাজ করে থাকে, তার বকেয়া টাকা এখনো পর্যন্ত পাওয়া হয়নি। এদিকে বছর শেষ হতে চলল। ১০০ দিনের বকেয়া টাকা কবে পাবে রাজ্যের কর্মীরা, কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে জানতে চাইলো সংসদীয় কমিটি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক কি জানিয়েছে এ বিষয়ে? প্রতিবেদনের মাধ্যমে সেই সম্পর্কেই জেনে নেওয়া যাক।
মহাত্মা নাম পরিবর্তন করে রাম নামে নতুন প্রকল্প করার পরেই সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছিল গত সোমবার। সরকারের পক্ষ থেকে দীরঞ্জি আইন বাস্তবায়নের কথা বলার পরে বিরোধী পক্ষ গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে না বলে তীব্র সমালোচনা করেন। বৈঠকে একাধিক বিরোধী সংসদের পক্ষ থেকে অভিযোগ আসে যে, এখনো লুকো লুকো শ্রমিকের মনোরেগার মজুরি বাকি পড়ে রয়েছে। সেগুলো না মিটিয়েই সরকার নতুন আইন প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন। এমনই অভিযোগ উঠে আসে। বৈঠকে কমিটির চেয়ারম্যান তত কংগ্রেস সাংসদ সপ্তগিরি উল্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে জানতে চায়, মনোরেগা প্রকল্পে বাংলার যে টাকা বাকি রয়েছে, সেই টাকা কবে পাবে বাংলা শ্রমিকরা? তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক জানায়, বাংলার রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে।
মহাত্মার নাম বদল করে রাম নামে প্রকল্প করার পরে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক বসেছিল সোমবার। সেখানে সরকার আগামী ছয় মাসে নতুন জি রাম জি আইন বাস্তবায়নের রোডম্যাপের কথা বললেও, বিরোধীরা একে ‘গ্রামীণ কর্মসংস্থানের উপর পরিকল্পিত আঘাত’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন বলেই জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে একাধিক বিরোধী সংসদ অভিযোগ করেছেন, এখনও লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের মনরেগার মজুরি বকেয়া রয়েছে, অথচ তার নিষ্পত্তি না করেই সরকার নতুন আইনের প্রচারে ব্যস্ত। সেই সময়েই কমিটির চেয়ারম্যান তথা কংগ্রেস সাংসদ সপ্তগিরি উল্কা বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকদের কাছ থেকে জানতে চান, মনরেগায় বাংলার যে টাকা বকেয়া রয়েছে তা কবে দেওয়া হবে? তাতে আধিকারিকদের পক্ষ থেকে জবাব এড়িয়ে বলা হয়, বাংলার রাজ্য সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, আশা করছি তাড়াতাড়িই সব কিছু মিটে যাবে।
বৈঠকে উপস্থিত থাকার বিরোধী সংসদরা সরাসরি প্রশ্ন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে, তাদের প্রশ্ন এটাই ছিল যে মনোরেগার মতো একটি প্রকল্পে নাম পরিবর্তন করার কারণ কি? অধিকারভিত্তিক আইন তুলে দিয়ে সরকার গ্রামীণ দরিদ্রদের কাজের নিশ্চয়তা বরঞ্চ আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। নতুন আইনি আরো পরিস্থিতি জটিল হতে পারে এমনটি আশঙ্কা করছেন তারা। কারণ মনরেগা প্রকল্প শুধু গ্রামীণ মানুষদের সাধারণ কোনো প্রকল্প নয় এটি একটি অধিকার বলা যায়। নাম বদল করা এবং কাঠামোগত পরিবর্তন আনা গ্রামীণ মানুষের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে। এই প্রকল্পের বাজেট নিয়েও বর্তমানে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র সরকার রাজ্যের উপর সমস্ত দায় ঝেড়ে ফেলে দিয়ে, রাজ্যের উপরই সমস্ত বোঝা যাবে দিতে চাইছে বলেই মনে করছেন বিরোধী দলের সংসদরা।
বিরোধী সংসদদের প্রশ্নের কোনো যথাযথ উত্তর দিতে পারিনি সরকারী আধিকারিকরা। তাই ১০০ দিনের বকেয়া টাকা কবে মিলবে এখনো পর্যন্ত সেই নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে।
