২০২৫ শিক্ষাবর্ষ শেষ হয়েই গেল বলা যায়। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ নিয়ে একাধিক নতুন নিয়ম চালু করল পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দপ্তর। নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যের স্কুলগুলোতে নতুন একাডেমিক ক্যালেন্ডার চালু করা হলো, যেখানে বিভিন্ন নতুন নিয়ম আনা হয়েছে। এই নিয়মগুলো অনুসরণ করতে হবে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শিক্ষক শিক্ষিকাদের। কি কি নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে এবং এই নিয়মগুলো অনুসরণ না করলে কি কি হতে পারে, এ সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়ে ফেলুন।
নতুন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার চালু করার কারণ : –
পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে ২০২৬-এর নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন একাডেমিক ক্যালেন্ডার চালু করার প্রধান কারণ, কিছু নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে এই ক্যালেন্ডারে। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুল ও সরকারের সাহায্যে প্রত্যেকটি স্কুলে এই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে ছাত্রছাত্রী থেকে শিক্ষিকা সবাইকে। স্কুলের পঠন-পাঠন বিষয়ে আরো বিশেষ নজরদারি ও শৃঙ্খলা আনার জন্যই মূলত কিছু নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। স্কুলে উপস্থিতির সময় এবং ছুটির নির্ঘণ্ট থেকে শুরু করে পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও দিনক্ষণ, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সরকারি প্রকল্প, ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নতুন নিয়ম সবকিছুই এই ক্যালেন্ডারের স্পষ্ট করে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।
- ২০২৬ এর শিক্ষাবর্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে প্রবেশ করার নির্ঘণ্ট করে দেওয়া হয়েছে ১০:৩৫ মিনিট এর মধ্যে।
- প্রার্থনা সভা শুরু হবে ১০:৪০ মিনিটে এবং শেষ হবে ১০:৫০ মিনিটে।
- প্রথম ক্লাস শুরু হবে ১০:৫০ মিনিটে।
- স্কুল ছুটি হবে 4:30 মিনিটে।
শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রার্থনা সবার সময় অর্থাৎ ১০:৪০ মিনিটের মধ্যে স্কুলে উপস্থিত থাকতে হবে। ১০:৪০ পর উপস্থিত থাকলে লেট ধরা হবে সেদিনের জন্য এবং ১১ টা পার হয়ে গেলে অফিসে থাকলে সেদিনটা অনুপস্থিত বলে ধরে নেওয়া হবে।
আরোও পড়ুন : বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনা কর্তার হুঁশিয়ারি মন্তব্য, তোলপাড় নেট দুনিয়া!
মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা : – ক্লাস চলাকালীন বা প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস চলাকালীন ল্যাবে কোনো ফোন ব্যবহার করা চলবে না শিক্ষক শিক্ষিকাদের। যদি একান্ত ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ফোন ব্যবহার করতে লাগে তাহলে প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকার অনুমতি নিয়ে সেটা করতে হবে।
ছাত্র ছাত্রীর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম, স্কুলের মধ্যে ফোন বা ল্যাপটপ আনা যাবে না।
প্রাইভেট টিউশনে নিষেধাজ্ঞা : – স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য প্রাইভেট টিউশনি দেওয়া চলবে না।
ইনভিজুলেশন চলাকালীন কোনোরকম পরীক্ষার খাতা দেখা চলবেনা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।
পরীক্ষার দিনক্ষণ : – ২০২৬ এর শিক্ষাবর্ষে যে তিনবার সামেটিভ পরীক্ষা হবে। সেগুলি হল প্রথম পরীক্ষাটি হবে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে, দ্বিতীয় সামেটিভ পরীক্ষা হবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এবং তৃতীয় পরীক্ষা হবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।
ছুটির নির্ঘণ্ট : – ২০২৬ সালের শিক্ষা বর্ষে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৫২ টি রবিবার পড়েছে। ৬৫ দিন ছুটি থাকবে বিভিন্ন উৎসব পার্বণের জন্য। ২৪৮ দিন স্কুল খোলা থাকবে। পরীক্ষা, অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে জন্য ৩০ দিন বাদ দিলে ২১৮ দিন নিয়মিত পঠনপাঠন হবে।
প্রকল্পের নজর দেওয়া: স্কুল শিক্ষিকাদের নজর দিতে হবে স্কুলের প্রত্যেকটি পড়ুয়া সরকারি যে সমস্ত প্রকল্প রয়েছে যেমন মিড ডে মিল, কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রী, সবুজ সাথী এ প্রকল্প গুলোর সঠিক পরিষেবা পাচ্ছে কিনা।
স্কুলের সমস্ত নিয়মকানুন ঠিকমতো বজায় থাকছে কিনা, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্কুল চত্বরের তামাক মুক্ত রাখা ও স্বাস্থ্য সচেতন বিধি মেনে চলার প্রত্যেকটি প্রক্রিয়ায় ঠিক মতো ও নিয়ম মেনে হচ্ছে কিনা সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে হবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে।
অর্থাৎ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম বিধি নিয়ে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে, এই নিয়ম গুলোই ঠিক মতন ভাবে মেনে চলতে হবে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকাকে। স্কুল শুরু আগেই রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে এমনটাই নিয়ম-বিধি মানার জন্য, সুশৃঙ্খল পঠন-পাঠনের উদ্দেশ্যে এই কঠোর নিয়ম বিধি মানার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকারি অধিকৃত স্কুলগুলোকে।