বাংলাদেশের এক প্রাক্তন সেনাকর্তা রাজপথের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কিছু মন্তব্য বা বলা যায় হুঁশিয়ারি বার্তা দিলেন সংবাদ মাধ্যমে। এই হুঁশিয়ারি থেকে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারতে। হঠাৎ করে প্রাক্তন সেনা কর্মী ভারত ভাগ করার জন্য আগ্রাসনি হয়ে উঠল কেন?
দিল্লির অত্যাচার বা আগ্রাসনের মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে বাংলাদেশের জনসমুদ্র পশ্চিমবঙ্গের সাথে মিশে যাবে। এমনটাই হুঁশিয়ারি শোনা গেল বাংলাদেশের এক প্রাক্তন সেনার কর্তার মুখ থেকে। জানা যাচ্ছে, প্রকাশ্য এলাকায় রাজপথে দাঁড়িয়ে এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সংবাদ মাধ্যমে গলা চেঁচিয়ে এমনটাই বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন ভারতবর্ষের উদ্দেশ্যে।
তিনি আরো জানিয়েছেন, বাংলাদেশে যে সরকার আসুক না কেন, তারা যদি দিল্লির সাথে কোনো রকম সম্পর্ক রাখে এবং ভারতের সংস্কৃতি থেকে শুরু করে পণ্য যদি ব্যবহার করে থাকে বাংলাদেশের মানুষজন, তাহলে ভারত ভাগ করার দাবি রাখে। অর্থাৎ ভারতবর্ষের পণ্য, সংস্কৃতি কোনো কিছুই ব্যবহার করা যাবে না এমনটাই জোর দিয়ে বলতে চেয়েছেন তিনি।
জানা যাচ্ছে, এই প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তার নাম লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান। তিনি উচ্চস্বরে এটাও জানান, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ একই জাত, দরকার পড়লে তারা কাঁটাতার ভেদ করে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে যাবেন এবং ভারতকে টুকরো টুকরো করে দেবেন। রীতিমতো এই হুঁশিয়ারি শোনার পরে সংবাদমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে এই ঘটনা। ভাইরাল হওয়া এই ঘটনায় প্রভাব পড়েছে দুই দেশে। দুই দেশের সরকার থেকে শুরু করে জনগণ খুবই উত্তেজিত হয়ে রয়েছে এই ঘটনায়।
আরোও পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গের কৃষি দপ্তরে কর্মী নিয়োগ। কারা আবেদন করতে পারবে?
প্রসঙ্গত, হাসিনুর রহমান ছিলেন বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত প্রাক্তন র্যাব কর্মকর্তা। জানা যাচ্ছে, ২০১৮-২০২০ সালে অর্থাৎ শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি জোরপূর্বক নিখোঁজের শিকার হয়েছিলেন, এমনটাই অভিযোগ করেন। ২০২৪শে জুলাই পর থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে ভারত বিরোধী আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। এরপর হঠাৎ করে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার প্রতিবাদে শাহবাগে দাঁড়িয়ে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করে ভাইরাল হয়ে যান।
তার বক্তব্যের মূল কথা ছিল, ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে শুরু করে পণ্য সবকিছুই বর্জন করতে হবে বাংলাদেশকে। ভারতের সাথে কোনো রকম সম্পর্ক রাখলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হবে। তার এই মন্তব্যে উপস্থিত থাকা জনতারা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।
বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারত বিরোধী মনোভাব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে বাংলাদেশে। তার কারণ শেখ হাসিনার সরকারকে ভারতের হাতে সাজানো পুতুল মনে করতেন বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ।
এরকম বিস্ফোরক মন্তব্য সংবাদমাধ্যমে বলার ফলে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মন্তব্যের মধ্যেই জাতীয়তাবাদী ও রাজনৈতিক উস্কানি রয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তবে নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছে এই মন্তব্য অনেকটাই চিন্তার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এই বিস্ফোরক মন্তব্যকে নিতান্তই হুমকি বলে মনে করলেও, সোশ্যাল মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা চলছে।