বাংলাদেশি রোগী কমে যাওয়া কলকাতার হাসপাতালগুলো ধুঁকছে! হাসপাতালের দেখা যাচ্ছে মন্দাভাব।

কলকাতার চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর অনেকটাই নির্ভর করে থাকে বাংলাদেশের মানুষজন। যেহেতু কলকাতার চিকিৎসার অবস্থা অনেকটাই উন্নত এবং হাসপাতালে সংখ্যা অনেক, তাই বাংলাদেশের অনেকেই কলকাতায় চিকিৎসা করানোর জন্য এসে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কূটনৈতিক ক্রিয়া-কলাপের জন্য বাংলাদেশি রোগী প্রাইমারি বললে চলে কলকাতা বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে। বেসরকারি কিছু হাসপাতালের অবস্থা মাছি তাড়ানোর মতন হয়ে গিয়েছে। প্রত্যেক সপ্তাহে কয়েক হাজার টাকার ব্যাবসা কমে যাচ্ছে। এক কথায় বলা যায়, কলকাতা বেসরকারি কিছু হাসপাতালগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই মন্দা চলছে।

ভিসা কড়া করার কারণে কলকাতায় চিকিৎসা করতে আসতে পারছেন না বাংলাদেশের রোগীরা। শুধুমাত্র হাসপাতাল নয়, হাসপাতালে কাছে থাকা হোটেল গুলোর অবস্থাও একই রকম। কারণ বাংলাদেশ থেকে রোগীরা এসে হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী হোটেলে থাকতেন এবং হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা করাতেন। বাংলাদেশি রোগী না আসার জন্য হাসপাতালে সাথে সাথে হোটেল গুলোর অবস্থা একই রকম হয়েছে।
হাসপাতালের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর টান পড়তেই হাসপাতালে কর্মী ছাটাই শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। কলকাতা নামি দামি বেসরকারি হাসপাতাল যেমন : দিশান, রুবি, নারায়ণা, ফোর্টিস, মেডিকা, পিয়ারলেসের মতন হাসপাতালগুলো থেকে বহু কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। কারণ ব্যাবসা কমে যাওয়ায় কর্মীদের বেতন দেওয়ায় সমস্যা হচ্ছে।

অনেক সময় সরকারি হাসপাতালে যুক্ত থাকা নার্স বা ডাক্তার কয়েক ঘণ্টার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখতে যেতেন। কিন্তু জানা যাচ্ছে, বর্তমানে হাসপাতাল বিশেষ করে বাইপাসের ধারে যে হাসপাতালে রয়েছে সেখানে রোগী দেখার সময় শিডিউল কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোগী কম থাকার জন্য সপ্তাহে তিন দিনের জায়গায় মাত্র একদিন রোগী দেখাতে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে অনেক নার্সদের উইদাউট পেতে লিভ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আরোও পড়ুন : জমির দাগ নং ও খতিয়ান দেখার সহজ উপায় কী? কীভাবে দেখবেন জমির মালিক কে?


বলা যায়, বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর আগের থেকে রোগীর সংখ্যা ৩ ধাপ থেকে এক ভাগে নেমে এসেছে। ইনডোর থেকে আউটডোর, আগে যেখানে ৪৫ থেকে ৪০ শতাংশ ছিল বাংলাদেশের রোগী, সেগুলো এখন ফাঁকা।
বাংলাদেশী রোগীরা হার্টের অসুখ থেকে শুরু করে নিউরোসার্জারি, ক্যানসার, পেডিয়াট্রিক সার্জারি, ইউরোলজিক্যাল সমস্যা থেকে শুরু করে অর্থোপেডিক রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি কিংবা বন্ধ্যত্ব এসব চিকিৎসা নিতে বেশি করে কলকাতায় আসতেন। বিশেষ করে একটু সচ্ছল বা ধনী ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ঢাকা থেকে কলকাতার চিকিৎসার প্রতি বেশি ভরসা রাখতেন। এজন্য বেশি টাকা খরচ হলেও তারা কলকাতাতে চিকিৎসা করাতে আসতেন। কিন্তু পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যাওয়ায় এখন এই সমস্তই ধনী বা সচ্ছল ব্যক্তিরা বিদেশে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর ফলে কলকাতায় প্রতিটি বিশেষ করে হাসপাতালেই গড়ে সাপ্তাহিক ১২ থেকে ২১ লাখ টাকার লসে চলছে।
হাসপাতালের সাথে হাসপাতালে চত্বরে বাইরে ছোট খাবার দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। এক কথা বলা যায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে প্রভাব ফেলেছে। কবে আবার এই পরিস্থিতির স্বাভাবিক হবে, সেই দিনের জন্যই তাকেই রয়েছে রয়েছে বেসরকারি হাসপাতালগুলো।

Join Group Join Group