সালটা ২০২৫ শেষ করে ২০২৬ শুরু হতে চলেছে। এখন আমরা ডিজিটাল যুগে বসবাস করি, যেখানে প্রতিবছর নতুন নতুন সিস্টেম আপডেট হয়। এই ডিজিটাল সময়ে জমিজমা সম্পর্কিত তথ্য এখন পুরোপুরি ডিজিটালাইসড। এখন আর জমির খতিয়ান, দাগ নং, GL নং, মালিকের নাম জানার জন্য RI অফিস, বিডিও অফিস ও BLRO অফিসে গিয়ে লাইন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এখন এই সমস্ত তথ্য পাবেন সম্পূর্ণ অনলাইনে। রাজ্য সরকার সেই ব্যবস্থা সাফল্যের সাথে করেছে। এখন সমস্ত তথ্য ডিজিটালাইসড। এখন বাড়িতে বসেই ফোন থেকে সমস্ত তথ্য পাওয়া যায়। আমাদের মুঠো ফোনের মাধ্যমে এক পলকে সমস্ত তথ্য এসে উপস্থিত হয়। কিন্তু সঠিক নিয়ম জানা থাকলেই সহজে যে কোনো জমির সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। তাই দেখে নিতে হবে কীভাবে সহজে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।

এই তথ্য পাওয়ার জন্য আমাদের ভিজিট করতে হবে রাজ্য সরকারের https://banglarbhumi.gov.in ওয়েবসাইটে। রাজ্যের ভূমি রাজস্ব দপ্তরের সমস্ত তথ্য এই পোর্টালে আছে। এই পোর্টালে লগ ইন করলেই সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন। এই পোর্টালে প্রতিটি নাগরিকের তাদের জেলা, ব্লক, গ্রাম, পঞ্চায়েত ও মৌজার তথ্য দিয়ে নিজের জমির সম্পর্কে জানতে পারবেন। এই পোর্টাল থেকে অতি সহজেই সব জানা যায়।
খতিয়ান দেখার পদ্ধতি : –
প্রথমে ঐ সাইটে যেতে হবে। তারপর সেখানে নিজের ফোন নং দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। তারপর সেখানে “Citizen service” অপশনে ক্লিক করতে হবে। তারপর সেখানে “Know your property” অপশন ক্লিক করতে হবে। তারপর সেখানে আপনার জেলার নাম, ব্লকের নাম ও মৌজার নাম দিতে হবে। তারপর সেখানে খতিয়ান নং বা দাগ নং দিয়ে সার্চ করলেই ঐ জমির পরিমাণ, মালিকের নাম, মালিকের বাবার নাম সও সমস্ত তথ্য বেরিয়ে আসবে। তারপর আপনি সেই তথ্য ডাউনলোড করে প্রিন্ট আউট করে নিতে পারবেন। এই কাজ আপনি বাড়িতে বসে নিজের মোবাইল ফোন থেকেই করতে পারবেন, কিংবা আপনার নিকটবর্তী “বাংলা সহায়তা কেন্দ্র” কিংবা “কমন সার্ভিস পয়েন্ট” থেকে করতে পারবেন। এমনকি, আপনার কাছাকাছি যে কোনো সাইবার কাফেতে গিয়ে করতে পারবেন।
আরোও পড়ুন : ২০২৬ থেকে বদলে যাচ্ছে রেশন, কোন কোন কার্ডে চাল কমছে, গমের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। দেখে নিন তালিকা!
জমির খতিয়ান কি কাজে লাগবে –
জমিসংক্রান্ত যে কোনো সমস্যা মেটাতে কাজে লাগবে। জমি-বাড়ি ক্রয়- বিক্রয় করতে কাজে লাগে, জমির পরিমাণের ভিত্তিতে ব্যাংক কিংবা সমবায় সমিতি থেকে ঋণ নিতে প্রয়োজন। কেন্দ্র সরকারের “কিষান সম্মান নিধি” প্রকল্পের সুবিধা নিতে এই খতিয়ান কাজে লাগে। এমনকি, রাজ্য সরকারের “কৃষক বন্ধু” প্রকল্পের সুবিধা নিতেও এই তথ্য কাজে লাগে। তাছাড়া, বাড়ি নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ, ব্যাবসার কাজে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন করা ও জমি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই তথ্য অবশ্যই প্রয়োজন।