বাংলার কৃষিজীবী মানুষ বাংলার অহংকার। তারা সারাবছর রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, ঠান্ডায় কেঁপে ফসল ফলিয়ে আমাদের মুখে খাদ্য তুলে দেয়। দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে, রাজ্যে পালা বদলের পর, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কৃষকদের স্বার্থে একাধিক জনমুখী প্রকল্পের উদ্বোধন করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ার স্বপ্নের প্রকল্প “কৃষকবন্ধু” ও ” বাংলা শস্য বীমা যোজনা” এর দ্বারা উপকৃত হচ্ছেন চাষি ভাইয়েরা।
বাংলা শস্য বীমা যোজনা রাজ্যের কৃষিজীবী মানুষের জন্য একটি আশীর্বাদ। কৃষকদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো ফসলকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে রাজ্য সরকার এই প্রকল্প নিয়ে আসে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টি সও বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ফলসের ক্ষতি হলে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতিপূরণ পান।
২০২৫-২৬ সালের শীতকালীন রবি মৌসুমের বাংলা শস্য বীমা যোজনা আবেদনের উদ্যোগ শুরু করল নবান্ন। এবার এই বীমার বরাত দেওয়া হয়েছে SBI জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে। কীভাবে আবেদন করবেন, দেখেন নিন সমস্ত তথ্য।
এই বীমা প্রকল্পের আওতাভুক্ত ফসল সমূহ –
এরাজ্যে শীতকালে যে সমস্ত ফসলের চাষ হয়, সেই সকল ফসলকে এই বীমার অধীনে আনা হয়েছে। চাষিদের চাষ করা কোন কোন ফসল অন্তর্ভুক্ত হলে এবার দেখে নেওয়া যাক-
১) আলু
২) বোরো ধান।
৩) গম, সরষে, ছোলা, খেসারি, মুসুর ডাল,
৪) মুগ, তিল, বাদাম, আখ
৫) ভুট্টা।
আরোও পড়ুন : ৫ বছর থেকে ১৫ বছর শিশুদের জন্য বায়োমেট্রিক একদম বিনামূল্যে, UIDAI তরফে নতুন নির্দেশ, কতদিন রয়েছে সময়।
আবেদন করার নিয়ম : –
বাংলার শস্য বীমা যোজনা আবেদন এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ অফলাইনে হয়। অফলাইনে ফর্ম তুলে সেটি সুন্দর ও সঠিকভাবে পূরণ করে ADO অফিসে জমা দিতে হয়। ফর্ম ভুলভাবে পূরণ করলে সেটি বাতিল হতে পারে। ফর্ম পূরণের সময় কৃষকের নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ ও জমির পরিমাণ লেখা আবশ্যিক। সেই সঙ্গে কৃষকের কিশান, ক্রেডিট কার্ড ও “কৃষক বন্ধু” প্রকল্পের আইডি দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সেই সঙ্গে জমির সঠিক তথ্য দিতে হবে। চাষ জমির GL নং, দাগ নং ও জমির পরিমাণ একর এককে উল্লেখ করতে হবে। তার সাথেই ফসল রোপণের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করতে হবে। এছাড়াও, কৃষকের ব্যাংকের সমস্ত তথ্য যেমন : – অ্যাকাউন্ট নং ও IFSC কোড দিতে হবে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি : –
১) কৃষকের আধার কার্ড।
২) ভোটার কার্ড
৩) জমির খতিয়ান।
৪) ব্যাংকের পাশবুকের প্রথম পেজ।
৫) মোবাইল নং।
আবেদনের তারিখ : – এই প্রকল্পের জন্য আবেদন দ্রুত শুরু হবে। খুব সম্ভবত নতুন বছরের প্রথমেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। আবেদনের শুরু ও শেষ দিন জানিয়ে দেওয়া হবে কৃষি দপ্তরের তরফে।
ফর্ম জমা করার নিয়ম : – মনে রাখবেন বাংলা শস্য বীমা যোজনার ফরম ফিলাপ অনলাইনে হয়নি। অফলাইনে ফর্ম ফিলাপ করতে হয় এবং সরকারি আধিকারিকদের শীল দেওয়া রিসিপ্ট কপি রেখে দিতে হয়।
এই প্রকল্পের সুবিধা : –
১) কৃষকদের এই বীমার জন্য কোনো টাকা দিতে হয় না।
২) রাজ্য সরকার নিজের টাকায় এই বিমা করে। আর কৃষকরা তার সম্পূর্ণ সুবিধা পান।
৩) প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের করে রিপোর্টার ভিত্তিতে বিমার সুবিধা পান।
৪) ক্ষতিপূরণের ঘোষণা হলে কৃষকদের ঋণের পরিমাণের ভিত্তিতে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা জমা করা হয়।
এই প্রকল্প দুর্দিনে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলে। এই প্রকল্প বাংলার কৃষকদের কাছে স্বস্তি ও ভরসা।