SIR IN BANGLA: বাংলাদেশের পাসপোর্ট অথচ আরজিকর হাসপাতালের বার্থ সার্টিফিকেট, নাগরিকত্বের প্রশ্ন উঠতেই সিবিআই তদন্ত।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী বাংলার ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। খসড়া তালিকায় যে সমস্ত ব্যক্তিদের নাম নেই বা যাদের নামে কোনরকম ভুল রয়েছে তাদেরকে ডাকা হবে শুনানিতে। এজন্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর রয়েছে, প্রতিটি ফর্ম কমিশনের নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হবে, যেখানে ভোটারের দেওয়া সমস্ত তথ্য খুঁটিনাটি ভালো করে যাচাই করা হবে তারপরেই শুনানির জন্য ডাকা হবে।

রাজ্যের প্রায় ৮১ হাজার বুথের বিএলওদের অ্যাপে খসড়া তালিকা আপলোড হবে, শুধু তাই নয় এর পাশাপাশি ছাপার অক্ষরে তালিকা বুথে বুথে পৌঁছে যাবে। জানা যাচ্ছে, প্রায় ৫৯ লক্ষ ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর পাশাপাশি ১ কোটি ৯০ লক্ষ ভোটারের কাছে নোটিশ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। যাদের ফর্মে দেওয়া তথ্যে কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গিয়েছে তাদেরকে শুনানির জন্য ডাকা হবে। (SIR IN BANGLA)

নির্বাচন কমিশনের সূত্রের খবর ২৩ ডিসেম্বর থেকে শুনানির জন্য ডাকা হবে অর্থাৎ হিয়ারিং শুরু হবে এসআইআর এর। যে সমস্ত ব্যক্তিদের নাম খসড়া তালিকায় নেই তাদেরকে ভারতীয় ভোটার হিসাবে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। একজন ভারতীয় ভোটারের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য মোট 11 টি নথি গ্রহণযোগ্য হবে। এই ১১ টি নথি হল:-

১) রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগী হিসেবে পরিচয়পত্র।
২) ১৯৮৭ সালের আগে পোস্ট অফিস, ব্যাংক, এলআইসি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নথি
৩) জন্ম শংসাপত্র
৪) পাসপোর্ট
৫)মাধ্যমিক বা অন্য যে কোনও শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র
৬) রাজ্য সরকারের অধীন কোনও সংস্থার দেওয়া আবাসিক শংসাপত্র
৭) ফরেস্ট রাইটসের শংসাপত্র
৮) জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট
৯) ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (NRC) — শুধুমাত্র আসামের ক্ষেত্রে
১০) স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা পারিবারিক রেজিস্টার
১১) সরকারের দেওয়া জমি লিজ বা বাড়ি লিজ সংক্রান্ত শংসাপত্র

আরোও পড়ুনঃ- পৌষের আগে শীত উধাও, হঠাৎ শীতের প্রকোপ কমলো কেন? জাঁকিয়ে ঠান্ডা আবার কবে থেকে?

যখন নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ঠিক এই আবহে বাংলাদেশের স্বামীর নাগরিকত্ব নিয়ে সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করলেন এপার বাংলার একজন স্ত্রী। জানা যাচ্ছে, ২০১৩ সালে ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন ওই ব্যক্তি। তিনি থাকতেন বাংলাদেশ। কিন্তু তার স্ত্রী ছিলেন ভারতীয়। কোর্টে পেশ করা হয়েছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট। ছয় মাসের ভিসা নিয়ে তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন। এদিকে সেই ব্যক্তির বার্থ সার্টিফিকেট রয়েছে কলকাতার আরজিকর হাসপাতালের। বার্থ সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার জন্ম ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে। তাদের বিয়ের বয়স হয়েছে ১১ বছর। এটাও জানা যাচ্ছে ২০২২ সালে ভারতীয় নাগরিক হতে চাওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন কিন্তু এখনো পর্যন্ত জোটেনি নাগরিকত্ব। স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভ্রান্ত এই মুহূর্তে কোচবিহারের বাসিন্দা চঞ্চলকান্তি রায়। (SIR IN BANGLA)

অন্যদিকে, কোন ব্যক্তি যদি ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য জাল নথি পেশ করে তাহলে সেটা প্রমাণিত হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৩৩৭ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৭ বছর জেল এবং জরিমানা হতে পারে।

২৩শে ডিসেম্বর থেকে শুনানি বা এসআইআর হিয়ারিং শুরু হবে। আগে জানা গেছিল ৫০ টি শুনানি হবে কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে প্রয়োজনে ১০০ টির বেশি শুনানি হতে পারে।
সম্প্রতি এখন এসআইআর নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল। বিশেষ করে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরে যাদের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় ওঠেনি, অথচ যোগ্য নাগরিকত্ব রয়েছে তাদের মনে চিন্তা দেখা দিয়েছে। কবে ভোটার তালিকায় নাম উঠবে সেই নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। এদিকে নির্বাচন নির্ঘণ্ট কবে প্রকাশিত হবে সেই নিয়েও উত্তাল রয়েছে রাজ্য-রাজনীতি। তবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ২০২৬ এর ভোটার তালিকা প্রকাশিত করে নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। (SIR IN BANGLA)

Join Group Join Group