মুখ্যমন্ত্রী পরিচালিত লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে বড়সড়ো নির্দেশ হাইকোর্টের! সম্পূর্ণ বিস্তারিত জানুন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালিত যে কটি প্রকল্প বাংলায় চালু রয়েছে তার মধ্যে সাড়া জাগানো প্রকল্প হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। তবে এই প্রকল্পের জন্য বড়সড় নির্দেশ আসলো হাইকোর্টের থেকে। বাংলার মা, বোনদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্যই মূলত এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হঠাৎ সেই প্রকল্প নিয়ে হাইকোর্ট কি নির্দেশ দিল জেনে নেওয়া যাক।

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প এমন একটি প্রকল্প যেটি বিগত কয়েক বছরে একটি জনপ্রিয় প্রকল্পে পরিগণিত হয়েছে। বাংলার আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলাদের প্রত্যেক মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ব্যাংক একাউন্টে দেওয়া হয়। যার মাধ্যমে মহিলাদের আর্থিক নির্ভরতার একটা জায়গা তৈরি হয়েছে। অনেকেই এই টাকা জমিয়ে ছোট ব্যবসা দিয়েছেন, যার ফলে আত্মনির্ভরশীল হতে পেরেছেন। অনেক মহিলা এই টাকা সংসারে দিয়েছেন, যার ফলে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরেছেন। বলা যায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্য ছিল এবং সেই লক্ষ্য সাফল্য পেয়েছে। আর এর জন্যই লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অনুদানের পরিমাণ যদিও প্রথমদিকে অনেকটাই কম ছিল তবে বর্তমানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে জেনারেল ক্যাটাগরির মহিলারা মাসিক ১০০০ টাকা অনুদান পেয়ে থাকেন এবং তপশিলি ক্যাটেগরির মহিলারা মাসিক ১৫০০ টাকা করে অনুদান পেয়ে থাকেন। লোকসভা নির্বাচনের আগে অনুদানের পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো হয়েছিল এবং তাই অনেকেই মনে করছেন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অনুদান আবারও বাড়ানো হতে পারে। তবে এইবার সেই বিষয়ে নিয়ে কথা বলার নয় বরং অভিযোগ উঠছে অন্য। অভিযোগ উঠছে কয়েক মাস ধরে অনেক উপভোক্তা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের অনুদান থেকে বিরত রয়েছেন। তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা ঢুকছেনা। বিগত ছয় মাস ধরে ৭ হাজারের বেশি উপভোক্তা লক্ষীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন না বলেই অভিযোগ উঠেছে। এইবার সেই বিষয় নিয়েই হাইকোর্টে উঠল মামলা। মামলার রায় কি জানানো হাইকোর্ট?

আরোও পড়ুনঃ আধার কার্ড নিয়ে নতুন নিয়ম চালু করল কেন্দ্র! কেন্দ্রের নতুন অ্যাপে আধার কার্ডের সমস্ত কার্যকলাপ।

প্রসঙ্গত, মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভার অন্তর্গত বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মহিলারা বিগত ছয় মাস ধরে লক্ষীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছিলেন তাদের পঞ্চায়েত সমিতির কাছে। লক্ষীর ভান্ডারের টাকা না ঢোকার প্রাপকের সংখ্যা প্রায় ৭২০০ জন। তাদের অভিযোগ ছিল অনেকেই বিজেপি সদস্য হওয়ার জন্যই সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং এই অভিযোগ নিয়ে একাধিকবার জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ পত্র জমা দিল কোন সুরাহা মেলেনি। এরপর পঞ্চায়েত সমিতির ১ সদস্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

হাইকোর্টের রায়: লক্ষীর ভান্ডার নিয়ে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন সুনিতা মন্ডল সাহু। তার অভিযোগ ছিল মেদিনীপুরের বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত ও গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত যেহেতু বিজেপি অধ্যুষিত এলাকা তার জন্যই সেখানকার কোন মহিলা এই প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন না। এই মামলা হয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের এজলাসে। মামলার রায় অনুযায়ী হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সরকারি প্রকল্পের টাকা প্রত্যেক উপভোক্তার পাওয়ার রাইট রয়েছে। তাই কোন উপভোক্তার টাকা বন্ধ করা যাবে না।

হাইকোর্টের এই রায় মামলাকারীদের অনেকটাই মুখে হাসি ফুটিয়েছে। ছয় মাসের বকেয়া টাকা তারা পেয়ে যাবেন এবং এখন থেকে প্রত্যেক মাসে নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া চালু থাকবে বলে জানা যাচ্ছে।
বিরোধী দল থেকে মনে করা হয় লক্ষী ভান্ডার হল ভোট জেতার একটি হাতিয়ার তৃণমূলের কাছে। সেদিক থেকে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই দল বেছে এরকম লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রাপকদের অনুদান না দেওয়ার ঘটনা মহিলাদের অনেকটাই ক্ষুব্ধ করেছিল। তবে আদালতের রায় মামলাকারীদের দিকেই থাকায় অনেকটাই আশা ভরসা ফিরে পেয়েছেন মেদিনীপুরের বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত ও গোজিনা গ্রামের লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের উপভোক্তারা।

Join Group Join Group